প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার কি কোন ধরনের শারীরিক অসুস্হতা আছে ? ভাইরাল জ্বরের পরে শারীরিক  দুর্বলতা হওয়া স্বাভাবিক । একে    Post viral asthenia বলা হয় ।   কিন্ত এই ধরণের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে প্রয়োজন আমাদের একটু সতর্কতা। *সকালের সূর্যের আলো গ্রহন করুন। সকাল ৮-৯ টায় সূর্যের আলোর মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে দেহে ভিটামিন ডি পৌছায় যা আমাদের দেহের হাড়ের গঠন সুগঠিত করার পাশাপাশি আমাদের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সহায়তা করে। মাথা ঘোরানো কিংবা শরীরে শক্তি না পাওয়ার সমস্যা সমাধান করে। *চা/কফি পান কমিয়ে দিন। চা/কফির ক্যাফেইন আমাদের শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে। চা/কফি চা করলে তাৎক্ষণিকভাবে দেহে চাঙা ভাব এলেও এটি আমাদের দেহ পানিশূন্য করে ফেলে যার ফলে আমাদের দেহে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায় ও আমরা দুর্বলতা অনুভব করি। তাই চা/কফি পানের মাত্রা কমিয়ে দিন।*কাজের ফাঁকে খানিকক্ষণ বিশ্রাম গ্রহন করুন। কাজের ফাঁকে খানিকটা সময় পাওয়ার ন্যাপ অর্থাৎ মাত্র ১০ মিনিটের ঘুম দেহের কোষগুলোকে তরতাজা কর তোলে ফলে আমরা কাজের মাধ্যমে যে শক্তি হারাই এবং দুর্বলতা অনুভব করি তা পুনরায় ফিরে আসে। এবং আমাদের শারীরিক দুর্বলতা কেটে যায়। *পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আমাদের দেহ পানিশূন্য হলে আমরা শারীরিকভাবে প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পরি। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ সকলের। দেহ হাইড্রাইট থাকলে শারীরিক দুর্বলতার সমস্যা কেটে যায় একেবারে। * চার ঘণ্টার বেশি না খেয়ে থাকবেন না: আপনার শরীর নিয়মিত খাবারের সাপ্লাই চায়। যা শরীরকে পর্যাপ্ত শক্তির যোগান দিবে। বেশি সময় খাবার না খেয়ে থাকলে শরীরে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে ফলে ওজন বাড়ার বদলে উল্টো কমে যেতে পারে । খালি পেটে তো কিছুতেই থাকবেন না বরং সময়মত বেশি করে খাবার খেয়ে শরীরে খাদ্য ঘাটতি পুষিয়ে ফেলুন। * ক্যালরি যুক্ত খাবার বেশি করে খান: প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। যেমন: বাদাম এবং শস্যদানা, বাদামের মাখন, ডিম, সয়াবিন, কিসমিস, খেজুর, নারকেল দুধ, বাদামী চাল, ওটমিল, বাটার বা তাহিনি, দই, কলা, অলিভ অয়েল, আঙুরের জুস, আনারস, আপেল, কমলা। দুগ্ধজাত খাবার এবং উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যথা মাছ, মাংস ইত্যাদি থাকতে হবে প্রতি বেলার খাদ্য তালিকায়। ড্রিংক হিসাবে কলা, খেজুর এর সাথে একটু মাখন, দুধ অথবা আম, পেস্তা বাদাম, স্ট্রবেরি, কমলা ইত্যাদি শ্রেষ্ঠ পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে জুস তৈরি করে হাতের কাছে রাখুন। এগুলো আপনার শরীরের মাংস পেশীগুলোকে সুগঠিত করতে যথেষ্ট প্রোটিন সরবরাহ করবে। - টমেটোর স্যুপ পান করা। এতে ক্ষুধা বেড়ে যায়। খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছা জাগে। তাছাড়াও টমেটোর স্যুপ পান করলে শরীরে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এভাবে দুর্বলতা কেটে যায়। গাভী অথবা ছাগলের দুধ পান করলে শরীরে শক্তি হয়। মাংসপেশীর দুর্বলতা কাটাতে সামান্য লবণে ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে শরীরে মালিশ করুন। পেশী দুর্বলতা নিমিষেই শেষ হবে।  শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল বা খনিজের ঘাটতি রোধকল্পে বাঙ্গীর সালাত খান। গাজরের হালুয়া শক্তিবর্ধক। দুর্বলও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন গাজর খাওয়া উচিৎ। দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে গাজরের উপকারীতা সবারই জানা আছে। প্রতিদিন সবুজ মেথী সেবন করলে দুর্বলতা দূর হয়   প্রত্যহ সকালে দুধের সাথে একটি কলা খেলে শক্তি বাড়ে। আনার রক্ত পরিষ্কারক করে। নারিকেল খেলে শরীর মোটা হয়। এটি শক্তিবর্ধকও। চুল ঘন ও মজবুত করতে নারিকেল খাবেন। দিনে কমপক্ষে ৩০-৫০ গ্রাম নারিকেল খাওয়া উচিত। প্রতিদিন ঘি খেলে ওজন বাড়ে। ওজন বাড়াতে ঘি ও চিনি একসাথে মিশিয়ে খাবেন। আখ খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। পেটের তাপ দূর হয়। শরীরে শক্তি আসে। কিশমিশ শক্তিবর্ধক। দিনে দুইবার কিশমিশ খাবেন।  ভিটামিনে পরিপূর্ণ পুদিনা পাতা শরীর সুস্থ ও সবল রাখে।*এনার্জি সমৃদ্ধ কিছু খাবার রাখুন হাতের কাছে। যখনই শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন তখন তাৎক্ষণিক ভাবে এমন কিছু খাওয়া উচিৎ যা দেহে শক্তি ফিরিয়ে দেবে। বাদাম, খেজুর এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার হাতের কাছে রাখবেন সব সময়। এতে করে শারীরিক দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠা সম্ভব। * ঘুমাবার ঠিক আগেই দুধ ও মধু খান: রাতের বেলা ঘুমাবার আগে অবশ্যই বেশ পুষ্টিকর কিছু খাবেন। ঘুমাবার আগে প্রতিদিন এক গ্লাস ঘন দুধের মাঝে বেশ অনেকটা মধু মিশিয়ে খেয়ে নিবেন। *পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান। ঘুমের পরিমাণ কম হলেও আমরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পরি। কারণ ঘুমের মাধ্যমে আমাদের দেহের ও মস্তিষ্কের কোষ নতুন করে শক্তি অর্জন করে। যখন ঘুম কম হয় তখন মাথা ঘোরানো এবং দুর্বলতা অনুভব করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুমই দূর করতে পারবে শারীরিক দুর্বলতা।*ব্যায়াম, মেডিটেশন, yoga করতে পারেন। এগুলো আপনাকে সতেজ রাখবে। কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। খাওয়ার রুচি বাড়াবে, দুর্বলতা কমবে। শরীর ফিট রাখবে। * মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন। যা আপনার মেটাবলিজম এ সাহায্য করবে। দুর্বলতা কমাবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও