তারেক বয়স ২৮, আমার সমস্যা  মার্চ মাসের সেশের দিক থেকে, অনেক হাসপাতালে গিয়েছি গলার ডাঃ না পাওয়ায় চিকিৎসা বা ঔষধ কনোটাই পাইনি, এখন মে মাস, আমার গলার ডান পাশে কানের নিচে ফুলছে মার্চ এ ছটো ছিল যা এখন বড় ও টাইট হয়েছে সাথে ব্যাথা, অবশেসে ঢাকা মেডিকেলে duty ডাঃ পাই, তিনি FNAC টেস্ট করতে বলে, পিজি হাসপাতালে যাই টেস্টের জন্য ডাঃ সুইয়ের মাধ্যমে ফুলা থেকে কয়েক ফুটা পুজ বের করতে পারে, আর পুজ থেকে ফুলা বেশি, Result Positive TV আছে কিন্তু আমারতো কাশি নাই, যাইহোক এখন ঈদের ছুটি, টেস্ট দেখিয়ে ঔষধ খাবো সব রাস্তা বন্ধ এখন কি করবো ১ বেথা ২ ফুলা, রাতে ঘুমাতে পারি না ফুলা যায়গা চাপ পরে,  খেতেতো ইচ্ছা করেই না, শুখিয়ে গেছি অনেক, কনো ঔষধ  যেমন ফুলা কুমানোর দিলে উপক্রিত হতাম, লকডাউন কবে সেশ হবে কবে ডাঃ দেখাবো, এতো দিনে ফুলা গলা ফেটে মরে যাবো,ফুলা লাল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে পেকে ফেটে যাবে, হেমোপতি ঔষধ খেতে পারবো কি না, হেমোপতি ডাঃ সব সময় পাওয়া যায়, কিছু উপায় বলুম, মায়াতে কিছু পোস্ট করে ১ বারের বেসি কেও reply দেই না প্রশ্ন থেকেই যায়।

ধন্যবাদ গ্রাহক। টিউবারকুলোসিস বা যক্ষা হল একটি ইনফেকশন বা প্রদাহ যা সাধারণত ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদিও হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, মাংসপেশি ও থাইরয়েডগ্রন্থি ছাড়া শরীরের প্রায় যে কোন স্থানেই যক্ষা হতে পারে। এমনকি কিডনি, মেরুদন্ড অথবা মস্তিষ্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে।এটি একমাত্র জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট প্রদাহজনিতরোগ যা সারা বিশ্বে মৃত্যুর কারন হিসেবেদ্বিতীয় অবস্থানে আছে। যক্ষার প্রকারভেদ–চিকিৎসকগণ সাধারণত দু ধরনের যক্ষারকথা বলে থাকেন;–   সুপ্ত যক্ষাযক্ষা সৃষ্টিকারী জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকে ওশারীরিক কোন লক্ষণ প্রকাশ করেনা বাছড়ায় না। কিন্তু যে কোন সময় এটি সক্রিয়হতে পারে।–   সক্রিয় যক্ষালক্ষণ প্রকাশকারি যক্ষা ও সংক্রামকধরনের।টিবি সাধারণত যে কোন বয়সের ক্ষেত্রেদেখা যেতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশিউন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রকোপ বেশিদেখা যায়।যক্ষার কারন–ঃমাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিসনামক জীবাণুর দ্বারা সৃষ্ট যক্ষা বা টিবিসাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, আক্রান্ত ব্যাক্তির ( যাদের ফুসফুসে জীবাণুথাকে) হাঁচি, কাশি, সর্দি, কফ ছাড়াও হাসিবা কথার মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে।তাই দেখা যায়, সংক্রামক রোগ হবারকারনে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কাছের মানুষহয় তবে এই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশিথাকে। আবার সক্রিয় জীবাণুবাহী ব্যাক্তিযদি কমপক্ষে ২ সপ্তাহ পূর্ণ চিকিৎসা পানতাহলে এই রোগ সাধারণত ছড়ায় না।অন্যদিকে যক্ষা চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিকব্যবহার হয়ে আসছে, দেখা যায় এর যথেচ্ছব্যবহারের কারনে যক্ষা সৃষ্টিকারী জীবাণুরনতুন নতুন প্রজাতি তৈরি হচ্ছে, সে ক্ষেত্রেএন্টিবায়োটিক ঠিক মত কাজ করছেনা ওমাল্টি ড্রাগ রেসিস্ট্যাণ্ট টিবি ( এম ডি আর – টিবি) তৈরি হচ্ছে, যার মাধ্যমে সুস্থ ব্যাক্তিআক্রান্ত হচ্ছে।মাল্টি ড্রাগ রেসিস্ট্যাণ্ট টিবি চিকিৎসাযোগ্য ও আক্রান্ত ব্যাক্তি পূর্ণ সুস্থতা লাভকরে থাকেন, তবে বিশেষ যক্ষা নিরামকওষুধের মাধ্যমে।ফুসফুস জনিত যক্ষার লক্ষণ–- সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে  খুসখুসে কাশি- জ্বর বিশেষ করে বিকালে বা সন্ধ্যায়- কাশির সাথে যদি কফ এবং রক্তদেখা যায়- শ্বাস নেয়ার সময় অথবা কাশি বা হাঁচির সময়  বুকে ব্যথা হওয়া- হটাত করে ওজন কমে যাওয়া- শারীরিক দুর্বলতা বা অবসাদ লাগা- খাদ্যে অরুচিভাব বা ক্ষুধা না লাগা - রাতে ঘাম হওয়াফুসফুস বহির্ভূত যক্ষার লক্ষণ–ঃচামড়ায় যক্ষা–  চামড়া ফুলে যায়, লাল হয়ে ওঠে, ঘা হয় এবং কালো কালো দাগ হতে পারে।অন্ত্র ও খাদ্যনালীর যক্ষা–  লক্ষণগুলো হল পেটফাঁপা, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বদহজম, পাতলা পায়খানা, খাবারে অরুচি ইত্যাদি।গ্রন্থি বা গ্লান্ড এর যক্ষা–  গ্রন্থি ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং ব্যথা হয়।শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থির মধ্যে থেকে সাধারণত ঘাড়ের গ্রন্থিগুলোতে এইযক্ষা বেশি হতে পারে।অস্তিসন্ধি, হাড় অথবা শিরদাড়ার যক্ষার ক্ষেত্রে আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যাবে, ব্যথা হবে এবং শিরদাড়া বাঁকা হয়ে যেতে পারে।কিডনির যক্ষা–  পেটের পাশে, কোমড়ের উপরে ব্যথা হয়। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে তবে, অনেক সময় তা খালি চোখে দেখা যায় না। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবংঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।তবে এসব লক্ষণ শুধু মাত্র প্রাথমিকধারনার জন্য, পুরপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্যঅবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ বাঞ্ছনীয়।যক্ষার ঝুঁকি–ঃযদি সময়মত ও নিয়ম মত চিকিৎসা নাকরা হয়, তবে যক্ষা ভয়াবহ আকার ধারণকরতে পারে– যদিও বাতাসবাহিত রোগহওয়ার কারনে মূলত ফুসফুসে সংক্রমণহয়ে থাকে, কিন্তু যক্ষার জীবাণু রক্তেরসাথে মিশে শরীরের অন্যান্য স্থানে প্রভাবফেলে। যেমন–- মেনিনজাইটিস- স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাথা- অস্থিসন্ধির ক্ষয় ও তীব্র ব্যাথা- যকৃত ও কিডনি ( বৃক্ক) বিকল- হৃদরোগ ইত্যাদি।কম রোগ প্রতিরোধকারী ব্যক্তিরাই সাধারণত বেশি যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে থাকেও সক্রিয় জীবাণু বহন করে থাকে। যেমন–এইডস ( এইচ আই ভি)  এ আক্রান্ত ব্যাক্তি, ধূমপায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তি, কিছু ক্যান্সার,অপুষ্টি জনিত কারন, কিডনি রোগাক্রান্ত ব্যাক্তি মাদকসেবীপরিযায়ী বা ঘন ঘন বিদেশ গমনকারি। যক্ষা সনাক্তকরণে সাধারণত রক্ত ও কফপরীক্ষা করা হয়ে থাকে, এছাড়া এক্স–রে ওঅন্যান্য সাধারণ পরীক্ষা চিকিৎসকেরপরামর্শ অনুযায়ী করা হয়ে থাকে।দেখা গেছে যে,  বয়স ভেদে সঠিক মাত্রার, সঠিক সময়ের ও সঠিক এন্টিবায়োটিকএর মাধ্যমে যক্ষা পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব।এম ডি আর টিবি এর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক ছাড়াও অন্যান্য কিছু ওষুধের প্রয়োজন হয় চিকিৎসার জন্য।যক্ষার জন্য সাধারণত লম্বা সময় ধরে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে, পুরোপুরি নির্মূলে সাধারণত ৬ মাসের ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এরচিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে, যক্ষা চিকিৎসায়ব্যবহৃত ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, যেমন– গাঢ় কমলা রঙ এর প্রস্রাব, প্রথমকয়েকদিন হালকা জ্বর, জন্ডিস, অরুচিভাব, বমি ভাব ইত্যাদি। তবে এ জন্যভয়ের কারন নেই। সঠিক চিকিৎসা পেলেআক্রান্ত ব্যাক্তি সহজে ভাল হতে পারেন।সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ওষুধের কোর্সসঠিকভাবে সম্পন্ন করা। এটি ঠিকমত নাকরলে এম ডি আর টিবির সৃষ্টি হতে পারে।তাই ডট পদ্ধতি ( ডাইরেক্টলি অবসারভডথেরাপি বা সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেচিকিৎসা) কাম্য, এর মাধ্যমে পরিবারেরসদস্য বা চিকিৎসা সহকারীরা আক্রান্তব্যাক্তির ওষুধ সেবনের ব্যাপারে সবসময়পরিচর্যা করেন ও ওষুধ নিয়মিতকরননিশ্চিত করেন।প্রতিকার হিসেবে কিছু সাধারণ নিয়মকানুন হল, যক্ষার জীবাণুর সংক্রমণ না ঘটানো; যেমন আক্রান্ত ব্যক্তি ও সুস্থ ব্যাক্তি সবসময় মুখে ও নাকে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন , বিশেষ করে স্কুলে ও জনসমাগম স্থানে।আক্রান্ত ব্যাক্তি রাতে বা দিনে আলাদা ঘরে বিশ্রাম নিবেন ইত্যাদি।সদ্যজাত বাচ্চাদের বিসিজি ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে থাকে এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরির অংশ হিসেবে। বাংলাদেশে ই পি আই এর অংশহিসেবে এ টিকা টি বাধ্যতামূলক করাহয়েছে। সত্যি বলতে টিকা দেয়ার পর ওঅনেকে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অন্যান্য প্রভাবমূলক কারনে। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও