আসসালামু আলাইকুম। আমার বিয়ে হয়েছে ছয় বছর ,দুজনেই প্রেম করে বিয়ে করেছি কিন্তু পরিবারের সম্মতিতে, আমি শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারে একটি মেয়ে বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ির গ্রামে খুবই নিম্নবিত্ত ,আর আমার হাজবেন্ডের পরিবার অনেক বড় বলতে গেলে 20 জন একসাথে থাকে তারা নয় ভাই বোন । অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু সেই পরিবারে নিজেকে কখনোই মানিয়ে গুছিয়ে নিতে পারেনি। আর তারাও আমাকে কখনো ভালোভাবে নিতে পারেনি। তাদের সাথে  আমার সম্পর্ক খুবই খারাপ, আমার স্বামী আমাকে আলাদা একটা বাসা নিয়ে রেখেছে। কিন্তু তার পরিবার থেকে  সবসময় তাকে আমার বিষয়ে অভিযোগ করা হয় এবং সে বিষয়েও আমাদের সংসারে অশান্তি চলতেই থাকে। আমরা ভালো করে শান্তিতে থাকতে পারিনা, আমি ভালো আছি একা আছি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ আমাকে সহ্য করতে পারে না সত্যি বলতে আমি ও তাদেরকে পছন্দ করিনা,  সবসময় আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য তা চলতেই থাকে, আমি বিগত দুই মাস যাবত রাগ করে বাবার বাড়িতে আছি এখন আমি তার সাথে মানিয়ে গুছিয়ে নিতে পারছিনা কিন্তু সে আমাকে খুব ভালোবাসে আমিও তাকে খুব বেশি ভালোবাসি। এ বিষয় নিয়ে আমার রাতে ভালো করে ঘুম হয় না সব সময় আমি ডিপ্রেশনের ভুগি। আরেকটা কথা বলে রাখি আমার অনেক বেশি রাগ আমি অল্পতেই খুব বেশি রেগে যাই। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করব অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারছি না আর এই অবস্থায় আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না আমার কি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত যদি হয় তাহলে আমি কিভাবে বেরিয়ে আসবো? তা না হলে তো আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না, আর আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসি সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে তবুও আমাদের মধ্যে সমস্যা তো আছেই? এসব কিছু নিয়ে আমি অনেক ডিপ্রেশনে ভোগি, রাতে ভালো ঘুম হয় না, আমি ভালো করে বুঝিয়ে বলতে পারছিনা। আপনাদের পরামর্শ আশা করছি।

গ্রাহক,আপনার মনের কথা সুন্দর করে প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ। আপনি নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন যা খুব ইতিবাচক দিক।আপনার প্রশ্ন হচ্ছে রাগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এবং সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় আছেন , তাই কি?আপনি জানিয়েছেন আপনার এবং শ্বশুরবাড়ি পরিবেশ আলাদা মানে হচ্ছে আপনার সংকৃতি, চিন্তা, দর্শন এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন তাদের থেকে যা স্বাভাবিক। সমাজ, পরিবার ভিন্ন ভিন্ন হলে এসব আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। দেখতে হবে আপনাদের কি কি স্থানে মিল হচ্ছে না এবং এসব কারণে কি রকম প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। আপনি জানিয়েছেন অনেক চেষ্টা করেছেন মানিয়ে নিতে কিন্তু আর হয়ে উঠেনি। উদাহরণ দিয়ে প্রেক্ষাপট জানালে মানে কি রকম আচরণ উনারা করে এবং আপনি কিভাবে চেষ্টা করেছেন মানিয়ে নিতে বিস্তারিত জানালে বুঝতে সুবিধা হত।আপনি ভেবে দেখতে পারেন তাদের আচরণ যৌক্তিক কিনা এবং কোনভাবে কমপ্রোমাইজ করার অবকাশ আছে কিনা। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রেখে খোলামেলা করে আলোচনার সুযোগ আছে কিনা যেন অশান্তি পরিবেশ কমিয়ে শান্তি বজায় রাখা যায়। তাদের মনোভাব জানা এবং আপনার কথা জানানোর মাধ্যমে হয়তো কোন সমাধান হতে পারে। আপনার স্বামীর মতামত কি এ বিষয়ে এবং তিনি কি রকম ভূমিকা রেখেছে যেন পারিবারিক কলহ কমে আসে তা ভেবে দেখতে পারেন। এ সম্পর্কে থেকে কি কি অসুবিধা হচ্ছে এবং কি সুবিধা আছে একইভাবে এ সম্পর্কে থেকে বের হলে কি কি সুবিধা হবে এবং কি কি অসুবিধা হতে পারে সমস্ত দিক চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।রাগ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আনন্দ,দুঃখ,ভুয় এই অনুভূতির মতই রাগ। যেকোন কারণে যেকোন সময় রাগ অনুভূত হতে পারে।  খেয়াল রাখতে হবে এর ফলে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিনা ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক,পেশাগত জীবনের উপর। যেসব কারণে রাগ হয় তা হচ্ছে- প্রত্যাশা পূরণ না হলে/মনের কথা প্রকাশ করতে না পারলে/ মানসিক চাপে থাকলে/ অন্যকিছু নিয়ে চিন্তিত থাকলে ইত্যাদি। রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে ,যেমনঃ --মানসিকভাবে স্থির হওয়া/ --গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া এর ফলে নেতিবাচক চিন্তা বাঁধা পায় এবং মনোযোগ পরিবর্তন হয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে/ --স্থান পরিবর্তন করা এতে নিজেকে সময় দেওয়া যায় ইতিবাচক চিন্তা জন্য এবং নেতিবাচক কোন ঘটনা না ঘটনার জন্য/--এক গ্লাস পানি পান করা এতে নেতিবাচক চিন্তায় বিঘ্ন ঘটে/ --ইতিবাচক চিন্তা করা/ নিজের আচরণের দায়িত্ব নিজে নেওয়া/ --নিজের অবস্থা বুঝা সেই সাথে তা অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মনের ভাব প্রকাশ করা এবং অন্যের অবস্থা বুঝতে চেষ্টা করা/-- মেডিটেশন করা এর ফলে চিন্তা,অনুভূতি এবং আচরণ এর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আশা করি আপনাকে সহযোগিতা করতে পেরেছি, ধন্যবাদ।  

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও