প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। প্রথমত জানা জরুরি যে, আপনার বয়স কত ?আপনার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি থেকে ও কবে থেকে ? আপনার হাঁপানির সমস্যা আছে কিনা ? কোন কিছু যেমন খাদ্য হতে অ্যালার্জি জনিত কাড়নে , সিঁড়ি উঠানামা বা ভারী কাজকর্ম করলে শ্বাসকষ্ট হয় কিনা ? সাধারণত শ্বাসকষ্টের পিছনে কিছু না কিছু কাড়ন থাকে, এর থেকে পরিত্রাণের জন্য ঐ সকল কাড়নসমূহ নির্মূল করায় দ্রুত উপক্রিত হওয়া যায় । সালফেট যুক্ত কিছু খাবার ও ঔষধ, অ্যালার্জি, বায়ু দূষণ, শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমন, মানসিক চাপ, আবহাওয়ার পরিবর্তন ইত্যাদির কারনে হাঁপানির বা শ্বাসকষ্টের আক্রমণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট নিরাময়ের জন্য যদি আপনার কোন উপসর্গ থেকে থাকে যেমন হৃদরোগ বা হাঁপানি তাহলে অবশ্যই ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিসিন আছে যেগুলো আপনাকে সকল সময় বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের সময় দ্রুত সেবন করে নিতে হবে । যদি ইনহেলার ব্যবহার করেন তবে তা সকল সময় সাথে রাখবেন । গ্রাহক, কাশির জন্য আপনি কিছু নিয়ম মেনে চলুন - গার্গল বা কুলকুচি: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে হবে। এক সপ্তাহ প্রতিদিন তিন বেলা করে কুলকুচি করবেন। এতে কফ, কাশি এবং গলাব্যথা সবই খুব দ্রুত কমে যাবে। এটি খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। মধু: এক কাপ লেবুমিশ্রিত চায়ের মধ্যে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং গলাব্যথা কমায়। এ ছাড়া আদা চা, গরম পানি খাওয়া, গলায় ঠান্ডা না লাগানো নিয়মিত মেনে চললে কাশি দ্রুত ভালো হয়ে যায়। এরপরও কাশি ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হাঁপানি , অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়সমূহ :- ভারী জিনিশ উঁচু করবেন না, সিঁড়ি উঠানামা কম করবেন, দৌড়াদৌড়ি বা লাফালাফি যা করলে আপনাই হাঁপিয়ে জান শেগুলো পরিহার করতে হবে ।    রাতে শোবার সময় ও সকল সময় দুই বালিশে মাথার দিক টি যাছে সম্পূর্ণ শরীরের থেকে উঁচু থাকে সেভাবে শুবেন ।  - ধূলাবালি থেকে বাচতে রাস্তা ঘটে চলাচলের সমসয় মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন। - বাসা বাড়িতে কার্পেট ব্যবহার না করাই অতি উত্তম। - ঘরে ধূঁপ ব্যবহার করেবেন না । - উচ্চ মাত্রার সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। - যেকোন প্রকার স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। - বাসায় বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী পোষা থেকে বিরত থাকুন। - ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন বা গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন। - মশার কয়েলও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে থাকে এর থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন। - স্প্রে করার সময় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন কারণ এটাও বেশ ক্ষতিকর। - যে কোনো উপায়ে ধূমপান পরিহার করা অপরিহার্য। - ঠান্ডা পানি এবং শীতল খাবার গ্রহণ করা পরিহার করুন। - বাসা বাড়িতে ফ্রীজে রাখা খাবার ভালো করে গরম করে গ্রহন করুন। - পুরাতন বই পত্র এবং বিছানা বা কার্পেট ঝেড়ে নেওয়ার সময়ও মাস্ক ব্যবহার করুন বা  গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন। - শীতকালে লেপ-তোষক ভাল করে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। - শীতের সময় শীতবস্ত্র ধুঁয়ে ব্যবহার করুন । - শীত থেকে বাচতে উলেন কাপড়ের পরিবর্তে সুতি অথবা জিন্সের কাপড় ব্যবহার করুন। - ছোট বা বড় ফুল ধরা গাছের নিচে বা তার আশেপাশে বসবেন না । ফুলের পাপড়ি আপনার শ্বাসকষ্ট বাড়াবে। - রান্না করার সময় মশলার ঝাঁঝাঁলো গন্ধ এড়াতে মাস্ক বা শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। - ঘরে যাতে তেলাপোকা এবং ছারপোকা বাসা বাধতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখুন। লক্ষ্য রাখুন কি কি কারণে আপনার এলার্জি, এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন আরো কি কি করা দরকার। যেসব খাবার পরিহার করবেন :- ইলিশ মাছ, চিংড়ি, গরুর মাংস, দুধ, হাঁসের ডিম (সাদা অংশ), মিষ্টি কুমড়া, কচু, বেগুন, আপেল, কলা এ সকল খাদ্য আপনার এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিবে। তাই এসব থেকে সাবধান থাকুন। যা যা পালন করার চেষ্টা করবেন :- - সবসময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন। - ভয়, হতাশা ও চিন্তাগ্রস্থ হবেন না কখনো । বিষয়টা ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিন। - ভুলে যান যে আপনার এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট সমস্যা রয়েছে। - শ্বাস গ্রহনের পর প্রায় পনের সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখার অভ্যাস করুন। - প্রতিদিন কিছু সময় শ্বাসের ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। - সুযোগ পেলে কিছুটা সময় জোরে জোরে শ্বাস নিন।   - দুই ঠোট শীষ দেওয়ার ভঙ্গিতে এনে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। - শ্বাসকষ্ট বেশি হলে বা শ্বাসকষ্ট না কমলে দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই সমস্যার জন্য আপনি একজন বক্ষ্যব্যাধি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও