আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।আপনাকে শুভেচ্ছা আপনি মা হতে চলেছেন, আপনার এবং আপনার হবু সন্তানের সুন্দর স্বাস্থ্য কামনা করছি।প্রথমেই বলতে চাই, গর্ভাবস্থা সাধারণত ৯ মাসের কিছু বেশি দিন থাকে। এই ৯ মাসকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ৩ মাস কে ফার্স্ট ট্রাইমিস্টার, দ্বিতীয় ৩ মাসকে অর্থাত্‍ ৪-৬ মাস কে সেকেন্ড ট্রাইমিস্টার এবং ৬ মাসের পর থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কে থার্ড ট্রাইমিস্টার বলে। ট্রাইমিস্টারের গুরুত্ব অনেক। একেক ট্রাইমিস্টারে শিশুর গ্রোথ বা গঠন একেক রকম। তাই ট্রাইমিস্টার অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা উচিত।অনেক সময় খাদ্য থেকে আমরা সঠিক পরিমানে কিছু vitamin and mineral আছে সেগুলা পেয়ে থাকি না, তাই ডাক্তার সেগুলার জন্য ওষুধ দিয়ে থাকে।আপনার ডাক্তার আপনাকে সেগুলা দিয়ে থাকবেন। ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাবেন না।গর্ভাবস্থার চতুর্থ- ষষ্ঠ মাস (৪-৬ মাস) বা দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারের পরিচর্যা নিয়ে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো। অতিরিক্ত ২০০-৩০০ ক্যালরি খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন এ সময়ে। সাধারণত একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বা মহিলার দৈনিক ২২০০ ক্যালরি খাদ্য প্রয়োজন হয়। তাই আপনি গর্ভবতী হলে দৈনিক ২৫০০ ক্যালরি খাওয়া প্রয়োজন। এ সময়ে ভিটামিন ডি ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড খেতে হয় প্রচুর। কারণ এ সময়ে ব্রেন বা মস্তিষ্কের ও চোখের গঠন হয় আর এই গঠন সঠিকভাবে হওয়ার জন্য এই পুষ্টিগুলো খুব দরকার। ভিটামিন ডি পাবেন সূর্যের আলোতে, দুধে, দইয়ে, বাদামি চালে ও গমে। ওমেগা ৩ এর জন্য সামুদ্রিক মাছ ও খাবার খেতে হবে। তিসির তেলে ওমেগা ৩ থাকে। সালাদে ২ চামচ তিসির তেল মিশিয়ে সালাদ খাবেন। প্রচুর মাছ খাবেন। এ সময়ে আয়োডিন খাবেন পর্যাপ্ত পরিমাণে। কেননা, এ সময়ে বাচ্চার থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করা শুরু করে আর থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। শুধু আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলেই হবেনা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ আকারেও আয়োডিন খাওয়া যেতে পারে। এ সময় ক্যালসিয়াম খান প্রচুর পরিমাণে। কারণ এটি বাচ্চার হাড়, মাংস ইত্যাদি তৈরিতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় দুধ, দই, আইসক্রিম, চীজ ইত্যাদিতে। সাধারণত এ সময়ে আয়রণ ৪০ মিলিগ্রাম লাগে দৈনিক। এজন্য আয়রণ ট্যাবলেট খাবেন ডাক্তারের পরামর্শমত। এ সময়ে কিছু মিনারেল ও ভিটামিন বেশ কিছু পরিমাণে খেতে হয়।নীচে সেগুলোর নাম দেয়া হলো।ক্যালরি – পাওয়া যায় প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট থেকেপ্রোটিন – মাছ, মাংস, ডিম, দুধে থাকেআয়রন – মাছ, ডিম, কচুতে থাকেক্যালসিয়াম – দুগ্ধজাত খাদ্যে থাকেজিংক – মাছ, ডিম ও সামুদ্রিক খাবারে থাকেআয়োডিন – আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক খাদ্যে থাকেভিটামিন এ –, শাক সবজি, কলিজা ও হলুদ ফলে থাকেভিটামিন ডি – দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে থাকেথায়ামিন –ঢেঁকিছাটা চালে থাকেরিবোফ্লাবিন – মাংস, কলিজা থাকেনিকোটিনিক এসিড – মাংস, বাদাম ও শস্য দানাতে থাকেএসকরবিক এসিড – টক জাতীয় ফলমূলে ও টমটোতে থাকেফলিক এসিড – , সবুজ শাকসবজি ও কলিজাতে থাকেভিটামিন বি১২ – , প্রাণীজ প্রোটিনে থাকে

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও