আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। আমার বিয়ের গত মার্চে এক বছর পূর্ণ হয়। আমাদের পছন্দের বিয়ে ছিল, কিন্তু পারিবারিক ভাবে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হই। প্রথমেই দেখা দেয় হাজবেন্ডের শারীরিক সমস্যা। ডাক্তার দেখাই, বলে এটা নাকি মানসিক সমস্যা, ট্রিটমেন্ট দেয়, কিন্তু আমার হাজবেন্ড কোন ট্রিটমেন্ট করায় না। মার্চ 22, 2019 আমার আকদ হয়। এরপর মাসের পর মাস চলে গেলেও শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। উল্টো আমাকে বাচ্চা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে। উপায়ান্তর না দেখে আমার মা বাবা শ্বশুরবাড়ির উপর চাপ সৃষ্টি করে আমাকে তুলে নিতে বাধ্য করে। অক্টোবরের 20 তারিখ আমাকে তুলে নেওয়া হয়। বিয়েতে তারা প্রথমে কোন দাবিদাওয়ার কথা বলে না। কিন্তু বিয়ের পর প্রায়ই আমাকে শুনতে হয় আমার বাবা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয়নি, কাজেই আমার কোন কথা আমার স্বামী শুনতে বাধ্য নয়। শাশুড়ি আমার মাকে ইনিয়ে বিনিয়ে জানায় ছোট ছেলের বউয়ের বাড়ি থেকে এটা সেটা উপহার নাকি আসতেই থাকে। বিয়েতে ছয়লাখ টাকা দেনমোহর তারাই ধার্য করে এবং দুই লাখ টাকা উসুল বাবদ চার ভরি গহনা দেয়। এটার জন্যও আমাকে শুনতে হয়, আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ গহনায় আরও 50,000/= টাকা তাদের বেশি খরচ করতে হয়েছে। বৌভাতের দিন পার্লারে আমাকে আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন একা ফেলে চলে আসে, কারণ পার্লারের বিল তারা পে করতে ইচ্ছুক নয়। শেষে আমি সেটা বন্দোবস্ত করতে সক্ষম হই। বৌভাতের দিন দুপুরে ভরা মজলিশে আমার স্বামী আমার সাথে দূর্ব্যবহার করে, অভিযোগ, আমি নাকি তার আত্মীয়স্বজনদের অ্যাটেনশন দেইনি। বৌভাতে যা গিফট ওঠে (গোল্ডসহ), সব আমার শাশুড়ি রেখে দেয়। কারণ তাদের টাকা খরচ হয়েছে। তার সাথে আমার গাঁয়ে অলক্ষ্মীর তকমাও লেগে যায়, কারণ ফুল ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসেনি। আমার স্বামীর সাথে আমার মনোমালিন্য অব্যাহত থাকে, এবং ষষ্ঠদিন সে আমার গায়ে হাত তোলে। শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানের তৃতীয় দিনই আমাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আমাকে পুত্র সন্তান জন্ম দিতে হবে। এটাই এই বংশের রীতি। আকদের পর আমার স্বামীর কথা অনুযায়ী আমি বড় বাসা নেই, সে অর্ধেক ভাড়া বহন করতো। কিন্তু মারধরের পর সে খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। আমি অর্থকষ্টে পরে যাই। মাসের শেষের দিকে যখন আর ঘরে খাবার পর্যন্ত থাকত না তখন দুই তিন হাজার পাঠিয়ে দিয়ে বলতো এখন কাজকর্ম নাই, সামনের মাস থেকে ঠিকমতো দিবে। কিন্তু এভাবেই চলতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পরি। তাকে এক রকম অনুরোধ করে চিকিৎসার জন্য টাকা আনাই। ডাক্তার জানায় আমার জরায়ুতে সমস্যা। দ্রুত বাচ্চা নিতে হবে। আমার স্বামীর টেস্ট করানো হয় অনেক কাকুতিমিনতি করে। তারও সমস্যা ধরা পরে। কিন্তু সে কোন ট্রিটমেন্ট করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। অপর দিকে শ্বশুরবাড়ির থেকে বাচ্চা নেওয়ার চাপ অব্যাহত থাকে। এদিকে আমার প্রতি আমার স্বামীর উদাসীনতা বাড়তে থাকে। অনুনয় বিনয় করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসলে চার পাঁচদিন পরই তার মা ফোন দিয়ে বলে, কবে ফিরবি??? আর সে মায়ের কাছে চলে যায়। মাসখানেক পর পর বড়জোর এক সপ্তাহ আমার এখানে এসে থাকে। এর মধ্যে আমার শাশুড়ি আমার মাকে জানায় আমার স্বামী বেকার, কোন কাজকর্ম করে না, আমি যেন অযথা টাকাপয়সা চেয়ে অশান্তি না বাধাই, তারা সময় মতো আমার যা লাগবে পাঠায় দিবে। এরপর আমিও আর টাকা চাইনি, আমার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার ভরণপোষণ বাবদ কোন টাকা আসেনি। আমার বাবার সহযোগিতা নিয়ে আমি চলি। এর মধ্যে আমি আরও দুইবার শ্বশুরবাড়িতে যাই কিন্তু কোন না কোন ভাবে তারা মানসিক চাপের মধ্যে রাখে আমাকে। আমার স্বামী প্রায়ই বলতে শুরু করে যে আমার তো অপশন দেয়াই আছে, আলাদা হয়ে গেলেই পারি। এরপর শুরু হয় নতুন চাপ। আমি যেন বদলি হয়ে শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি চলে যাই। তার উপর আমার স্বামী আমার মা বাবা, আত্মীয়স্বজন সবার থেকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। উপরন্তু আমাকে দোষারোপ করে আমি নাকি সামাজিকতা রক্ষা করতে জানি না। এর মধ্যে আমার শাশুড়ি আমার জন্য আমার জা এর ব্যবহার করা পুরোনো একটা কম্বল আমার জন্য নিয়ে আসে। নিজের মুখেই জানায়, আমার শীতে কম্বল নেই তাই ছোট ছেলের বউয়ের পুরোনো কম্বলটা আমার জন্য এনেছে। প্রচন্ড হীনমন্যতায় ভুগছিলাম তখন। এটা নিয়ে অভিযোগ করলে আমার শাশুড়ি সেটা পুরোপুরি অস্বীকার করে। আমার সব কথাই আমার স্বামীর কাছে মিথ্যা, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক বলে মনে হয়। আমার স্বামী প্রথম থেকেই তার মায়ের কাছে থাকে। শেষে সে জানায়, আমি তার জীবন নষ্ট করে দিয়েছি, আমার জন্য তার ফ্যামিলির সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে। আমি তার পরিবারের প্রতি কোন দায়িত্বই পালন করিনি। উপরন্তু সবসময় সবার দোষ ধরে গেছি। তার নিষ্পাপ মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছি। আমি শারীরিকভাবেও আকর্ষণীয় নই। কাজেই আমি যেন মুরুব্বি নিয়ে বসে সব সমাধান করি। আমার মা বাবা কোন সালিশ বৈঠকে বসতে রাজি নয়। কারণ এতে সংসার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি নিজেও বিয়েটা ভাঙতে চাই না, কারণ আমি বিশ্বাস করি বিয়ে মানুষের জীবনে একবারই হয়। আমি আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সাথে সমস্তযোগাযোগ বন্ধ রেখেছি আজ চৌদ্দদিন যাবত। আশা এটাই যে কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকলে সকল তিক্ততার অবসান হবে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আমার স্বামী আমাকে নিয়ে ফেসবুকে আজেবাজে কথাবার্তা লেখা শুরু করে। আমি চুপ থাকি। অবশেষে গত রাতে সে আমার পোস্টে এসে আমার নামে নানা অভিযোগ করে আমাকে হুমকি দেয় আমি কতদূর যেতে পারি সে দেখে নিবে। আমি সব কমেন্টস ডিলিট করে তাকে ব্লক দিয়ে দেই। আমার এখন করণীয় কী??? আমি ডিভোর্স চাই না, ডিভোর্সী মেয়েদের সামাজিক ভাবে অনেক হেয় করে দেখা হয়, এ ছাড়া আর কী সমাধান হতে পারে??? দয়া করে জানাবেন প্লিজ

সম্মানিত গ্রাহক, আপনার সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি ডিভোর্স চান না বলে জানিয়েছেন তার অর্থ আপনি সমস্যাটির সমাধান চাচ্ছেন। মায়া এপে সমস্যার সমাধানের জন্য প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে থাকে। আর সামনা সামনি সেশনে ক্লায়েন্টের সাথে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি আপনার সমস্যাটি দ্বিপাক্ষিক। আপনার স্বামী এবং তার পরিবারের বিষয়টিও জানা প্রয়োজন। সমাধানের জন্যও দুই পক্ষের প্রয়োজন। আপনার সমস্যার গভীরতা এবং প্রয়োজনীয়তা ভেদে আপনার এবং আপনার স্বামীকে সরাসরি একজন ফ্যামিলি কাউন্সেলরের নিকট যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি। বর্তমানে আপনার স্বামীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। আপনার অবস্থান এবং চাওয়া গুলো তার কাছে তুলে ধরার কোন প্রক্রিয়া আছে কি? পরিবারের এমন কেও কি আছে যে আপনাদের মধ্যে সম্পর্কটি পুনরাপস্থিত করতে সাহায্য করতে পারে? আপনার পাশে সব সময় আছে, মায়া। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও