প্রিয় গ্রাহক আপনাকে ধন্যবাদ। আমি কি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি? আপনার বয়স কত? আপনি ছেলে না মেয়ে? আপনার ওজন কত? আজকাল বেশিরভাগ মানুষই জয়েন্টের ব্যথায় ভুগে। আগে বয়স্করা শুধু এ সমস্যায় ভুগলেও এখন অনেকে অল্প বয়সেই জয়েন্টের ব্যথায় কষ্ট পায়। এর জন্য আমরা ভিটামিন ওষুধ খেলেও বেশিরভাগ সময়ই তা কাজে দেয় না। তাই জয়েন্টের ব্যথা থেকে বাচঁতে দরকার সচেতনতা ও ব্যায়াম। কি করতে পারি ★ ডায়েটিং করার নামে খাওয়া দাওয়া একেবারে ছেড়ে না দেওয়া। প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত পানি পান করা যাতে অন্তত কিডনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে। নিয়মিত ব্যয়াম । ★ বেশি তেল-মশলা যুক্ত এবং বেশি প্রোটিন যুক্ত খাবার পরিহার করা। ★ ওজন কমানোর জন্য বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘমেয়াদি উপোস থাকা উচিত নয়। ★ প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া দরকার প্রতিদিন। অবশ্য যারা হার্ট কিংবা কিডনির রোগে ভুগছেন তাদের জন্য এ পরামর্শ নয়। ★ খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। যে সব খাদ্য শরীরে মেদ বা ওজন বাড়ায়, তা একেবারেই বর্জন করতে হবে। ★ রেড মিট মানে অতি লাল মাংস, শুকনো সিম, মটরশুটি, কচু, লাল পুঁইশাক এবং সি-ফুড পরিহার করা উচিত। ★ একেবারে ২৪ ঘণ্টা শুয়ে-বসে থাকলে চলবে না। পরিমিত ব্যায়াম করতে হবে। টানা বসে না থাকাঃ আমরা অনেক সময় টানা বসে থাকি। দীর্ঘক্ষণ টানা বসে থাকলে জয়েন্টের ব্যথাসহ নানা সমস্যার তৈরি হয়। তাই আমাদের দীর্ঘসময় বসে না থেকে ঘন্টায় কমপক্ষে একবার উঠে হাঁটাহাটিঁ করা উচিত। যত বেশি হাত-পা ও পুরো শরীর নাড়াবেন ততই সুস্থ থাকবেন। সঠিক ব্যায়ামঃ সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা জয়েন্টের ব্যথা কমাতে পারি। অনেকে না বুঝে ব্যায়াম করে যা উল্টো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হাটাঁ ও সাতাঁর এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। এছাড়া সাইকেলও চালাতে পারেন। ওজন ঠিক রাখাঃ অতিরিক্ত ওজনের কারণে আমরা বেশিরভাগ সময়ে জয়েন্টের ব্যথা ভুগি। অতিরিক্ত ওজন আমাদের হাটুতে চাপ ফেলে। যার কারণে হাটুর জয়েন্টে ব্যাথা হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলা উচিত। সঠিকভাবে বসাঃ সঠিকভাবে না বসলে জয়েন্টের ব্যথা হওয়া খুব স্বাভাবিক। হেলান দিকে বা বাঁকা হয়ে না বসে চেয়ারে সোজা হয়ে বসা উচিত। এছাড়া কম্পউটারের দিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকে বসাও ঠিক না। ঠিকভাবে না বসলে মেরুদণ্ডে সমস্যা হতে পারে। এক পায়ে দাঁড়ানোঃ দিনে কমপক্ষে দুই মিনিট এক পায়ে দাঁড়ানো অভ্যাস করুন। এক পায়ে দাঁড়িয়ে শরীরে ভারসাম্য ঠিক রাখার চেষ্টা করবেন। এ সময় অবশ্যই চোখ খোলা রাখবেন। প্রথমদিকে দেয়ালে ধরে অভ্যাস করতে পারেন। খাবারে সচেতনতাঃ খাবারের দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। সবুজ শাকসবজি, শুকনো ফল, মটরশুটি, বিভিন্ন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া দরকার। এগুলো শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে। জয়েন্টের ব্যথা সারানোর ঘরোয়া উপায়ঃ হলুদঃ হলুদের কারকিউমিন এ অ্যান্টিওক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান আছে যা অস্থিসন্ধির ব্যথায় চমৎকার কাজ করে। এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে এক চামুচ হলুদ গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে খান যতদিন না ব্যথা ভালো হয়। গাজরঃ চীন দেশে বহুদিন যাবত জয়েন্ট এর বেথায় গাজর ব্যবহার করা হয়। একটা গাজর ছোট করে কেটে নিন, এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। গাজর লিগামেন্ট-এর উপর কাজ করে ব্যথা কমায়। টিপসঃ -অতিরিক্ত ওজন বহন করবেন না -শরীর নাড়াচাড়া করুন -দেহের ভঙ্গি ঠিক করুন। অনেক সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে বা শুলে ব্যথা হতে পারে -বেশি ওজনের কিছু বহন করার ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে বহন করুন -শরীরের কথা শুনুন। ব্যথা অনুভব করলে অবহেলা করবেন না। -বিশ্রাম নিন -একই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না -আস্তে আস্তে শুরু করুন ব্যায়াম -সাহায্য নিন -ভারি কিছু উঠাতে দুই হাত বেবহার করুন -ব্যথা হলে তেল দিয়ে জয়েন্টে ম্যাসাজ করুন -বেশি করে পানি খান -পেঁয়াজের সালফার ব্যথা উপশম করতে পারে। বেশি করে পেঁয়াজ খান -গরম ও ঠাণ্ডা পানির ভাপ নিতে পারেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে , মায়া আপাকে জানাবেন। রয়েছি পাশে সবসময়, মায়া আপা।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও