প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার  বয়স কত ?  কতদিন ধরে আপনার এই সমস্যা হয়েছে ?  আপনি কি এরজন্য কি ওষুধ খাচ্ছেন ? আপনার অন্যকোন শারীরিক সমস্যা আছে ?  আমাদের জানান।  গ্রাহক , অস্টিওপোরোসিস বা অস্থি ক্ষয় কিংবা হাড়ের ক্ষয় রোগ এমন একটি অসুখ যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব নির্দিষ্ট মাত্রায় কমে যাওয়ায় হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ২০ থেকে ৩৫ বছর হাড় তার পূর্ণতা লাভ করে, তারপর ৪০ বছরের পর থেকে হাড় তার ক্যালসিয়াম ও ফসফেট হারাতে থাকে, এর ফলে হাড়ের পরিবর্তন হয়, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই , হাড়ক্ষয়ের এই পিঠব্যথা প্রতিরোধে    করতে হলে সর্বদা মেরুদণ্ডের আকৃতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। এর জন্য যা করতে হবে তা হল- ১. দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। যদি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে একটি পা প্ল্যাটফর্মের ওপরে কিংবা টুলের ওপরে রেখে দাঁড়াতে হবে। ২. চেয়ারে বসে কাজ করার সময় কিংবা চেয়ারে বসে থাকার সময় যদি চেয়ারটি আপনার পিঠকে ঠিকমতো সাপোর্ট দিতে না পারে তাহলে চেয়ারও আপনার পিঠের মধ্যকার ফাঁকা জায়গাটা পূরণে কুশন ব্যবহার করুন। ৩. ঘুমানোর সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেমন- * শক্ত তোশক বা জাজিমের ওপর ঘুমান। * মুখ নিচের দিকে রেখে ঘুমাবেন না। * চিৎ হয়ে ঘুমাবেন। * যদি পাশ ফিরে ঘুমাতে চান, তাহলে সে পাশে একটা হাঁটু সামান্য বাঁকা করে ঘুমাবেন। * উপুড় হয়ে শুতে হবে। ডান পা সোজা রেখে যতদূর সম্ভব ওপরে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় হাঁটু কিছুতেই ভাঁজ করা যাবে না। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে তারপর ধীরে ধীরে পা নামাতে হবে। এরপর বাঁ পা একই রকম করতে হবে। প্রতি পায়ের জন্য পাঁচবার এটি করতে হবে। ৪.এরসাথে  সাথে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাবেন।  ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার : সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে দুগ্ধজাত খাদ্যে। যেমন— ১ গ্লাস ননী তোলা দুধে থাকে ৩০২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৮৫ ক্যালরি শক্তি, কম স্নেহজাতীয় দই এ থাকে ৪১৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ১৪৫ ক্যালরি শক্তি। সয়া প্রোটিন- টফু (প্রতি ৪ আউন্সে ৫০০ মিলিগ্রাম), সবুজ ফুলকপি বা ব্রকলি প্রতি ৪ আউন্সে ৪৫ মিলিগ্রাম, কলার্ড প্রতি কাপে ১৫০ মিলিগ্রাম, শালগম প্রতি কাপে ২০০ মিলিগ্রাম, সার্ডিন মাছ বা সামুদ্রিক মাছ প্রতি ৩ আউন্সে ৩৭৫ মিলিগ্রাম। ভিটামিন-ডি : আপনার খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। ভিটামিন ডি দেহে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে হাড়ের গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ভিটামিন ডি গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৪০০ আন্তর্জাতিক একক (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট)। ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার- এই ভিটামিন পাওয়া যায় ডিমে, মার্জারিনে, কড লিভার তেলে, সামুদ্রিক মাছে ও গরুর কলিজায়। তা ছাড়াও সূর্যের আলো ভিটামিন ডি’র অন্যতম উৎস, তাই মাঝেমধ্যে সূর্যলোকে যাবেন। আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিনিট সূর্যলোকে থাকলেই যথেষ্ট। অন্যান্য খাবার : আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করুন, এতে আপনার পেশী সুগঠিত হয়ে আপনার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রিত হবে। এ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফল খান যাতে ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, খনিজ পদার্থ যেমন— ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন থাকে, যা হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া, চিকিৎসক এর পরামর্শ মত ওষুধ খাবেন এবং ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও