আমার কি যেনো একটা হয়েছে ! দুইদিন যাবত অল্পতেই খুব রাগ উঠে যায় !! আর রাগ টা এত্তো পরিমানে যে আমি নিজেকে control করতই পারছি না !  মনের ভিতর দিয়ে একটা ঝড় যাচ্ছে প্রকাশ করতে পারছি না আর আমি নিজেও জানি  না আমার মন এমন হওয়ার কারন কি !! আমার রাগের কারনে আমি যার তার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করছি !! কখনো যদি প্রচন্ড রাগ উঠার পর  কারো চুপচাপ খিচে বসে থাকি তখন আমার চোখ দুটি লাল হয়ে আর আমার আর মারাত্মক মাথা যন্ত্রণা শুরু হয় ! যা সহ্যের বাহিরে !! কিছুক্ষণ আগে এতো পরিমাণ জিদ হয়েছিল যার কারনে কাচের গ্লাস হাত দিয়ে ভেঙ্গে ফেলছি !! হাত ব্যাথা টা গায়ে লাগছে না কিন্তু জিদটা মাথায় ‌ঘুরছিলো !! আর একটু পর নিজে একা একা বিড়বিড় করে কি জানি বলতে থাকি আমি নিজেও জানি না !!! আর আমার  নিজের চুল আর চোখ দুই ছিড়ে ফেলতে মন চায় !! আমার ‌জোরে জোরে শ্বাস নিতে মন চায় !!! আর ‌শুধু মনে পড়ে ‌কারা কারা আমাকে কষ্ট দিছে কারা আমার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করছে !! মনে হয় পৃথিবীর মানুষ গুলো খুব খারাপ মনে হয়‌ ভালো মানুষের মুখোস পড়ে থাকে  সবাইকে বেইমান মনে হয় !! আমি আমার এই রাগ জিদ টাকে নিয়ে খুব অসহায় হয়ে পড়েছি ! আমার প্রচন্ড চিৎকার করে কান্না করতে মন চায় !! মনে হয় ‌পৃথিবীর সব মানুষগুলো অনেক পর !! হ্যাঁ পর ই তো !! একজনের কাছে শেয়ার করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে এতোই ভালো ‌ব্যবহার করেছে তার জিদ টা আমি আমার শরীরের আক্রামন করে মিটিয়েছি ! থাক সে খানে আর না যাই ! যে যার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক ভালো !!  আছে ভালো থাকুক  !! কিন্তু আমার যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে হয় আমি এই জিদের বসে কাউকে খুন করবো আর না হলে নিজে সুইসাইড করবো !! প্লিজ আমি এর ‌পরিত্রান চাচ্ছি !!! 🙏🙏 #আনহা

প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।গ্রাহক আপনার অনেক রাগ হচ্ছে যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না ও আপনার মধ্যে নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা প্রকাশ পাচ্ছে।এবং আপনার মনে হচ্ছে যে এভাবে চলতে থাকলে আপনার দ্বারা অন্যদেরও ক্ষতি হতে পারে।আমি অনুভব করতে পারছি যে পরিস্থিতিটি আপনার জন্য কতটা কষ্টের।প্রচণ্ড রাগের কারণে পরিস্থিতি যখন আর আমাদের হাতের নাগালে থাকে না তখন আমরা এমন অনেক কাজ করি যা অনুচিত।আর পরবর্তিতে আমাদের এরজন্য অনেক গিল্টি ফিলিংসও হয়।গ্রাহক আপনি যে আপনার ইস্যুটা নিয়ে ভাবছেন ও তার সমাধান চাচ্ছেন তার জন্য আপনাকে সাধুবাদ।আপনি যে আপনার রাগের আপকারিতাগুলো বুঝতে পারছেন তা আপনার একটি ইতিবাচক দিক।গ্রাহক আপনারতো এরকম দুই তিনদিন ধরে হচ্ছে।কিছু কি হয়েছে এই কয়েকদিক আগে যার পর থেকে আপনার এরকম অনুভূতি হচ্ছে?আগে আপনার রাগের মাত্রা ও প্রকাশের মাত্রা কেমন ছিল?আগে আপনার রাগ হলে এখন যেমন রেসপন্স করেন তখনো কি সেরকমই করতেন?কি কি নিয়ে আপনার রাগ হয়?গ্রাহক আপনার শুধু মনে পরে যে কে কে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে।এগুলো ভেবে রাগ হয়।রাগ হলে কিন্তু আপনি নিজেই আরো কষ্ট পাচ্ছেন,হতাশ অনুভব করছেন।যেই মানুষগুলো আপনাকে কষ্ট দিয়েছে তাদের কিন্তু কোন ক্ষতি হচ্ছে না।আপনারই ক্ষতি হচ্ছে।তাই যদি একটু ইতিবাচকভাবে চিন্তা করা যায় যে কে কে আপনার উপকার করেছে,আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে,তবে দেখবেন আপনারও ভালো অনুভব হবে।আপনার কি মনেহয়?আপনার মনে হয় পৃথিবীতে সব ভালোর মুখোশে খারাপ মানুষ।সবাই আপনার পর।গ্রাহক সত্যিই কি সবাই আপনার পর?এরকম কি কেউ নেই যারা আপনাকে ভালোবাসে?তাদের নিয়ে,তাদের আপনার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে একটু ভাবা যায় কি?গ্রাহক কোন মানুষ বা কোন জিনিস আমাদের মধ্যে রাগ বা কষ্টের অনুভূতি তৈরি করে না।ঐ মানুষ বা জিনিসের প্রতি আমাদের বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তাই আমাদের মনে এসব অনুভূতির তৈরি করে।তাই এই নেতিবাচক চিন্তাকে যদি ইতিবাচকভাবে ভাবা যায় তবে কষ্ট ও রাগের অনুভূতিগুলোও তো ভালো অনুভূতিতে পরিবর্তত হবে তাই না?নিচের কিছু জিনিস আপনি রাগ নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করতে পারেন। *রাগের কারণগুলো খুজে বের করার চেষ্টা করুন। *রাগ হলে আপনার মনে যে যে চিন্তাগুলো আসে,যাকে যা বলতে ইচ্ছে করে তা একটি কাগজে লিখে ফেলুন।তারপর তা ছিড়ে ফেলুন। *দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মানুষ বেশি রাগ প্রকাশ করে। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাগ হলে বসে অথবা শুয়ে পড়লে রাগ অনেকটাই চলে যায়। *যার কারণে আপনি রেগে গেছেন, তার সঙ্গে কথা বা তর্কে না জড়িয়ে কথা বন্ধ করে রাখুন কিছুক্ষণ। এত কিছুক্ষণ পরে আপনার রাগ কিছুটা কমতে পারে। *হঠাৎ রেগে গেলে রাগ প্রকাশের জন্য কিছু সময় নিন। একবার অন্তত চিন্তা করতে পারেন যে আপনার রেগে যাওয়াটার কারণ যুক্তিসংগত কি না। চিন্তা করার ফলে দেখবেন রাগ কমে গেছ।মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় নিলেও দেখবেন আপনার রেসপন্স চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। *রাগ কমানো সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উল্টো করে গোনা। ১০, ৯, ৮, ৭... এভাবে গুনতে থাকুন। এতে রাগ অনেকটাই কমে যায়। *যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন যে রেগে গেলে শুধু নিজেরই ক্ষতি হবে, তার কোনো ক্ষতি হবে না। এতে আপনা–আপনি রাগ কমে আসে। *সেই সাথে আপনি অবশ্যই রিলাক্সেশান টেকনিক ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন।রিলাক্সেশানের একটি টেকনিক হল ডীপ ব্রিদিং।বুক ভরে শ্বাস নিবেন।কিছু সময় ধরে রাখবেন।তারপর আস্তে আস্তে ছেড়ে দিবেন।এভাবে ৫-১০ মিনিট করতে পারেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও