আমি বিগত ৩ বছর ধরে এক ধরনের যদির সম্যাসায় ভুগছি, যেমন - আমার বাচ্চাকে নিয়ে বাহিরে গেলে মনে হয়, আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে বাচ্চাটা কোথায় যাবে, আর এমন অনেক সময় যদি এসে মাথায় ভর করে, তখন দম বন্ধ হয়ে আসে, দীর্ঘ শাস নিতে মন চায়, হাত পা ঘামতে থাকে, মনে হয় পেসার বেরে গেছে  , ঘুমাতে ও মাঝেমধ্যে সম্যাসা হয়, তাই  ১ বছর আগে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ছিলাম সে (ইসিটা১০,রিপোজ৫০,এনজিলক২৫)এই ঔষধ গুলো দিয়ে ছিলো, খাওয়ার পরে ভালোই ছিলাম ঔষধ খাওয়া বন্ধ করলে আবার একই সম্যাসা, এখন আবার নতুন সম্যাসা হলো আমার বউয়ের মুখে কোন ভালো কথা শুনলেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, আমি নিজে থেকেই নামাজ পরি কিন্তু আমার বউয়ের মুখে নামাজের কথা শুনলেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে, আমি তো আগে ভালোই ছিলাম, কেন হঠৎ এমন হলো, আমি কি আগের মতো ঔষধ খাওয়া ছাড়া নরমাল হতে পারবো না।দয়া করে পরামর্শ চাই

সম্মানিত গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। যদির সমস্যা বলতে আপনার মাথায় মূলত বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসে যার ফলে আপনি সমস্যায় পরছেন তাই নয় কি?  গ্রাহক, চিন্তা আমাদের সবার মাথায়ই আসে কিন্তু এটা তখনই সমস্যা হয় যখন আমরা চিন্তাগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রভাবিত হই। চিন্তার দ্বারা আমাদের আবেগ, আচরণ, শারীরিক প্রতিক্রিয়া সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনার ক্ষেত্রে চিন্তার কারণে কি ধরনের প্রভাব পরছে আমাদের জানাবেন কি? আপনার মাথায় যে চিন্তা গুলো আসে সে চিন্তা গুলো লিখে ফেলুন। এবং এই চিন্তা গুলোর সত্যতা যাচাই করুন। সত্যতা যাচাই করার জন্য এর পক্ষে কি কি যুক্তি আছে এবং এর বিপক্ষে কি কি যুক্তি আছে দেখুন। এবং ঐ চিন্তার শেষটা নামিয়ে ফেলুন। পরবর্তীতে যখন ঐ চিন্তাটা আসবে তখন সত্যতা যাচাই করে যে শেষটা এসেছিল সেই অনুযায়ী আচরণ করতে পারেন। যে চিন্তাগুলো সঠিক নয় তার পরিবর্তে অলটারনেটিভ চিন্তা করতে পারেন। এর বাইরে আপনার কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখবে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন।মেজাজ খারাপ বা রাগের যে বিষয়টি আপনি বলেছেন খেয়াল করবেন আপনি সব বিষয়ে সমান পরিমানে রাগ হন না আবার একই বিষয়ে সব সময় একই মাত্রার রাগ হন না। সেক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে রাগের ক্ষেত্রে আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় কাজ করে যেমনঃ কোন একটা বিষয় এমনই হতে হবে এটা কাজ করে (always, should, must)। এই always, should, must থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আপনি আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে মনে করছি।  এছাড়া ব্যায়াম, মেডিটেশন কিংবা পছন্দের কোন কাজও করতে পারেন। সুতরাং আপনি নিজের রাগকে কন্ট্রোল করার জন্যঃ ১। যে যে কারণে রাগ হয় তা চিহ্নিত করা যাতে পরবর্তীতে সচেতন থাকা যায়, ২। যখন রাগ হয় তখন একটু থেমে নিজেকে সময় দিন, ৩। লম্বা ও গভীর শ্বাস নেয়া, ৪। এক গ্লাস শীতল পানি পান করা, ৫। জায়গাটি ত্যাগ করে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরানো, ৬। ইয়োগা কিংবা মেডিটেশন করতে পারেন।ওষুধ ছাড়াও মানসিক সমস্যাগুলোর জন্য মনোবিজ্ঞানীরা কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি প্রদান করে থাকেন। আপনি ডাক্তারের ওষুধের পাশাপাশি একজন সাইকোলোজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানীর শরনাপন্ন হউন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়া কে জানাবেন। আপনার পাশে সব সময় আছে মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও