ঘাম শরীরের অত্যাবশ্যকীয় একটি প্রক্রিয়া। ঘাম না হওয়া কখনো কখনো বড় ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ। তবে এর মধ্যেও কারো কারো দেখা যায় অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে। এই অতরিক্ত ঘামও সমস্যা তৈরি করে। ঘাম শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। শরীরের ভেতরে যে তাপমাত্রা আছে- এটি যাতে সহজে বের হয়ে যায় এবং ভেতরে বেশি গরম না হয়ে যায় সে জন্য ঘাম হয়। তার মানে হচ্ছে, ঘাম যখন হয় তখন শরীরের কিছু তাপমাত্রা নিয়ে সে বের হয়ে আসে এবং বাইরের আবহাওয়ায় এসে সেটা শুকিয়ে যায়। অনেকটা এয়ার কন্ডিশন পদ্ধতির মতো। বাইরের সঙ্গে ভেতরের তাপমাত্রা রক্ষা করা। এটা খুব প্রয়োজনীয়। কারণ আমাদের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা দরকার, যেটা আপনারা জানেন, ৯৮ দশমিক ৪ থেকে ৯৯ ফারেনহাইট পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত তাপমাত্রা থাকলেই শরীরের ভেতরে যে কার্যকলাপগুলো থাকে সেগুলো ঠিকমতো হতে চায় না। মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়, অসুস্থ অনুভব করে। এমনকি বিছানায় পড়ে যায়। জ্বর হলেও হয় ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। সে জন্য ঘাম আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রক্রিয়া। গরম আবহাওয়ার মধ্যে বা পরিবেশের মধ্যে যে যাবে তখনই ঘাম হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম কাকে বলে? ওই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা ওই তাপমাত্রায় অনেকে রয়েছে বেশি ঘামা শুরু করে। এই ঘামাটা আরম্ভ হয় বোগল এবং এর ভেতরের অংশগুলো যে ঢাকা থাকে এখানে ঘামতে শুরু করে। এমন অবস্থা হয় যে পরনের পোশাক ভিজে যায়। মুখ পর্যন্ত ভেজা আরম্ভ করে। ওই তাপমাত্রায় অন্যরাও ঘামছে বটে কিন্তু এ রকম নয়। তখন ধরে নিতে হবে স্বাভাবিক যতটুকু ঘাম হওয়ার কথা তার থেকে বেশি হচ্ছে। ঘামের রোগ যাদের আছে তাদের আমরা দুইভাগে ভাগ করি। একটা হচ্ছে নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত ঘামে। যেমন হাত-পা ঘামা আপনি বলছিলেন বা মাথার পেছনটা ঘেমে যাচ্ছে বা মুখটা ভিজে যাচ্ছে এটা হচ্ছে লোকালাইজড হাইপার হাইড্রোসিস। হাইপার হাইড্রোসিস মানে হচ্ছে অতিরিক্ত ঘাম। আরেকটি ভাগ আছে এটি হচ্ছে জেনারালাইজড হাইপার হাইড্রোসিস। এটা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় নয় সারা শরীর ভিজে জব জব করছে। ঘাম সাধারণত ভেতরের রোগের কারণও হয়। যাদের থাইরোয়েড রোগ আছে তারা অতিরিক্ত ঘামে। কিছু কিছু ওষুধ খাওয়ার কারণেও ঘাম হয়। অন্যান্য অনেক রোগ আছে, যেমন যেটার জন্য অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। যেমন, ক্যানসারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। আবার অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই ঘাম হয়। একে অনেক সময় ইডিওপেথিক বলে। হাত পা ঘামে, এটি অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই। কেউ কেউ একটু স্নায়বিক চাপে পড়লেও ঘেমে যায়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে ছত্রাক জনিতরোগগুলো খুব সহজে হয়ে যায়। আমাদের শরীরে যে সাদা সাদা ছুলি হয় এটা অতিরিক্ত ঘামের কারণেই হয়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে অনেক সময় ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হয়ে যায়। এতে শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যায়। এটার পাশ্বর্প্রতিক্রিয়াগুলো আসতে থাকে। লোকালাইজড যদি হয়, ধরুন হাত-পা ঘামছে, তাহলে হাত-পা ঘামার জন্য বিশেষ চিকিৎসা আছে। অ্যালুমোনিয়াম ক্লোরাইড নামে এক ধরনের উপাদান আছে সেটি দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হাত-পায়ের ঘাম বন্ধ করা সম্ভব। কোনো কোনো সময় ইনজেকশন দিয়েও হাত-পা ঘামা বন্ধ করা যেতে পারে। এটি দিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিছু সার্জারি আছে, করলে স্থায়ীভাবে লোকালাইজড ধরনের ঘামা বন্ধ করা যায়। এটা নির্ভর করে হাত-পা ঘামার পরিমাণ কেমন, কতটুকু, তার অসুবিধা হচ্ছে কি না- তার ওপর।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও