প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।হাত-পায়ে জ্বালাপোড়া প্রায়ই শোনা যায়। তবে এই রোগটি ৩৫-৪০ উর্ধে লোক বিশেষ করে মহিলাদের বেশি হয়ে থাকে আবার গর্ভাবস্থায়ও অনেকের হাত-পা জ্বালা পোড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে গরমকালে অনেকেরই হাত-পা জ্বালা পোড়ার প্রবণতাটি অনেকাংশে বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে এর প্রকোপতা এত বেশি হয় যে হাত ও পায়ের পাতা দুটি যেন মরিচ লাগার মতো জ্বলে, কখনও সুঁই ফোটার মতো বিঁধে ঝিম ঝিম করে বা অবশও লাগে।প্রায়ই এ ধরনের অনুভূতির কথা শোনা যায় রোগীদের মুখে। এ এক বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাকর অনুভূতি। নানা কারণে এমনকি মানসিক বিপর্যয়েও হতে পারে এই জ্বালা- পোড়ার যন্ত্রণা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাত ও পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলেই এমনটা ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি।নিউরোপ্যাথির বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস। রক্তে শর্করার আধিক্য ধীরে ধীরে হাত ও পায়ের স্নায়ুগুলোকে ধ্বংস করে এ ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করে।কিডনি ও থাইরয়েড সমস্যায়, ভিটামিন বি-১২ ও বি-১ এর অভাব, মদ্যপান, রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস ইত্যাদি রোগেও হাত ও পায়ের স্নায়ুতে সমস্যা হয়। কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়ও হাত পায়ের জ্বালা- পোড়া হতে পারে। যেমন- যক্ষ্মা রোগে ব্যবহৃত আইসোনিয়াজিড। হৃদরোগে ব্যবহৃত এমিওড্যারোন, কেমোথেরাপি ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী এন্টিবায়োটিক সেবনেও হাত-পায়ের তালুতে জ্বালা-পোড়ার সমস্যা হয়ে থাকে।তবে সব সময় হাত-পায়ে যন্ত্রণা বা জ্বালা- পোড়া মানেই যে স্নায়ুতে সমস্যা তা নয়। আরও কিছু কারণে এ ধরনের অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। যেমন :* হাত-পায়ে ছত্রাক সংক্রমণ* হাত-পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা* মহিলাদের মেনোপোজের পর হাত-পায়ে জ্বালা পোড়া বেড়ে যায়।* অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপেও হাত-পা জ্বালা পোড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।* আবার সাধারণত অনেক সময় দেখা যায় যে, পানি কম পান করলে শরীর কষে যায় এবং এতে হাত-পা ও শরীরে জ্বালা-পোড়ার প্রবণতাটাও বেড়ে যেতে পারে।কী করবেন?জ্বালা- পোড়া হঠাৎ শুরু হয়ে খারাপের দিকেই যাচ্ছে বা এর সঙ্গে হাত-পায়ের আঙ্গুল বা পায়ের পাতায় অনুভূতি কমে যাচ্ছে, অবশ মনে হচ্ছে ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না আপনার হাত ও পায়ের স্নায়ু ঠিক আছে কিনা তা বুঝার জন্য অনেক সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন নেই। চিকিৎসক একটি আলপিন বা একটি টিউনিং ফর্ক ব্যবহার করেই পায়ের অনুভূতিগুলো যাচাই করে নিতে পারবেন।* যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাত-পায়ের যত্ন নিতে শিখুন। বিশেষ করে পায়ের যত্ন।* যাদের হাত বা পায়ের স্নায়ু সমস্যা আছে, তারা পায়ের যেকোন ক্ষতের দ্রুত চিকিৎসা করুন। পায়ে গরম সেঁক নিতে, নখ কাটতে এবং জুতা বাছাই করতে সাবধান হোন।* হাত পায়ের সমস্যার জন্য সব সময় যে ভিটামিনের অভাবই দায়ী, তা নয়। তাই সব ধরনের সমস্যায় ভিটামিন বি খেয়ে উপকার নাও পেতে পারেন।* দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন।* নিউরোপ্যাথি আছে প্রমাণিত হলে স্নায়ুর যন্ত্রণা লাঘব করে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলো সেবন করতে পারেন।* সাধারণত যারা পানি কম পান করেন তাদের উচিত বেশি পরিমাণে পানি পান করা এবং মিনারেল জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। এতে করে হাত-পা ও শরীর জ্বালা-পোড়া অনেক অংশে কমে যাবে।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও