জন্ডিস আসলে কোনো রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়াকে আমরা জন্ডিস বলে থাকি। জন্ডিস মাত্রা বেশি হলে হাত, পা আর এমনকি সমস্ত শরীরও হলুদ হয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি প্রশ্রাবের রং হালকা থেকে গাঢ় হলুদ হতে পারে।1. লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি, এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হয় যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস।2. এছাড়াও আরও কিছু অপেক্ষাকৃত বিরল ধরণের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। 3. ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় জন্ডিস হয়। 4. তাছাড়াও থ্যালাসিমিয়া ও হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজের মতন যেসমস্ত রোগে রক্ত ভেঙ্গে যায় কিংবা পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে।লক্ষণঃ 1. জন্ডিস হলে চোখ হলুদ হয়। 2. তবে হেপাটাইটিস রোগে জন্ডিসের পাশাপাশি ক্ষুদামন্দা, অরুচি, বমি ভাব, জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, মৃদু বা তীব্র পেট ব্যাথা ইত্যাদি হতে পারে। এ সব উপসর্গ দেখা দিলে তাই অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। 3. তবে যদি অন্য কারণে হয়, যেমন লিভার সিরোসিস হয়েছে, তাহলে সিরোসিসের জন্য তার অন্য সমস্যা থাকতে পারে পিত্তনালিতে। তার ক্যানসার, পেটে ব্যথা রয়েছে, গা চুলকাচ্ছে—এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা: যেহেতু জন্ডিস কোনো রোগ নয়, তাই এর কোনো ওষুধ নেই। ৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলে জন্ডিস এমনিতেই সেরে যায়।1.জন্ডিস হলে বিশ্রামে থাকতে হবে, ডাক্তারের চিকিতসা নিতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, জন্ডিসের রোগীরা অনেক সময়েই বমি বা বমি-বমি ভাব এবং খাবারে অরুচির কারণে যথেষ্ট পরিমাণে পানি এবং অন্যান্য খাবার খেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে রোগীকে শিরায় স্যালাইন দেয়া জরুরি।রোগীকে বাইরের খাবার সব সময় পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে খুব সাবধান থাকতে হবে পানির ক্ষেত্রে। জন্ডিস থাক বা না থাক, না ফুটিয়ে পানি পান করা যাবে না। বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে ফুচকা, চটপটি, বোরহানি আর সালাদের ব্যাপারে। কারণ, হেপাটাইটিস এ বা ই-এর মতো পানিবাহিত ভাইরাসগুলো এসবের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে।3. হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস দুটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস সেরে যাবার পরও লিভারের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে যা লিভার পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস আর এমনকি লিভার ক্যান্সারের মতন জটিল রোগও তৈরি করতে পারে। তাই এদুটি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দীর্ঘ মেয়াদে লিভার বিশেষজ্ঞের ফলো-আপে থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে এন্টি-ভাইরাল চিকিৎসা নিতে হবে।4. এ সময় ব্যথার ওষুধ যেমন: প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, ঘুমের ওষুধসহ অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় ও কবিরাজি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। 5. এই সময় রক্তদান করা যাবে না। প্রতিরোধঃ জন্ডিস হলে টিকা নিয়ে কোনো লাভ হয় না। তাই সুস্থ থাকতে আগেই টিকা নিতে হবে। হেপাটাইটিস বি-এর ক্ষেত্রে প্রথম মাসে একটি, দ্বিতীয় মাসে একটি বা ছয় মাসের মধ্যে একটি ডোজ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস এ-এর ক্ষেত্রে একটি ডোজই যথেষ্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই পাঁচ বছর পর পর বুস্টার টিকা দেওয়া হয়।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও