প্রিয় গ্রাহক কাশি অনেক কারণেই হতে পারে । ফুসফুসের বাতাস যখন কোনো কারণে প্রচণ্ড বেগে স্বরযন্ত্র দিয়ে বেরিয়ে আসে, সেটিই কাশি। কাশি ফুসফুসের একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ফুসফুসে কোনো কিছু ঢুকলে কাশির মাধ্যমে তা জানান দেয়।২ সপ্তাহের অধিক কাশি হলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বলে। স্বল্পস্থায়ী কাশি সাধারণ সর্দি-জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার কারণে হয়ে থাকে। কাশি তিন সপ্তাহের অধিক হলে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের টিউমার, যক্ষ্মার জন্য হয়ে থাকে। কাশির সঙ্গে থুথু বা কফ বের না হলে তা শুকনো কাশি। এ কাশি অ্যাজমা, কিছু ওষুধ এসিই ইনহিবিটর বা বিটা ব্লকার খেলেও হয়। কাশির সঙ্গে প্রচুর কফ ফুসফুসের ফোড়ার জন্য হয় বা ফুসফুসের কোনো কোনো জায়গায় স্থায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্রঙ্কাইটিস হয়। কিছু কাশি শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশ অর্থাৎ নাক থেকে শ্বাসনালির সমস্যায় হয়। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা অ্যালার্জিজনিত সর্দি, সাইনোসাইটিস ও গলা ব্যথায় শ্বাসনালির উপরের অংশের সমস্যার জন্য হয়। নাকের পেছনেও সর্দি হয়। এ রোগীরা শুয়ে পড়লে কাশি হয়। সাইনোসাইটিসে নাকের পানি গলায় পড়ে কাশি হয়। গলা ব্যথা ফ্যারিনজাইটিসের জন্য হয়। রোগীর গলা প্রচণ্ড ব্যথাসহ কাশি হয়। কথা বলার যন্ত্র বা ল্যারিংসে প্রদাহ হলে কথা বলার সময় কাশি হয়। ফ্যাসফ্যাসে কাশিতে রোগী বলে গলা ভেঙে গেছে। ভোকাল কর্ডে ইনফেকশন হলে কাশিতে জোর থাকে না, একে বভাইন কফ বলে। এ কাশি দিলে হালকা শব্দ হয়। ভোকাল কর্ড প্যারালাইসিস থেকে এমনটি হতে পারে। এ কর্ডে টিউমার বা ফুসফুসের টিউমার ভোকাল কর্ডকে আক্রান্ত করলে এমনটি হয়ে থাকে। কাশি দিলে বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা হলে শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া আক্রান্ত হয়। অ্যাজমার কাশি দিন-রাতের সঙ্গে বাড়ে-কমে। রাতে বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি বাড়ে। বাগানের ফুলের রেণু বেশি থাকলে অ্যাজমা রোগীর কাশি বেড়ে যায়। আপনার কি সাথে রাতে হালকা জ্বর আসে? আপনার কাশি যদি তিন সপ্তাহের বেশি হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করতে হবে। তত আপনি কিছু নিয়ম মেনে চলুন - গার্গল বা কুলকুচি: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে হবে। এক সপ্তাহ প্রতিদিন তিন বেলা করে কুলকুচি করবেন। এতে কফ, সরদি, কাশি এবং গলাব্যথা সবই খুব দ্রুত কমে যাবে। এটি খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। মধু: এক কাপ লেবুমিশ্রিত চায়ের মধ্যে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং গলাব্যথা কমায়। এ ছাড়া আদা চা, গরম পানি খাওয়া, গলায় ঠান্ডা না লাগানো নিয়মিত মেনে চললে কাশি দ্রুত ভালো হয়ে যায়। এরপরও কাশি ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কাশি প্রতিরোধে - * ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা * কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা উচিত। * প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা ভালো। * ধুলাবালি, ধূমপান এড়িয়ে চলা। এর জন্য মাস্ক ব্যবহার করা। * ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা। * তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। * হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়া। * সাধারণভাবে রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক পরা, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা এবং তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার না করাই ভালো।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও