গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক, আপনার বয়স কত ? কতদিন ধরে আপনার জন্ডিস হয়েছে ? আপনি কি কোন বিশেষজ্ঞকে দেখয়েছেন ? বা রক্ত পরীক্ষা করে জন্ডিস নিশ্চিত করেছিলেন ? আমাদের বিস্তারিত জানান। সাধারনত রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা এর উৎপাদন কিংবা সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার কারণে জন্ডিস দেখা দেয়। জন্ডিস হওয়ার শতকরা ৭০ ভাগ কারণ হচ্ছে ভাইরাল হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসের সংক্রমণে যকৃতে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়াকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই ভাইরাস ছড়ায় দুষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে। আর হেপাটাইটিস বি, সি এবং ডি ছড়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা রক্ত উপাদান গ্রহণের মাধ্যমে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁচ ব্যবহার করলেও এই ভাইরাস ছড়ানো সম্ভব। জন্ডিসের প্রধান লক্ষণ হল চোখ ও প্রসাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া। সমস্যা বেশি হলে পুরো শরীর গাঢ় হলুদবর্ণ ধারণ করতে পারে। অনেকসময় পায়খান সাদা হয়ে যাওয়া, চুলকানি, যকৃত শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গও দেখা যায়। এছাড়া শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর, বমি, পেটব্যথা ইত্যাদি প্রাথমিক লক্ষ্যনতো আছেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, জীবাণুমুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করাই জন্ডিসের আক্রমণ থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র। রাস্তাঘাটে পানি, ফলের জুস, সরবত ইত্যাদি খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। সময়মত হেপাটাইটিস এ এবং বি’র টিকা নিতে হবে। যেহেতু জন্ডিস কোনো রোগ নয়, তাই এর কোনো ওষুধ নেই। সাত থেকে ২৮ দিনের মধ্যে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলে জন্ডিস এমনিতেই সেরে যায়। - জন্ডিস হলে রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হবে। -  যকৃতের প্রতি অতিরিক্ত যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। প্রচুর শর্করাজাতীয় ও ভিটামিন-সিযুক্ত খাবার খেতে হবে। গ্লুকোজ, আখের রস, আনারস ইত্যাদি জন্ডিস রোগীর জন্য উপকারী। - একজন জন্ডিস রোগীর অনেক খাবারই খাওয়া যাবে না। অর্থাৎ যেসব খাবার সহজপাচ্য নয় কিংবা লাইট ডায়েটের মধ্যে পড়ে না সেগুলো খাওয়া যাবে না। আগেই জানা গেছে, ফ্যাট কম খেতে হবে। আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যে মসলাদার ঝাল খাবার খাওয়া যাবে না, তেলে ভাজা খাবার এবং চর্বিযুক্ত মাংস অর্থাৎ গরু-খাসির মাংস, কলিজা, মগজ এগুলো খাওয়া যাবে না। - ডিমের কুসুম না খাওয়াই ভালো, তবে সাদা অংশ খেতে পারেন। চকোলেট, কেক এগুলো খাওয়া বাদ দিতে হবে। তা ছাড়া ব্যক্তিবিশেষে হজমে গণ্ডগোল হয় এমন খাবার বাদ দিতে হবে। চা, কফি, পানে যারা অভ্যস্ত তাদের এ সময়টার জন্য চা, কফি পান থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাতের সাথে হালকা মসলার রান্না মুরগি, মাছ (ইলিশ, চিতল এসব বড় তেলওয়ালা মাছ ছাড়া) সবজি ইত্যাদি সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে জন্ডিস রোগীকে। সঠিক খাবার গ্রহণ জন্ডিস রোগীর চিকিৎসার একটি প্রধান অংশ। - জন্ডিস হলে প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন বা ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। - পরিপাকতন্ত্রে জমে থাকা জীবাণুগুলো যাতে প্রদাহ তৈরি করতে না পারে সেজন্য রোগীকে প্রতিদিন কমপক্ষে একবার হলেও পায়খানা করা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহক, জন্ডিস কোনো রোগ নয় বলে একে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। জন্ডিসের চিকিৎসা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কেউ ঝাড়ফুঁক করে জন্ডিস নামায়, রোগীকে অতিরিক্ত হলুদ দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ান, কেউ আবার বিভিন্ন গাছের শেকড় খান। এগুলো সম্পুর্ণ ভুল ধারণা। জন্ডিস হলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও