গ্রাহক আপনাকে শুভেচ্ছা আপনি মা হতে চলেছেন, আপনার এবং আপনার অনাগত সন্তানের সুসাস্থ্য কামনা করছি। গর্ভকালীন যত্নের উদ্দেশ্যঃ গর্ভকালীন যত্নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো গর্ভবতী মাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থতার মাঝে তৈরী করে তোলা যাতে তার প্রসব স্বাভাবিক হয়, তিনি যেন একটি স্বাভাবিক সুস্থ শিশু জন্ম দেন, সন্তানকে বুকের দুধ দিতে পারেন এবং সন্তোষজনকভাবে তার এবং শিশুর যত্ন নিতে পারেন। আপনার শারীরিক অবস্থা কেমন আছে , আপনার বাচ্চার বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা এসব কিছু জানার জন্য আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে । এর সাথে প্রেগন্যান্সিতে কিছু রুটিন পরিক্ষা করতে হয় মায়ের কোন ধরনের জটিলতা হতে পারে নাকি সেটি জানার জন্য , যা করার জন্য আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।  গর্ভকালীন সময় আপনার শরীরের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন।  প্রতিটি পর্যায়ে আপনার শরীরে অনেক পরিবর্তন দেখা দিবে।প্রথমে লক্ষ্য রাখবেন আপনি প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন কিনা।  প্রেগন্যান্সির সময় আপনার মনে হবে খুব তাড়াতাড়ি আপনার পেট ভরে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অল্প অল্প খাবার ঘনঘন খাবেন।  গর্ভাবস্থা সাধারণত ৯ মাসের কিছু বেশি দিন থাকে। এই ৯ মাসকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ৩ মাস কে ফার্স্ট ট্রাইমিস্টার, দ্বিতীয় ৩ মাসকে অর্থাত্‍ ৪-৬ মাস কে সেকেন্ড ট্রাইমিস্টার এবং ৬ মাসের পর থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কে থার্ড ট্রাইমিস্টার বলে। ট্রাইমিস্টারের গুরুত্ব অনেক। একেক ট্রাইমিস্টারে শিশুর গ্রোথ বা গঠন একেক রকম। তাই ট্রাইমিস্টার অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা উচিত।অনেক সময় খাদ্য থেকে আমরা সঠিক পরিমানে কিছু vitamin and mineral আছে সেগুলা পেয়ে থাকি না, তাই ডাক্তার সেগুলার জন্য ওষুধ দিয়ে থাকে।আপনার ডাক্তার আপনাকে সেগুলা দিয়ে থাকবেন। ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাবেন না।  গর্ভবতী মায়ের খাবারের তালিকাঃশক্তিদায়ক খাবারঃ যেমনভাত, রুটি/পরাটা, আলু, চিনি, গুড়, সুজিসয়াবিন তেল, বাদাম, কলিজাঘি/মাখন, ডিমের কুসুম ইত্যাদিশক্তি ক্ষয়পূরণ এবং নবজাতকের শরীর বৃদ্ধিকারক খাবার-যেমনঃমাছ, মাংস, দুধ, ডিমের সাদা অংশবিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুটি,সীমের বীচি ইত্যাদিশক্তি রোগ প্রতিরোধক খাবার-যেমনঃসবুজ, হলুদ ও অন্যান্য রঙ্গিন শাক-সবজিসবধরনের মৌসুমী ফল-মূলগর্ভবতী মা কি খাবেন,কি পরিমাণ খাবেনঃ প্রতিদিন তিন ধরণের খাবারের তালিকা থেকেই কিছু কিছু খাবার খেতে হবে।প্রতিবেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশী খেতে হবে। গর্ভবতী মহিলাকে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি  পান করতে হবে।আয়োডিনযুক্ত লবণ তরকারীর সাথে খেতে হবে। তবে অতিরক্ত লবণ খাওয়া যাবে না। অনেক মহিলাই বমির কারণে বা বমি বমি ভাবের জন্য  একদমই খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। এ সময় যে সব খাবার আপনি খেতে পারেন সেগুলো বেশী করে খাবেন এবং প্রচুর পরিমানে পানি খাবেন। সকালের বমিভাব বা মনিং সিকনেস শুরু হয় সাধারণত ছয় সপ্তাহ পর এবং শেষ হয় বারো সপ্তাহের মধ্যে। আপনার বমি যদি অনেক বেশী হয় এবং সে কারণে আপনার  মাথা ঘুরে অথবা জ্ঞান হারান তবে ডাক্তারের কাছে যাবেন।  গর্ভবতী অবস্থায় করণীয়ঃ  প্রেগন্যান্সির সময় নিজেকে সচল রাখতে চেষ্টা করবেন। অনেকেই হয়তো আপনাকে পরামর্শ দেবে শুয়ে থাকতে এবং বেড রেস্টে থাকতে, কিন্তু আপনার যদি সুস্থ প্রেগন্যান্সির অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে অবশ্যই এ সময় যে ব্যায়ামগুলো করা সম্ভব সেগুলো করে নিজেকে সুস্হ রাখবেন। গ্যাস কমানো এবং Constipation প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত হাটা একটি ভাল ব্যায়াম। অনেকেই জন্ম দানের আগে yoga করে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং নিজেকে সচল রাখার মাধ্যমে আপনি সুস্থ প্রেগন্যান্সির অভিজ্ঞতা  লাভ করবেন এবং এটা আপনার ডেলিভারিকেও সহজ করে দেবে।  *গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্য সেবাদানকারীর দ্বারা কমপক্ষে ৩ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।*গর্ভাবস্থায় ২টি টিটি টিকা নিতে হবে।  *গর্ভবতী মহিলাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তাকে নিয়মিত গোসলও করতে হবে।*দুপুরের খাবারের পর কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে। *ডাক্তার দেখানো, ultrasound scan, blood test এগুলো নিয়মিত করতে হবে।    গর্ভবতী অবস্থায় যা করা যাবে নাঃ গৃহস্থালীর কঠিন কাজ যেমন-ধান মাড়াই, ধান ভানা, ঢেঁকিতে চাপা ইত্যাদিভারী কোন কিছু তোলাদূরে যাতায়াত করা এবং ভারী কিছু বহন করাশরীরে ঝাঁকি লাগে এমন কাজ করাদীর্ঘ সময় কোন কাজে লিপ্ত থাকাঝগড়া ঝাটি এবং ধমক দেয়াজর্দা, সাদা পাতা খাওয়াতামাক, গুল ব্যবহার করাধূমপান বা অন্য কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করাস্বাস্থ্য কর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না।   গর্ভকালীন প্রয়োজনীয় ৪ টি ব্যবস্থাঃ প্রসবের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ধাত্রী বা স্বাস্থ্য সেবা দানকারীকে আগে ঠিক করে রাখতে হবে।প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সময়ে বাড়তি খরচ এবং জরুরী ব্যবস্থা আগে ঠিক করে রাখতে হবে।প্রসবকালে গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। তাই গর্ভবতী মায়ের রক্তের গ্রুপের মিল আছে এমন তিন জন সুস্থ্য ব্যক্তিকে রক্ত দানের জন্য আগে ঠিক করে রাখতে হবে এবংগর্ভকালীন কোন রকম জটিলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতলে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য যানবাহন চালকের (ভ্যানগাড়ির চালক বা নৌকার মাঝি) সাথে আগে থেকে কথা বলে রাখতে হবে।গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় ৫ টি বিপদ চিহ্নগর্ভকালীন জটিলতার ফলে মা ও শিশু উভয়ের জীবনের ঝুকি দেখা দেয়। ৫ টি বিপদ চিহ্নের মাধ্যমে এসব জটিলতা ধরা যায়। এরকম অবস্থায় মায়েদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এই ৫টি বিপদ চিহ্ন হলোঃগর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তস্রাব, গর্ভফুল না পড়াগর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিনদিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধ যুক্ত স্রাব গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে ও প্রসবের পরে শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথা ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখাগর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে খিঁচুনীপ্রসব ব্যথা ১২ ঘন্টার বেশি থাকা ও প্রসবের সময় বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোন অঙ্গ প্রথমে বের হওয়া।মনে রাখতে হবে : এর যে কোন একটির জটিল অবস্থা দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি, রয়েছে পাশে সবসময় মায়া আপা। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও