প্রিয় গ্রাহক, প্রশ্ন করার জণ্য আপনাকে ধণ্যবাদ। গ্রাহক, কিছু ট্যাকনিক্যাল সমস্যার কারণে সময় মত আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। গ্রাহক, আপনার বয়স কত? আপনার স্ত্রী কি কোন জন্মনিয়ন্ত্রন পিল সেবন করেন? আপনি কি অনেক বেশি হস্তমৈথুন করতেন? আমাদের জানাবেন।গ্রাহক, সাধারণত আপনি যেই কারন বললেন তার কারণে বাচ্চা না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। বাচ্চা হওয়ার জন্য একজন পুরুষের শুক্রানুর পরিমান স্বাভাবিক থাকা প্রয়োজন এবং নারির নিয়মিত ওভুলেশন হওয়া দরকার। এর জন্য গ্রাহক, আপনার এবং আপনার স্ত্রী উভয়েরই পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। আপনি সিমেন এনালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন আপনার শুক্রানুর পরিমান ঠিক আছে কিনা। এবং গ্রাহক, কনডম ব্যবহার না করা বা পিল খাওয়া বন্ধ করে দিলেই একজন নারী গর্ভবতী হয়ে যাবেন তা কিন্তু নয়। নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার-দাবার ইত্যাদি বিষয় ঠিক রাখা খুব জরুরী মা হতে চাইলে। যে বিষয়গুলো মাথায় রেখে সহবাস করবেন তা হলো- প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে। মাসিকের সঠিক হিসাব রাখতে হবে যেন আপনি চাইলে সে সময় মাথায় রেখে শারীরিক মিলনের নিয়ম কাজে লাগাতে পারেন।একজন নারীর ডিম্বাশয় মাসে একবার ডিম্বানু তৈরি করে। একে ওভুলেশন বলে। যখন এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় শুধুমাত্র তখনই বীর্যের সংস্পর্শে এলে ডিম্বানুটি নিষিক্ত হতে পারে। তবে শুক্রাণু নারীর গর্ভে গিয়ে প্রায় পাঁচদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তখন যদি নারীর ডিম্বানু প্রস্তুত হয় তখনই শুক্রাণু ডিম্বানুটির সাথে মিলিত হতে পারে।নারীর মাসিক শুরুর দিন থেকে গুণে গুণে সাতদিন পর্যন্ত এই ডিম্বাণু পুরোপুরি তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলা চলে। যাদের মাসিক অনিয়ম তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যাদের প্রতিমাসে ঠিকঠাক মতো সঠিক সময় মাসিক হয় তারা এ বিষয়টা মাথায় রাখতে পারেন। ইমার্জেন্সি পিল খেলে এ হিসাব কাজ করবে না, এটাও মনে রাখতে হবে। স্বাভাবিক মাসিক হয় যাদের তাদের পিরিয়ড শুরুর প্রথম দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্বামীর সাথে মিলিত হলেও এ থেকে গর্ভধারণ করার সুযোগ খুব কম। গর্ভবতী হতে চাইলে এর পরের ১০ দিন স্বামীর সাথে একবার করে মিলিত হলে কোনো সমস্যা না থাকলে গর্ভবতী হবেন নারী। কারণ এ সময়ের ভিতরেই ডিম্বানুটি প্রস্তুত হয়।পুরুষের শুক্রাণু জরায়ু বা ডিম্বনালীতে দুই থেকে তিনদিন বেঁচে থাকে। কিন্তু নারীর ডিম্বাণু মাত্র ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা নিষিক্ত হওয়ার অবস্থায় থাকে। এরপর সেখানে আর কোনো শুক্রাণু কাজ করতে পারে না। তাই ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার সম্ভাব্য দিনে শারীরিক মিলন না করে মাসিক শেষ হওয়ার পর একদিন পর পর শারীরিক মিলন করতে হবে। যেন ডিম্বাণু প্রস্তুত হলে শুক্রাণু মিলিত হতে পারে। জরায়ুতে অপেক্ষমাণ শুক্রাণুও সেটা করতে পারে। যদি আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং কোন সমস্যা না থাকে তবে যৌনমিলনের পর ৩০ মিনিট শুয়ে থাকা ভালো। শারীরিক মিলনের পর বিছানায় পিঠ লাগিয়ে শুয়ে থাকুন। যেন বীর্য জরায়ুর দিকে সহজে প্রবাহিত হতে পারে। একটা কোলবালিশ পায়ের নীচে দিয়ে রাখতে পারেন যেন পাগুলো একটু উঁচু হয়ে থাকে। মোট কথা বীর্য যতখানি সময় ধরে জরায়ুর ভিতরে রাখা যায় ততই ভালো। এভাবে শুয়ে থাকলে বীর্য সহজে জরায়ু, সারভিক্স হয়ে ফ্যালোপেন টিউবে প্রবেশ করে। শারীরিক মিলনের জন্য ঘুমের আগের সময় বেছে নিন। যেন মিলনের সাথে সাথেই উঠে না যেতে হয় বিছানা থেকে। কিন্তু যদি আপনার জরুয়ুতে ইনফেকশন থাকে এবং ডাক্তার সহবাসের পরপর মুত্রথলি খালি করতে বলে তবে যৌনমিলনের পর দেরী করা ঠিক হবে না।মিলনের পর পরই নিজেকে পরিষ্কার করে নেয়ার অভ্যাস খুবই ভালো। এতে কোনো রকম ইনফেকশনের ভয় থাকে না। কিন্তু গর্ভধারণের জন্য অন্তত ১ ঘন্টা পানি বা সাবান দিয়ে যৌনাঙ্গ না ধুয়েই থাকতে হবে।তাছাড়া আপনি যদি ১ বছর বাচ্চা নেয়ার জন্য কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে থাকেন এবং ১ বছরেও আপনি গর্ভবতী না হোন, তাহলে একজন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়া কে জানাবেন। পাশে আছে সবসময় মায়া।দ্রুত প্রশ্নের উত্তর পেতে, এবং ঔষধের পরামর্শ নিতে মায়া প্রেসক্রিপশন প্যাকেজে সাবস্ক্রাইব করে একজন এক্সপার্টের সাথে কথা বলতে পারবেন।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও