প্রিয় গ্রাহক, আপনার ব্যক্তিগত বিষয়টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনি বলেছেন যে, আপনি পছন্দের ইন্সিটিটিউটে ভর্তি হওয়ার জন্য বেশ কয়েবার চেষ্টা করেছেন। আপনার বয়স ৩০ এখনো আনইমপ্লয়েড। আপনার বন্ধুরা অনেকেই চাকরী করছেন, বিয়ে করেছেন কিন্তু আপনার ক্যারিয়ার হয়ত সেই গতিতে বা আপনি যেভাবে ভেবেছিলেন সেভাবে আগায় নি।এই বিষয়গুলি নিয়ে আপনি মানসিকভাবে বেশ অসহায় ফিল করছেন। খুব হতাশা কাজ করছে আপনার মনে। গ্রাহক, আপনার বিষয়টি অনুভব করতে পারছি। আপনি নিজেকে নিয়ে, আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক সচেতন তা বুঝতে পারছি। এ নিয়ে আপনি বেশ পরিশ্রম এবং চেষ্টা করেছেন ও করছেন তা বুঝতে পারছি। আপনার এই আত্মসচেতনতর জন্য সাধুবাদ। আমাদের সবারই নিজেকে নিয়ে, life নিয়ে কিছু expectation থাকেে। সেগুলো পছন্দসই উপায়ে fullfill না হওয়া পর্যন্ত বা fullfill না হলে আমাদের মধ্যে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, ভয় বা এরকম নেতিবাচক চিন্তা কাজ করে, তাই না?গ্রাহক, নেতিবাচক কোন কারণে মানসিকভাবে কষ্ট পাওয়া বা numbness feel করাকে সাধারণভাবে বোঝার সুবিধার্থে আমরা ডিপ্রেশন বলতে পারি। তবে কারো ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা আছে এটা বলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সিম্পটম থাকার প্রয়োজন হয়। নিম্নবর্তী ৯ টি সিম্পটমের মধ্যে যদি ৫ টি সিম্পটম দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে তখন তার ডিপ্রেশন আছে বলা যেতে পারেঃ ১. প্রতিদিন প্রায় প্রতিটা সময় মন খারাপ থাকা, ২. কোন কাজেভাল লাগার অনুভূতি না পাওয়া, ৩. বড় মাপের ওজনের পরিবর্তন, ৪. Insomnia বা ঘুমের সমস্যা ৫. প্রায় প্রতিদিনই বিরক্তি, ৬. ক্লান্তি বা কম এনার্জি অনুভব করা, ৭. অসহায়ত্ব বা অপরাধবোধে ভোগা, ৮. চিন্তা বা মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, ৯. মৃত্যুর চিন্তা আসা। আপনি কি আপনার ভিতরে এই সিম্পটম গুলো feel বা দেখতে পাচ্ছেন? সাধারণত অনেক মন খারাপ বা কষ্ট পেলে কিংবা হতাশ বোধ করলে আমরা সব ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি এবং নিজেকে আশেপাশের মানুষ এবং কাজ থেকে গুটিয়ে নেই। গ্রাহক, আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন কিছু ঘটছে?যদি আপনি নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তা আপনার সমস্যার স্থায়িত্ব বাড়ানোর পক্ষেই কাজ করবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ফেলে রাখা কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে অল্প অল্প করে করতে পারেন। আপনি আপনার পছন্দের কাজ অর্থাৎ যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করতে পারেন। এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে পছন্দের কাজ গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই কাজগুলো যেহেতু আপনার পছন্দের সুতরাং তা আপনার মন ভাল রাখতে কার্যকর হতে পারে। পছন্দের কাজের মধ্যে যে কোন কিছুই থাকতে পারে যেমনঃ বই পড়া, গান শোনা, কোথাও ঘুরতে বের হওয়া, কাছের মানুষদের সাথে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি। আনন্দের কাজগুলোর পাশাপাশি আপনি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টাও করতে পারেন। যে সব বিষয়ে আপনি আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক সে বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আপনি যদি ধীরে ধীরে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন তা আপনার মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এই দক্ষতাগুলো আপনাকে আপনার পরিবারকে সাপোর্ট করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে যা আপনার মনকে চনমনা রাখবে।মন খারাপ বা কিছুই ভালো লাগছে না এরকম হলে কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আমাদের অভ্যন্তরীন কিছু নেতিবাচক চিন্তাও কাজ করে। সাধারনত যখন আমাদের মন খারাপ তখন আমাদের মাথায় অনেক নেতিবাচক চিন্তা আসে যেমনঃ আমার কেও নাই, আমাকে কেও পছন্দ করে না, আমাকে কেও ভালবাসে না, আমি জীবনে কিছু করতে পারি নি ইত্যাদি। আপনার মাথায় আসা এমন নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে শনাক্ত করুন। শনাক্ত করার পদ্ধতি হিসেবে ডায়েরীতে লিখতে পারেন। পরবর্তীতে এই চিন্তাগুলো কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে পজিটিভ চিন্তা করতে পারলে আপনার মনটা ভাল থাকবে বলে মনে করছি। যদি এমন কেও থাকে যে আপনার মনের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখবে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন।প্রিয় গ্রাহক, আমাদের সবার লাইফেই কিন্তু ups and downs থাকে। নিজের সক্ষমতা এবং নেতিবাচক আবেগকে কাছের মানুষদের সাথে share করে আমরা কিন্তু চাইলেই এরকম situation কাটিয়ে উঠতে পারি, তাই না? আমাদের সবার মধ্যেই সে সক্ষমতা রয়েছে। কাছের এবং বিশ্বস্ত কারো সাথে কি আপনার বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলে দেখেছেন? মন খারাপের কথাগুলি কারো সাথে শেয়ার করলেও কিন্তু অনেক সময় ভাল feel হয়, চাপ কমে।আপনি আপনার মন খারাপের বিষয়গুলি কাছের মানুষদের সাথে শেয়ার করতে পারেন এবং নিজের সৃজনশীলতা এবং potentiality কে কাজে লাগিয়ে ইতিবাচকভাবেই এই বিষয়টি overcome করতে পারবেন বলে মনে করছি।  গ্রাহক, দুশ্চিন্তা এবং হতাশা হলো আমাদের স্বাভাবিক নেতিবাচক মানসিক অনুভূতি। আপনি ভেবে দেখুন তো, হতাশা থেকে আপনার কোন লাভ হচ্ছে কি? আপনার যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে দুশ্চিন্তা করলে কি সেগুলো solve হয়ে যাবে? আপনার কাছে এখনো যে সুযোগগুলো রয়েছে হতাশার কারণে আপনি হয়ত সেসব নিয়ে logically ভাবতে পারছেন না, তাই না?আপনি একটু সময় নিতে পারেন এবং logicaaly ভেবে চিন্তে  কি কি পদক্ষেপ নিলে ধাপে ধাপে আপনার বিষয়গুলো সলভ কর করা যাবে তা নিয়ে একটা plan বানাতে পারেন। আপনি এখন কি করতে চাচ্ছেন তা নিয়ে ভেবেছেন কি?গ্রাহক, আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলিকে পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার চিন্তা প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক করতে এই link টি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছিhttps://nickwignall.com/cognitive-restructuring/আপনার কর্মদক্ষতা এবং সৃজনশীলতার উপর আস্থা রাখুন। প্রয়োজনে কাছের বন্ধু বিশ্বস্ত কারো সাথে নিজের বিষয়গুলি শেয়ার করতে পারেন। এতে কিছুটা হলেও ভাল feel করবেন। এছাড়া আপনি নেতিবাচক অবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে meditationও practice করতে পারেন।meditation সম্পর্কে জানতে এই linkটি দেখতে পারেনhttps://www.verywellmind.com/practice-basic-meditation-for-stress-management-3144789আশা করি আপনার দৈনন্দিন জীবনে আমাদের টিপসগুলি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং সফলতার সাথে আপনি আপনার বর্তমান situationকে overcome করতে পারবেন। আপনার আরও কোন প্রশ্ন থাকলে সেটিও আমাদের কাছে করতে পারেন। মায়া আপা আপনার পাশে সবসময় আছে।   

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও