আমি আর ইসরাত একই কলেজে পড়ি।আমরা খুব ভাল বন্ধু। আমরা দুইজন বেস্টফ্রেন্ড।বলতে গেলে আমরা বেস্টফ্রেন্ড এর চাইতেও অনেক বেশি।আমাদের বন্ধুত্ব এতটাই গভীর যে আমরা দুজনেই শুধু আমাদের ফ্রেন্ডশিপের জন্য পুরো কলেজে  ভাইরাল। আমাদের ফ্রেন্ডশিপ প্রায় ২ বছরের। বলে রাখা ভাল আমাদের ফ্রেন্ডশিপের শুরুটা বাকি ১০ টার মত ছিলো না.... আমার কাছে ওকে এতটাই সুন্দরী লাগে যে ওর নাম জানারও প্রয়োজনবোধ করি নি.. ডিরেক্ট প্রপোজাল দিয়েছিলাম। ও আমাকে রিজেক্ট করে বন্ধুত্বের কথা বলে সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্বের শুরু... এই ২ টা বছর ওর সাথে চলতে চলতে কখন যে ওর প্রেমে পড়ে গেছি তা আমি নিজেও জানি না।  কিন্তু ওকে কখনও বুঝতে দেইনি.. আমার কখনোই মনে ছিল না আমার বেস্টফ্রেন্ড একটা মেয়ে। ওর একদিন বিয়ে হয়ে যাবে। এখন ঠিক ওর বিয়ের সময়টা ঘনিয়ে এসেছে। আর আমার মধ্যেও হারানোর ভয় কাজ করতে শুরু করেছে। আমি এখন বুঝতে পারি কতটা ভালোবাসি ওকে। ওর বিয়ে হয়ে যাবে ভাবলেই আমার কান্না চলে আসে। ঘুম হয় না বাজে স্বপ্ন দেখি। মাঝরাতে ঘুম ভেংগে যায়। সব মিলিয়ে আমার অনেক কষ্ট হয়। আমি এতটাই কষ্ট পাই যে এই কষ্টের অনুভূতি আমি কাউকে বোঝাতে পারবো না...  কিন্তু আমি আমার ভালবাসার কথা আমার বেস্টফ্রেন্ড কে বলতে পারি না। বলার মত সাহসও আমার হয় না...  কারণ এইসব শোনার পর যদি  ও আমাদের ফ্রেন্ডশিপ ব্রেকআপ করে তো আমি আরও বেশি কষ্ট পাবো। আরও বেশি ভেংগে পড়বো.... আমার মাঝে মাঝে এমনও মনে হয় আমি যদি ওর বাসার কাজের লোক হয়েও ওকে দেখতে পারি কথা বলতে পারি আমার হারানোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। আমি চাই আমার বেস্টফ্রেন্ড এর বিয়ে আমার সাথে হোক সারাজীবন আমি ওর সাথে থাকতে পারি। কিন্তু এইসব কথা ওকে বলতে পারি না। কারন ও বিয়ের জন্য যেমন ছেলে আশা করে আমি তেমন না। তাছাড়া আমার মত চিকন ছেলে বিয়ের জন্য ওর পছন্দ না। আর সবচেয়ে বড় কথা শুধুমাত্র বন্ধুত্বটা যদি ও ভেংগে ফেলতে চায় সেই ভয়েও এইসব ওকে বলতে পারি না... আমি চাই ও ওর মন মত ছেলে বাছাই করেই বিয়ে করুক। কারন আমি ওকে হ্যাপি দেখতে চাই।ও ভালো থাকুক এটাই আমি চাই। এমনিতেও ওর কষ্ট আমার সহ্য হয় না...... আমি ওকে কষ্টে দেখতে একদম চাই না... আবার আমি এতকিছুর পরেও মনে মনে ওকে চাই আমার মনে হয় ওর মত ভাল মেয়ে না পেলে সারাজীবন আমাকে অনেক কষ্টে থাকতে হবে। ওর অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যাবে ভাবলেও আমার কান্না আসে। দম আটকে আসে। মনে হয় অক্সিজেন স্বল্পতায় দম আটকে মরে যাচ্ছি। স জানি না আমি কতটুকু আমার অনুভূতি সঠিকভাবে বোঝাতে পেরেছি কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কি করা উচিত..?

প্রিয় গ্রাহকআপনাকে ধন্যবাদ আপনার প্রশ্নের জন্য।আপনি সঠিকভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করতে পেরেছেন,আপনার লেখা পড়ে স্পষ্ট বুঝতে পারছি আপনি কতটা কষ্ট পাচ্ছেন। আপনি আপনার বেস্ট ফেন্ডকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। তাকে হারাতে চান না। তাকে সরাসরি একবার বলে রিজেক্ট হয়েছিলেন শুরুতে তাই আর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না যদি ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়ে,তাই ত? আবার অন্যদিকে তিনি যেমন ছেলে পছন্দ করেন সেরকম আপনি না, তিনি সুখী থাকুক সেটা চান, কিন্তু অন্যকাউকে বিয়ে করুক তা চাচ্ছেন না। গ্রাহক, আপনি কি একটু ভেবে দেখবেন আপনার চিন্তা এবং চাওয়া গুলো বিপরীত মুখী কিনা।কাছের মানুষকে যখন হারাতে না চাই/ হারানোর ভয় থাকা প্রচন্ড তখন আমাদের চিন্তা শক্তি ঠিকভাবে কাজ করে না। যা ঘটার তা ঘটবে এবং যা ঘটার না তা ঘটবে না এটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। ঝুঁকি নিতে ভয় পাই। যেমনটা আপনি পাচ্ছেন- তাকে ভালোবাসার কথা এখন জানাতে ভয় পাচ্ছেন যদি ফ্রেন্ডশীপ ভেঙ্গে যায়। এটা স্বাভাবিক চিন্তা। তবে এটা মনে রাখতে হবে নিজের চিন্তা এবং কাজের ফলাফল নিজেকেই ভোগ করতে হবে। মানে তাকে মনের কথা জানালে যেমন রিজেক্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে,তাকে হারাতে হতে পারে তেমনি জানানোর পর মন হালকা ও হতে পারে যে আমি আমার মনের কথা জানাতে পেরেছি,এই শান্তি অনুভূতিও থাকতে পারে। সে কি রিয়েক্ট করবে তা আপনি ১০০ভাগ শিওর না, কিন্তু নিজের মনে যে দ্বন্দ চলছে তা কমাতে আপনি কি করতে পারেন তা আপনার হাতে। আপনার যেমন তাকে ভালো লেগেছে তার তেমন অন্য কাউকে ভালো লাগতে পারে এই গ্রহণযোগ্যতা আপনাকে সাহায্য করবে আপনার কষ্ট কমাতে। আপনাদের বন্ধুত্বের বোঝাপড়া কেমন তা বুঝে আপনি আপনার মনের কথা, অবস্থা শেয়ার করে দেখতে পারেন। আপনি সময় নিয়ে স্থির হলে দেখবেন আপনার কষ্ট কমে আসছে। তাছাড়া আপনি আরও কিছু উপায় অনুসরণ করতে পারেন, যেমন- আত্নবিশ্বাস বাড়ায় এমন কাজে নিয়োজিত থাকা, ইয়োগা করা, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। ধন্যবাদ গ্রাহক,যেকোন প্রয়োজনে মায়া আছে আপনার পাশে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও