প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। কতদিন ধরে আপনার এই সমস্যা হচ্ছে? আপনার অন্যকোন শারীরিক সমস্যা আছে? পায়ের গোড়ালির হাড়ের নিচের অংশে ক্যালসিয়াম জমে কিছুটা বাড়তি অংশ তৈরি হয়। জীবনের কোনো একসময় অনেকেই এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে কোনো উপসর্গ না থাকায় বুঝতে পারেন না। যখন ক্যালসিয়াম জমে যাওয়া অংশের চারপাশের কোষকলায় প্রদাহ হলে তখনই ব্যথা হয়। এই সমস্যা হওয়ার বিভিন্ন কারণ আছে। যেমন শক্ত মেঝেতে অতিরিক্ত লাফালাফি এবং দৌড়ানো। ভুল মাপের বা পুরনো জুতা পরা, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স এবং ডায়াবেটিস থেকেও এই রোগ হতে পারে। সাধারণত গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় উপসর্গটি ধরা পড়ে। ভুক্তভোগীদের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা তীক্ষ্ণ হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে ব্যথা কমে আসে। এই সমস্যার একটি সমাধান হল অপারেশনের মাধ্যমে গোড়ালির হাড়ে জমে যাওয়া বাড়তি ক্যালসিয়াম অপসারণ করা। তবে শতকরা ৯০ ভাগ ভুক্তভোগী অপারেশন ছাড়াই সমস্যাটি থেকে মুক্তি পেয়ে থাকেন। এসব চিকিৎসার মধ্যে আছে থেরাপি, বিশেষধরনের জুতা ব্যবহার বা জুতায় ‘অর্থোটিক’ ডিভাইস ব্যবহার, পেইনকিলার ইত্যাদি। পায়ের গোড়ালির ব্যাথা নিয়ন্ত্রণ করতে  কিছু কার্যকরী পদ্ধতি নিম্নরূপ। এতে গোড়ালি ব্যাথা প্রতিহত হবে আবার ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য ঝুঁকিও থাকবে না। # প্রথমেই গোড়ালির ব্যাথার জন্য আপনাকে সব সময় নরম জুতা ব্যবহার করতে হবে। চামড়ার জুতা হোক আর রাবারের স্যান্ডেলই হোক খুব নরমটা ব্যবহার করতে হবে। যাতে গোড়ালিতে কম ব্যাথা অনূভব হয়। # শারীরিক পরিশ্রম করার ১৫ মিনিট আগে গোড়ালির যে স্থানে ব্যথা হয় সেখানে বরফ ধরে রাখতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বার বার বরফ ব্যবহার করা যাবে। বরফ ব্যবহার ক্যালসিয়াম জমে যাওয়া অংশটির চারপাশের কোষকলায় প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। # যত কম পারা যায় হাটাহাটি কম করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া হাটাহাটি না করায় ভালো। # বিশেষ করে শক্ত কোনো স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না খাকার চেষ্টা করুন। # ভারী কোনো জিনিস তুলবেন না। যেমন: ­বেশি ওজনের বাজারের ব্যাগ, পানিভর্তি বালতি এই জাতীয় জিনিস বহন না করায় ভালো। # সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাতে সাপোর্ট দিয়ে ধীরে ধীরে উঠতে হবে। আবার চলাচলের সময় যথাসম্ভব গোড়ালির ব্যবহার কম করবেন। # ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় কোনো রকম ব্যায়াম না করায় ভালো। # মহিলাদের ক্ষেত্রে হাই হিল জুতা ব্যবহার করা একেবারে নিষেধ। # শরীরের ওজন কমাতে সকাল ও রাতে রুটি খেতে হবে। এবং যেসব খাবারে বেশি ক্যালরি রয়েছে আপাতত সেগুলো বর্জন করতে হবে। উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে এমনিতেই গোড়ালির ব্যাথা সেরে যাবে। তবে যদি দেখেন ব্যাথা দীর্ঘস্থায়ি হচ্ছে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে মনে রাখবেন ওষুধ খাওয়ার থেকে যদি নিয়ম মেনে গোড়ালির ব্যাথা সারানোর যায় সেটিই শরীরের জন্য উত্তম হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও