জি আপা আমি ছেলে, আমার বয়স 19 বছর। আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। । আমার সমস্যা হল। এক বছর যাবত। যেমন আগে স্কুল জীবনে। দৃষ্টিশক্তি, মেধা শক্তি,স্মরণশক্তি এবং সবার সাথে মেলামেশা ,শয়তানি ,হাসি ঠাট্টা সব ধরনের বিনোদনে সময় কাটতো। কিন্তু এখন ,গত এক বছর যাবত কলেজ লাইফে আমার নিজের কিরকম একটা সমস্যা যেন অনুভূতি হচ্ছে আমি সবার সাথে কথা বলার সময় কেমন যেন নার্ভাস হয়ে যাই এবং কথা বলার সময় মুখ দিয়ে সঠিক উচ্চারণ বাহির হয় না। । গত এক বছর আমার বেশিরভাগ সময় বাসায় কেটেছে।আমার ফার্স্ট ইয়ারের তেমন কলেজে যাওয়া হয় নাইনিজেকে কেমন যেন অলস মনে হয়। । আমার দুর্দান্ত সাহস ছিল। । কিন্তু এখন। কেমন যেন ভয় কাজ করে। মানুষের সাথে মেলামেশা। কথা বলার সময় নার্ভাস। ভয়-ভীতি। এগুলা হচ্ছে। আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারছিনা ।। পুরনো বা নতুন। অনেক স্মৃতি। মনে করতে পারছিনা। আমার দৃষ্টি শক্তি। স্মরণশক্তি। মেধা শক্তি। কেমন যেন। অচল হয়ে পড়েছে। চোখে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছি না। এখন আপা,আমি আবার আগের মত হতে চাই😢 আমার সমস্যাগুলো কিভাবে দূর করতে পারি বা মুক্তি পেতে পারি!?       ধন্যবাদ

সম্মানিত গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি বেশ অনেকগুলো সমস্যার কথা বলেছেন যেমনঃ কথা বলার সময় নারভাস হয়ে যাওয়া বা ভয় পাওয়া, অলসতা, অগোছালোভাবে কথা বলা, চোখের সমস্যা, স্মরণশক্তির সমস্যা। আমি কি কোন সমস্যা মিস করে গেছি?গ্রাহক, আপনার সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আপনার জীবন বিষয়ক বিস্তারিত জানা প্রয়োজন কারন আপনার সমস্যাগুলো বেশ অনেকগুলো ক্ষেত্রে হচ্ছে। আপনি কি আমাকে অনুগ্রহ করে জানাবেন যে, এমন কোন সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটেছে কি যার পর থেকে আপনার এই সমস্যাগুলো হচ্ছে? কোন সমস্যাটি আপনি প্রথমে দেখতে পান এবং এরপর কোনটি অর্থাৎ এই সমস্যাগুলোর কোনটি কবে থেকে ঘটছে সেটি জানা প্রয়োজন। এই সব সমস্যার মধ্যে কোন সমস্যাটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি সমস্যাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন? আপনার উত্তর পেলে আপনাকে পরবর্তী সাহায্য করতে পারব বলে মনে করছি। আপাতদৃষ্টিতে এই ধরনের (কথা বলার ক্ষেত্রে নারভাসনেস বা ভিতী, কনফিডেন্স কমে যাওয়া) সমস্যাগুলো নেতিবাচক চিন্তার ফলে ঘটে থাকে। যেমনঃ কারো সাথে কথা বলার সময় আপনার মাথায় যদি চিন্তা আসে যে আমি ঠিকমত কথা বলতে পারছি না কিংবা আমি সব ভুল বলছি কিংবা মানুষটা নিশ্চয়ই বুঝে ফেলছে আমি নারভাস তাহলে অবশ্যই আপনি কনফিডেন্টলি কথা বলতে পারবেন না। এই ধরনের চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার জন্য যা করতে পারেনঃ গ্রাহক, চিন্তা আমাদের সবার মাথায়ই আসে কিন্তু এটা তখনই সমস্যা হয় যখন আমরা চিন্তাগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রভাবিত হই। চিন্তার দ্বারা আমাদের আবেগ, আচরণ, শারীরিক প্রতিক্রিয়া সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনার ক্ষেত্রে চিন্তার কারণে কি ধরনের প্রভাব পরছে আমাদের জানাবেন কি? আপনার মাথায় আসা এমন নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে শনাক্ত করুন। শনাক্ত করার পদ্ধতি হিসেবে ডায়েরীতে লিখতে পারেন। পরবর্তীতে এই চিন্তাগুলো কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখতে পারেন। সত্যতা যাচাই করার জন্য এর পক্ষে কি কি যুক্তি আছে এবং এর বিপক্ষে কি কি যুক্তি আছে দেখুন। এবং ঐ চিন্তার শেষটা নামিয়ে ফেলুন। পরবর্তীতে যখন ঐ চিন্তাটা আসবে তখন সত্যতা যাচাই করে যে শেষটা এসেছিল সেই অনুযায়ী আচরণ করতে পারেন। যে চিন্তাগুলো সঠিক নয় তার পরিবর্তে অলটারনেটিভ চিন্তা করতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে পজিটিভ চিন্তা করতে পারলে আপনার মনটা ভাল থাকবে বলে মনে করছি। এর বাইরে যদি এমন কেও থাকে যে আপনার মনের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখবে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছি। আপনার আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জিজ্ঞাস করতে পারেন। মায়া আপনার পাশে সব সময় আছে।

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn


প্রশ্ন করুন আপনিও