প্রশ্ন সমূহ
আর্টিকেল
মায়া ফার্মেসী

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


প্রিয় গ্রাহক,

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

গ্রাহক, আপনার মুখে যে ঘাটি হয়েছে,এই ঘা কে এপথাস বলে। এটি মুখের ভেতরে সবখানে হতে পারে। মুখে এপথাসই সবচেয়ে বেশি হয়।এর কারণ অজানা। কোন ইনফেকশনের জন্যে হয় না। তাই আপনি একে আগেই ধরতে পারবেন না। এরা সাধারণত আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষের কোন কারণ ছাড়াই হয়।
এর সঠিক কোন কারণ নেই কিন্তু কিছু ফ্যাক্টর বা রোগ এর জন্যে দায়ী। যেমনঃ
০১. আঘাতঃ কৃত্তিম দাঁতের পাটি ঠিক ভাবে ফিট না হলে , অসমান টুথব্রাশের আঘাতে হতে পারে।
০২. হরমোনের লেভেলের পরিবর্তনঃ কারো কারো পিরিয়ড হওয়ার আগে হয়। কারো কারো মেনপজের পরে হতে পারে।
০৩. কিছু কিছু মানুষের সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়ার পর হতে পারে।
০৪. আয়রন, ভিটামিন বি-১২ ০ ফলিক এসিড এর অভাবেও হতে পারে।
০৫. কখনো কখনো কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও হতে পারে। যেমন- অরাল নিকোটিন থেরাপি, নিকোরানডিল, এন্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ ইত্যাদি। এলারজির কারণেও হতে পারে।
০৬. মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতার জন্যে হতে পারে। বংশগত কারণেও হতে পারে।
০৭. ক্রন’স ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ, এইচ আই ভি ইনফেকশনে আক্রান্ত মানুষের মুখের ঘা হতে পারে। কিন্তু এটি এপথাস টাইপ নাও হতে পারে।
এপথাসের পাশাপাশি অন্য সমস্যা থাকলে ডাক্তার কে বলুন। যেমন – চর্ম ও যৌন রোগ, বাতের ব্যথা, কোন ইনফেকশন। যদি মুখের অন্য কোন ঘা বলে সন্দেহ হয় তবে ব্লাড টেস্ট বা অন্যান্য ইনভেস্টিগেশন করান।
চিকিৎসাঃ
এর কোন ওষুধের প্রয়োজন নেই। সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ব্যথা বেশি হলে বা তাড়াতাড়ি ঘা শুকাতে ওষুধ ব্যবহার করা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করতে হবে ।
এপথাস আলসার হলে মেনে চলতে হবে এমন কিছু নিয়মাবলীঃ
- মশলাদার খাবার, অম্ল জাতীয় পানি, খুব লবণাক্ত খাবার যেমন ক্রিস্প এড়িয়ে চলতে হবে। এরা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।
- পানীয় পান করা কালে স্ট্র ব্যবহার করতে হবে। যাতে মুখের সামনের অংশের ক্ষতে না লাগে। গরম পানীয় স্ট্র দিয়ে পান না করাই ভালো, এতে গলা জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। দাঁত ফিটিং ঠিক না হয়ে থাকে ডেন্টিস্ট দেখাতে হবে। কোন ওষুধের প্রভাবে হচ্ছে মনে হলে তা পাল্টাতে হবে। 

গ্রাহক ,আপনার বয়স কত ? কতদিন ধরে আপনার এই সমস্যা হচ্ছে ? আপনার গায়ে জ্বর আছে  ?  আপনার কি টনসিলাইটিসের সমস্যা আছে ?
টনসিলের ব্যথায় অনেকে আক্রান্ত হন। সাধারনত টনসিলাইটিস বা টনসিলের প্রদাহের কারণেই এ ব্যথা হয়ে থাকে।
টনসিলাইটিস হলে সাধারণত সবচেয়ে প্রথম লক্ষণ হিসেবে জ্বর দেখা দেয়, গলা ব্যাথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, মাথা ব্যাথা, কাশি ও ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া।অনেকের ক্ষেত্রে টনসিল ফুলে গিয়ে লালও হয়ে যেতে পারে।
বার বার এ রকম প্রদাহ হলে চিকিৎসকরা অনেক সময় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন ।আজকাল অনেক ধরনের ঔষধই পাওয়া যায় টনসিলাইটিস প্রতিরোধে। চিকিৎসকের পরামর্শে আপনি সেগুলো খেতে পারেন ।তবে সেই সাথে কিছু ঘরোয়া উপায়ও রয়েছে যা কার্যকরীভাবে টনসিলের সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে।
টনসিলাইটিস প্রতিকারের কিছু উত্তম উপায় হলো:
#ঠান্ডা পানীয় এবং খাবার পরিহার করুন 
# কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। হালকা গরম লবন-পানি দিয়ে গড়গড়া করা করলে টনসিলের ব্যথা কমবে 
# মধু: টনসিলাইটিসের সমস্যা সমাধানে মধুর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি উপকারি। খুব কম সময়ে টনসিলের সমস্যা সমাধানে সাহায্য পেতেহ দিনে কয়েকবার করে ২ টেবিল চামচ মধু খান।
# আদা: টনসিলাইটিসের সমস্যার কার্যকরী সমাধান পেতে আদা হচ্ছে একটু পুরনো ঘরোয়া উপাদান। প্রতিদিন ৪-৫ বার আদা চা খেতে পারেন দ্রুত আরোগ্য পেতে।
# লেবু: টনসিলাইটিসের থেকে আরোগ্য পেতে লেবু হচ্ছে একটি চমকপ্রদ ঘরোয়া উপকরণ। কুসুম গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে দিনে বেশ কয়েকবার পান করুন। এটি টনসিলের ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করবে।
# পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতা হচ্ছে আরো একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া উপকরণ টনসিলের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে। দিনে ৩ বার পুদিনা পাতা দিয়ে চা তৈরি করে খেতে পারেন টনসিলাইটিসের সমস্যা দূর করতে। যতদিন পর্যন্ত সমস্যা থাকে ততদিন পর্যন্ত এটি খেতে থাকুন।
# হলুদ : হলুদের মধ্যে রয়েছে অনেক গুণ। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিসেপটিক উপাদান টনসিলের ব্যথা সহজে দূর করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া মেশান। এ পানীয় দিয়ে গারগেল করলে টনসিলের ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।এই হলুদ মিশ্রিত পানি খেতে ও পারেন। ভালো ফল পেতে দিনে বেশ কয়েকবার খেতে পারেন এটি।
#  এ ছাড়া এ সময়ে তরল খাবার বেশি করে খান এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। পাশাপাশি গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়ে খেতে পারেন।
# দারুচিনি : দারুচিনির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমায়োবিয়াল উপাদান। এটি টনসিলের ব্যথা দ্রুত রোধে কার্যকর। এটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ দূর করে। সামান্য দারুচিনির গুঁড়া ও এক চা চামচ মধু এক গ্লাস গরম পানিতে মেশান। টনসিলে ব্যথার সময় এটি খেতে পারেন।
এসব ঘরোয়া উপাদানের মাধ্যমে যদি সমস্যা না কমে তবে ,দেরি না করে অবশ্যই একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।

আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,

রয়েছে পাশে সবসময়,

মায়া আপা ।



প্রশ্ন করুন আপনিও