গর্ভবতী নারীদের বাম কাত হয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেয়া হয়, যেহেতু গর্ভকালে ভ্রুণ দিনদিন বড় হতে থাকে, তাই এটি স্বাভাবিকভাবেই তার মায়ের অভ্যন্তরীণ অর্গান ও রক্তনালীতে বেশি থেকে বেশি চাপ ফেলে। বিকাশমান শিশু যখন মায়ের ব্লাডারে চাপড় মারে অথবা অন্ত্রে লাথি মারে, তখন গর্ভবতী নারী ব্যথা অনুভব করতে পারে। কিন্তু এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাম পাশ ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না।মায়ের একটি বড় শিরা হচ্ছে ইনফেরিয়র ভিনা কাভা (আইভিসি), যা মেরুদণ্ডের ডানপাশ বরাবর গেছে এবং এটি শরীরের নিচের অংশ থেকে হৃদপিণ্ডে পুনরায় রক্ত বহনে অবদান রাখে।যদি গর্ভবতী নারী পিঠে ভর দিয়ে বা চিৎ হয়ে ঘুমায়, তাহলে ইনফেরিয়র ভেনাকাভায় ভ্রুণের চাপ পড়া সম্ভাবনা বেশি, এর ফলে হৃদপিণ্ডের দিকে পুনরায় ফিরে যাওয়া রক্তের পরিমাণ আযযহ্রাস পাবে। বাম পাশ ও ডান পাশে কাত হয়ে ঘুমানো নিয়ে অনেক তুলনামূলক গবেষণা হয়েছে এবং এটা প্রমাণ হয়েছে যে বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমালে ডান পাশে কাত হয়ে ঘুমানোর চেয়ে চাপ পড়ার সম্ভাবনা কম।হৃদপিণ্ডে কম রক্ত প্রবেশ করার মানে হচ্ছে হৃদপিণ্ড থেকে কম রক্ত বের হওয়া, এর ফলে মায়ের রক্তচাপ কমে যায় এবং মা ও শিশু উভয়ের জন্য রক্তে অক্সিজেন কনটেন্টের পরিমাণ হ্রাস পায় (মায়ের রক্ত শিশুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে)। অধিকাংশ সুস্থ গর্ভবতী নারী ও তাদের ভ্রুণ কার্ডিয়াক আউটপুট সামান্য হ্রাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে পারে, কিন্তু আইভিসি চাপ সেসব গর্ভবতী নারীদের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে যাদের ইতোমধ্যে রক্তচাপের সমস্যা অথবা শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত জটিলতা আছে।অ্যাজমা ও স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে এমন গর্ভবতী নারীদের ইতোমধ্যে তাদের শরীর ও শিশুকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারার মতো সমস্যা আছে। যখন এসব সমস্যার সঙ্গে চিৎ হয়ে ঘুমানোর কারণে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার সমস্যা যোগ হবে, তখন উভয় সমস্যা পরস্পরকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।প্রেগন্যান্সির শেষ পর্যায়ে পিঠে ভর দিয়ে ঘুমানোর সঙ্গে মৃত বাচ্চা প্রসব করার উচ্চ ঝুঁকি জড়িত। এই সংযোগের পক্ষে প্রমাণ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।গর্ভাবস্থায় ডান পাশ ও বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমানো নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ তেমন একটা করা হয়নি।যদি আপনার সুস্থ প্রেগন্যান্সি থাকে এবং বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমাতে না পারেন, ডাহলে ডানপাশে কাত হয়ে ঘুমানো দুশ্চিন্তার কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি আপনার জন্য ভালো হতে পারে, ডান পাশে কাত হয়ে ঘুমানো জনিত আইভিসি চাপের সামান্য ঝুঁকির তুলনায় পর্যাপ্ত ঘুম যেতে না পারা আরো খারাপ প্রেগন্যান্সি আউটপুটের কারণ হতে পারে। যেসব গর্ভবতী নারী পর্যাপ্ত ঘুম যেতে পারে না (প্রতিরাতে ৫-৬ ঘণ্টার কম ঘুম যাওয়া) তারা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস এবং প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার বর্ধিত ঝুঁকিতে থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম যাওয়া প্রেগন্যান্সির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।আপনার আরও কোনো মেডিকাল, সোসাল, লিগাল প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে উত্তর করে থাকি। ঔষধ সম্পর্কে জানতে/চিকিতসকের সাথে কথা বলতে/প্রেসক্রিপশন পেতে আমাদের মায়া প্রেসক্রিপশন প্যাকেজটি সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে সমস্যার সমাধান দিবেন এবং প্রথম প্রেসক্রিপশনে প্রয়োজন হলে আপনাকে ফোন করে কথা বলবেন আপনার সাথে।আপনি আমাদের উত্তর পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন কিনা এবং আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি কিনা জানালে খুশি হব। ভবিষ্যতে আপনার যদি আরও প্রশ্ন থাকে আপনি নিঃসঙ্কোচে আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। রয়েছে সাথে, মায়া আপা।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও