প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক, আপনার বয়স কত ?  জ্বর আছে ? ঢোঁক গিলতে অসুবিধা হয় ? আপনার কি টনসিলের সমস্যা আছে ?  আপনি যদি ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত কারো সংস্পর্শে বা বিদেশ ফেরত কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারো সংস্পর্শে এসে থাকেন,সেক্ষেত্রে আপনার হাচি,কাশি,জর বা শাষকষ্ট হলে দ্রুত আই ই ডি সি আর হাসপাতালের এই ১৬২৬৩ বা ৩৩৩ নাম্বারে যোগাযোগ করবেন।  বিভিন্ন কারনে হঠাৎ করে শুরু হয়ে যেতে পারে গলা ব্যথা। গলা ব্যথা এত তীব্র হতে পারে যে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয় অনেক সময়।  অনেক সময় টনসিল ফুলে গলা ব্যথা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে।  গলা ব্যথার সঙ্গে যদি ঢোক গেলার সময় কাঁটা কাঁটা অনুভূতি হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গ্ল্যান্ড ফুলে, গ্ল্যান্ডে ইনফেকশন হলে এরকম হয়ে থাকে। সময়মত চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে এটি থেকে জ্বর ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই গলাব্যথার জন্য সবার প্রথমে ঠান্ডা পানীয় এবং খাবার পরিহার করুন ।  কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই গলা ব্যথা কমানো যায় । ঘরোয়া উপায়গুলো :-১। গলা ব্যাথার জন্য গরম পানীয় খুব কার্যকর। আদা চা, কফি, মধু মিশানো জল, গরম দুধ প্রভৃতি পান করতে হবে।  ২। লবণ পানি আদিকাল থেকে গলা ব্যথার উপশম হিসেবে লবণ পানির ব্যবহার হয়ে আসছে। ১ কাপ গরম পানির মধ্যে ১/৪ চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। দিনে ৩-৪ বার এই পানি দিয়ে কুলকুচা করলে গলার ফারিংগাল অঞ্চলের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর ফলে ভেতরে জমে থাকা ঠান্ডা কফ বের হয়ে এসে গলা পরিস্কার করে ফেলে। এছাড়া গলার ইনফেকশন অবস্থারও উন্নতি করে। ফলে গলা ব্যথা কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্মূল হয়ে যায়। ৩। গলা ব্যথা দূর করতে লেবুপানি: গলা ব্যথা দূর করতে লেবুপানি অনেক বেশি কার্যকরী। ১ কাপ পানির মধ্যে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে কয়েকবার কুলকুচা করুন। এটি গলার ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে গলা ব্যথা কমিয়ে দেয়। ৪। গলা ব্যথা দূর করতে হলুদপানি হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে যা ব্যথা উপশম করে থাকে। ১ কাপ গরম পানিতে, ১/২ চাচমচ হুলুদ গুঁড়া এবং ১/২ চাচমচ লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলকুচা করুন। কিছুক্ষণের মধ্যে গলা ব্যথা কমে যাবে। ৫। চাঃ গলা ব্যাথায় দিনে দুই তিনবার গরম চা আমাদের অনেকটাই আরাম দিতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্রিন টি বা হারবাল চা অনেক বেশি কার্যকর। চাইলে চায়ের মধ্যে লেবুর রস  যোগ করুন, যা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে৷এছাড়া  গলা ব্যথা দূর করতে লবঙ্গ চা ১ থেকে ৩ চামচ লবঙ্গের গুঁড়া পানির মধ্যে মিশিয়ে নিন। এরপর এটি দিয়ে গলায় কুলকুচা করুন। এতে অ্যান্টিব্যক্টিরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লামাটরি উপাদান থাকে যা গলা ব্যথা কমিয়ে দেয়। ৬। গলা ব্যথা দূর করতে আদা, মধু লেবু পানি ১ চাচামচ আদা পাউডার/কুচি, মধু, ১/২ কাপ গরম পানি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। প্রথমে আদাপানি দিয়ে কুলকুচা করুন তারপর লেবুর রস, মধু, দিয়ে কিছুক্ষণ কলকুচি করে নিন। এটি আপনার গলা ব্যথা কমানোর সাথে সাথে আপনার গলা পরিষ্কার করে দেবে। ৭।  এ ছাড়া এ সময়ে তরল খাবার বেশি করে খান এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। পাশাপাশি গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়ে খেতে পারেন।৮।তরল খাবারঃ হাঁচি, কাশি ও গলার ভিতর প্রচুর তরল নিঃসরণের জন্য শরীর অনেকটাই পানিশুন্য হয়ে পড়ে। তাই প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। তবে অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি বর্জন করা প্রয়োজন। গলা ব্যাথায় ধোঁয়া উঠা গরম সূপ দারুণ কাজে দেয়।.৯।লজেন্সঃ মেনথল, ইউক্যালিপটাস বা ফেনলসমৃদ্ধ কিছু লজেন্স আছে, যা চুষার ফলে গলা ব্যাথা ও প্রদাহ কমে যায়। এগুলো মূলত ক্লোরোসেপটিক অর্থাৎ গলায় একটা আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেওয়ার পাশাপাশি জীবাণুনাশক হিসেবেও কাজ করে৷১০।বিশ্রামঃ যেকোনো অসুখে প্রজাপ্ত বিশ্রাম গ্রহন করলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠা যায়। তাই কাজ থেকে ছুটি নিন, অবকাশ যাপন করুন, দেখবেন খুব দ্রুত আপনার গলা ব্যাথা সেরে যাবে।.১১।ওষুধঃ গলা ব্যাথায় প্যারাসিটামল বা বেদনানাশক ওষুধই যথেষ্ট। তবে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে৷ তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।আশা করি উপরিউক্ত নিয়োম মেনে চললে আপনার গলা ব্যথা কমে যাবে। আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন আগের চেয়েও অনেক বেশি। তবে এসব ঘরোয়া উপাদানের মাধ্যমে যদি সমস্যা না কমে তবে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।    আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও