গ্রাহক, আপনাকে শুভেচ্ছা আপনি মা হতে চলেছেন, আপনার এবং আপনার হবু সন্তানের সুন্দর স্বাস্থ্য কামনা করছি। গর্ভকালীন সময় আপনার শরীরের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।  প্রতিটি পর্যায়ে আপনার শরীরে অনেক পরিবর্তন দেখা দিবে।প্রথমে লক্ষ্য রাখবেন আপনি প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন কিনা।  প্রেগন্যান্সির সময় আপনার মনে হবে খুব তাড়াতাড়ি  আপনার পেট ভরে যাচ্ছে।  সেক্ষেত্রে অল্প অল্প খাবার ঘনঘন খাবেন।  অনেক মহিলাই বমির কারণে বা বমি বমি ভাবের জন্য  একদমই খাওয়ার  ইচ্ছা পোষণ  করেন না। সেক্ষেত্রে যে খাবারগুলোতে বমিভাব বা সমস্যা কম মনে হয় তা নির্বাচন করুন। শুরুর কয়েকমাস পর সাধারনত স্বাভাবিক সব খাবার খাওয়ার মত রুচি ফিরে আসে। গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পুষ্টি খুব জরুরি। আপনার দৈনন্দিন সাধারণ পুষ্টিকর খাবারের সাথে অতিরিক্ত ১ গ্লাস দুধ ও ২ টি অতিরিক্ত রুটি খেতে পারেন। এছাড়া তাজা ফলমূল ও শাক সবজি খাবেন। এসময় পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। ৮ থেকে ১০ গ্লাস। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাদ্য কম খাবেন বা একেবারেই না খাওয়া উচিত। কেননা এতে ঘুম কম হবার ও পানিশূন্যতা হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই পানীয় খেতে চাইলে প্রচুর ফলের জুস, দই, লাচ্ছি খান এবং অবশ্যই এসব বাড়িতে তৈরি করে খাবেন। বাইরের খাবার যত পারবেন তত কম খাবেন। প্রথম ট্রাইমিস্টারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয় না যদি আপনার ওজন সঠিক থাকে। এ সময় কিছু জিনিস অবশ্যই দরকার হয় তার মাঝে একটি হল, ফোলেট বা ফলিক এসিড। ফোলেট কিছু প্রাকৃতিক খাবারে পাওয়া যায়। যেমন -করল্লা, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, মেথি, পুদিনা, ধনিয়া, বাদাম ও কিসমিস। কিন্তু শুধু মাত্র খাবার খেয়ে এর চাহিদা পূরণ হয়না। তাই সাপ্লিমেন্টারি ফুড বা ওষুধ হিসেবে ফলিক এসিড খেতে হয় ডাক্তারের পরামর্শ মতে। সাধারণত ডাক্তাররা ফলিক এসিড ৪০০ মাইক্রোগ্রাম খেতে দেন দৈনিক।ফলিক এসিডের অভাব হলে বাচ্চার spina bifida হয় অথবা neural tube এ সমস্যা হয়। কারণ এ সময়ে বাচ্চার মাথা ও মেরুদন্ডের গঠন শুরু হয় এবং এই গঠনের জন্য ফলিক এসিড খুব দরকার। গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ফল- শাকসবজি, শর্করা ও প্রোটিনযুক্ত খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার তালিকায় রাখতে হবে। ক্যালসিয়াম আরেকটি জ্রুরি পুষ্টিগুন যা প্রেগন্যান্সিতেও প্রয়োজন। দুধ, পনির, দই ইত্যাদি খাবারগুলো ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। পুষ্টিকর স্বাভাবিক সব খাবার গ্রহনের পাশাপাশি আপনি চাইলে মাদারস হরলিক্স গর্ভাবস্থায় খেতে পারেন, তবে যে খাবারই গ্রহন করুন না কেন গুনগত মানের বিষয়টি মাথায় রাখবেন। অধিক চিনিযুক্ত খাবার বা এডেড সুগার থাকে এমন কোন খাবার গ্রহন করবেন না এসময়। বিশেষ করে যেসকল মায়েদের ডায়বেটিস আছে বা ঝুঁকিতে আছেন তারা অতিরিক্ত সুগারযুক্ত খাবার খাবেন না। বমিভাব বা বমি হওয়া, রুচির পরিবর্তন এগুলো যেহেতু গর্ভাবস্থায় প্রায় সবার হয়ে থাকে, এসময় আপনি দুধ সরাসরি খেতে না পারলে সেখেত্রেও মাদারস হরলিক্স মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে কোন মায়ের কোষ্টকাঠিন্য বা অন্য কোন সমস্যা মনে হলে কোন খাবার গ্রহনের জন্য সেটি গ্রহন করবেন না। গর্ভাবস্থায় আয়রন, ফলিক এসিড, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম সহ যে পুষ্টিগুনগুলো প্রয়োজন তা মাদারস হরলিক্সে বিদ্যমান বলে উল্লেখিত আছে, তবে এটি খেতেই হবে বা শুধু এটি থেকে পুষ্টি পাবেন একজন গর্ভবতী মা বিষয়টি এমন নয়, প্রাকৃতিক যেসকল খাবারে এধরনের পুষ্টিগুন আছে সেগুলো অবশ্যই গ্রহন করতে হবে, পাশাপাশি আপনি এটি খেতে পারেন। তবে ডায়বেটিস থাকলে হরলিক্স খাবেন না, অন্য কোন শারীরিক সমস্যা থাকলেও অবশ্যই আপনার গাইনী ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে খাবেন না। সর্বোপরি, গর্ভাবস্থায় অবশ্যই একজন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শে থেকে নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হবে। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও