এবারের ডেঙ্গু জ্বরের সাথে আগের কোনবারের মিল নেই। নতুন কোন শক্তিশালী স্ট্রেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ছড়ানো এই অসুখ এবার ঢাকায় রীতিমতো মহামারি আকার ধারণ করেছে। এবারের ডেঙ্গুতে তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি, র‌্যাশ দেখা যায়না, রক্তক্ষরণও হয়না। হাড়ে বা শরীরের সংযোগস্থলে ব্যথাও হয়না।ফলে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত।তাই গুরুত্ব দেন না।জ্বর চলে যাওয়ার পরে প্লাটিলেট ভেঙ্গে ব্লাডপ্রেসার কমে কলাপস করে। জ্বরের সাথে বমি ও লুজ মোশনও ডেঙ্গুর লক্ষণ।ফলে এবার মৃত্যুর হার বেশি।এবারের ডেঙ্গু হেমোরেজিক নয়, শকড সিনড্রম ।তাই পরামর্শ অল্প বা বেশি যেকেনো মাত্রার জ্বর হলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অপেক্ষা করা চলবে না।1.জরুরি বিষয়, জ্বর আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে CBC(Complete Blood Count) এবং Dengue NS1 antigen test করবেন। উল্লেখ্য যে, Dengue NS1 Antigen সাধারণত জ্বরের প্রথম তিনদিন পর্যন্ত পজিটিভ রেজাল্ট শো করে। এরপরে করালে এই টেস্ট নেগেটিভ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, এবারের জ্বর কোন হেলাফেলার ব্যাপার নয়। শুরুতেই ডেঙ্গু এক্সক্লুড করাটা তাই গুরুত্বপূর্ণ।2.Dengue NS1 test নেগেটিভ অথবা CBC রিপোর্টে স্বাভাবিক প্লেটলেট (১,৫০,০০০-৩,০০০০০) হলেই কিন্তু ডেঙ্গুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। 3.Dengue NS1 negative হলে অথবা প্রথম তিনদিনের ভেতর করানো না গেলে, জ্বরের ষষ্ঠ দিন পেরোনোর পর কনফার্মেটরি টেস্ট হিসেবে Anti-Dengue Antibody (IgM, IgG) test করাতে হবে।4.ডেঙ্গু জ্বরের পঞ্চম-ষষ্ঠ দিনে জ্বরের মাত্রা কমে যায়, কিন্তু এই সময়টায় complication develop করে সবচেয়ে বেশি। দ্রুতহারে প্লেটলেট কমে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি অথবা মলমূত্রের সাথে রক্তক্ষরণ, রক্তনালী থেকে অতিরিক্ত প্লাজমা (রক্তের তরল অংশ) ক্ষরণ হয়ে দেহের অভ্যন্তরীন ফাঁকা অংশে ( ফুসফুসের পর্দার মাঝামাঝি/ পেটে) জমে যাওয়া- এগুলো ডেঙ্গু জ্বরের complication.চিকিৎসা :1.ডেঙ্গু জ্বরের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই।2.জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনরকম পেইন কিলার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।3.হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী, যারা নিয়মিত aspirin/clopidogrel জাতীয় ওষুধ খান, ডেঙ্গু জ্বরের সময়ে তা বন্ধ রাখতে হবে। 4.একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট। প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। তবে বাজারের/খোলা জায়গার জ্যুস/পানীয় এড়িয়ে চলবেন, ডেঙ্গু থাকা অবস্থায় Loose motion হলে তা জটিলতা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।5. স্বাভাবিক মাত্রায় প্রস্রাব হচ্ছে কিনা, তার হিসাব রাখতে হবে। 6.তিনবেলা ব্লাড প্রেশার মনিটর করা অতি মাত্রায় জরুরি।সতর্কতা: যেহেতু এটি একটি মশাবাহিত রোগ, তাই মশার বংশ বৃদ্ধিরোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এই মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে বংশ বৃদ্ধি করে।1.ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা ও এ-জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে, এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে, যেন পানি জমতে না পারে।2.গোসলখানায় বালতি, ড্রাম, প্লাস্টিক ও সিমেন্টের ট্যাঙ্ক কিংবা মাটির গর্তে চার-পাঁচ দিনের বেশি কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।3.ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজের নিচে ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে।4.মশা মারার ওষুধ দিয়ে মশা নিধন করা। দিনের বেলায় এডিস মশা কামড়ায় বলে দিনের বেলায়ও মশারির নিচে ঘুমান।5.বাচ্চাদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট পরানো।6.আক্রান্ত রোগীকে পৃথক বিছানায় মশারির ভেতর রাখতে হবে।7.ঘরের দরজা, জানালায় ও ভেন্টিলেটরে মশানিরোধক জাল ব্যবহার করুন।

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn


প্রশ্ন করুন আপনিও