গ্রাহক, গর্ভাবস্থায় খাদ্য তালিকা এমন হওয়া উচিত যেন তা নিম্নোক্ত চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে। ক) মায়ের ভালো স্বাস্থ্য রক্ষা খ) বাচ্চার সঠিক বেড়ে ওঠা গ) প্রসবের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ শক্তি যোগানো ঘ) এবং প্রসব পরবর্তীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বুকের দুধ সরবরাহ করা। গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি দরকার পড়ে, কেননা, এ সময়ে মায়ের কোষ, ফিটাস, প্লাসেন্টা বা অমরা গঠিত হয়। তাই এ সময়ে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত খাবার খেতে হয়। গর্ভাবস্থা সাধারণত ৯ মাসের কিছু বেশি দিন থাকে। এই ৯ মাসকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ৩ মাস কে ফার্স্ট ট্রাইমিস্টার, দ্বিতীয় ৩ মাসকে অর্থাৎ ৪-৬ মাস কে সেকেন্ড ট্রাইমিস্টার এবং ৬ মাসের পর থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কে থার্ড ট্রাইমিস্টার বলে। ট্রাইমিস্টারের গুরুত্ব অনেক। একেক ট্রাইমিস্টারে শিশুর গ্রোথ বা গঠন একেক রকম। তাই ট্রাইমিস্টার অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করা উচিত। প্রথম ট্রাইমিস্টার বা গর্ভধারণের পর প্রথম ৩ মাসঃ গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেক মহিলা অনেক চিন্তিত থাকেন তাদের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে। বিশেষ করে যারা প্রথম মা হতে যাচ্ছেন তারা ভাবেন এ সময়ে অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে। ফলে প্রচুর খাবার খেয়ে ওজন অতিরিক্ত বাড়িয়ে ফেলেন। পরে এজন্য অনেক ক্ষতি হয় মা এবং বাচ্চা দুজনেরই। এ সময়ে আপনার দৈনন্দিন সাধারণ খাবারের সাথে অতিরিক্ত ১ গ্লাস দুধ ও ২ টি অতিরিক্ত রুটি খেতে পারেন। এছাড়া তাজা ফলমূল ও শাক সবজি খাবেন। ধূমপান এ সময়ে একদমই করবেন না। কারণ, এতে করে কম ওজনের বাচ্চা জন্মানোর ও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এসময় প্রচুর পানি খাবেন। ৮ থেকে ১০ গ্লাস। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাদ্য কম খাবেন। কেননা এতে ঘুম কম হবার ও পানিশূন্যতা হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই পানীয় খেতে চাইলে প্রচুর ফলের জুস, দই, লাচ্ছি খান এবং অবশ্যই এসব বাড়িতে তৈরি করে খাবেন। বাইরের খাবার যত পারবেন তত কম খাবেন। প্রথম ট্রাইমিস্টারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয় না যদি আপনার ওজন সঠিক থাকে। এ সময় কিছু জিনিস অবশ্যই দরকার হয় তার মাঝে একটি হল, ফোলেট বা ফলিক এসিড। ফোলেট কিছু প্রাকৃতিক খাবারে পাওয়া যায়। যেমন -করল্লা, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, মেথি, পুদিনা, ধনিয়া, বাদাম ও কিসমিস। কিন্তু শুধু মাত্র খাবার খেয়ে এর চাহিদা পূরণ হয়না। তাই সাপ্লিমেন্টারি ফুড বা ওষুধ হিসেবে ফলিক এসিড খেতে হয় ডাক্তারের পরামর্শ মতে। ফলিক এসিডের অভাব হলে বাচ্চার spina bifida হয় অথবা neural tube এ সমস্যা হয়। কারণ এ সময়ে বাচ্চার মাথা ও মেরুদন্ডের গঠন শুরু হয় এবং এই গঠনের জন্য ফলিক এসিড খুব দরকার। তাই অবশ্যই ফলিক এসিড খাবেন ডাক্তারের সাথে কথা বলে। গর্ভকালীন সময়ে আনারস, কাচা পেপে, অতিরিক্ত গাজর খেলে অনেকের সমস্যা হয়, তাই আপনি এই খাবার গুলো খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন। সব ধরনের ভাজা পোড়া খাবার, কোল্ড ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস, চা, কফিও কম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, পারলে বাদ দিবেন। সেইসাথে কাচা কোন খাবার খাওয়া যাবে না। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়াকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও