প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। এটি নির্ভর করে আপনার কত দিন পর বাচ্চা নিতে চান। এর জন্য অনেক রকম পদ্ধতি আছে। যার মধ্যে কিছু স্বল্প মেয়াদী আর কিছু আছে দীর্ঘ মেয়দী। তবে কপার টি শুধু মাত্র যদি আপনার একটী বাচ্চা থেকে থাকে। যেকোন পদ্ধতি নেয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়, কারন যিনি নিবেন উনার শরীর এই সকল পদ্ধতি মানিয়ে নিতে পারবে কি না তা দেখতে হয়।জন্মনিয়ন্ত্রণ অস্থায়ী ব্যবস্থাসমূহখাবার বড়ি :বহুল ব্যবহৃত ১টি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ‘খাবার বড়ি’। ১টি বড়ির পাতায় সাধারণত ২৮টি বড়ি থাকে। ২১টি সাদা রঙের বড়ি এবং ৭টি খয়েরি রঙের আয়রন বড়ি। সাদা বড়িতে ২টি হরমোন আছে যা গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে।এটি প্রতিমাসে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ রাখে। জরায়ুর মুখের রসকে ঘন করে ফলে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে গেঁথে যেতে দেয় না।সঠিকভাবে গ্রহণ করলে এটি ৯৭ থেকে ৯৯ ভাগ কার্যকর। মাসিকের ১ম দিন থেকে ২১ দিন পর্যন্ত নিয়মিত একই সময়ে সাদা বড়ি খেতে হয়। এরপর প্রতিদিন ১টি করে আয়রন বড়ি বা লাল বড়ি খেতে হবে। খয়েরি বড়ি বা আয়রন বড়ি খাওয়া শুরু করার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সাধারণত মাসিক শুরু হয়। মাসিক শেষ হোক বা নাই হোক খয়েরি বড়ি শেষ হবার পরদিন থেকেই ১টি নতুন পাতা থেকে পূর্বের নিয়মে পুনরায় সাদা বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে।১ দিন বড়ি খেতে ভুলে গেলে পরদিন মনে হবার সঙ্গে সঙ্গে ১টি (ভুলে যাওয়া বড়ি) এবং নির্ধারিত সময়ে আরো ১টি (ঐ দিনের জন্য নির্ধারিত) বড়ি খেতে হবে। অর্থাৎ সেদিন ২টি বড়ি খেতে হবে।গর্ভপাত বা গজ করাবার পরপরই বড়ি খাওয়া শুরু করতে হয়।ডায়রিয়া বা বমির কারণে খাবার বড়িটি ঠিকমতো শরীরে শোষিত না হলে অনেক সময় বড়ি গ্রহণ অবস্থায়ও মহিলারা গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন।খাবার বড়ি গ্রহণে মাসিকের সময়ের অতিরিক্ত পেটে ব্যথা, রক্তশূন্যতা, ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যান্সার, একটোপিক প্রেগনেন্সি, স্তনের টিউমারের ঝুঁকি কমে যায়। এ ছাড়া তার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে।শতকরা ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রে খাবার বড়ি বন্ধ করার ৩ মাসের মধ্যে ঙাঁষধঃরড়হ নিয়মিত হয়ে যায় এবং মহিলাটি চাইলে আবার গর্ভবতী হতে পারে।খাবার বড়ি গ্রহণে অনেকের ১ম দিকে বিশেষ করে ১ম ৩ থেকে ৪ মাসে ছোটখাটো অসুবিধা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন বমিভাব, মাথা ধরা, ফোঁটা ফোঁটা রক্ত যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, স্তন ভারী বোধ করা, মুখে কালো ছোপ পড়া ইত্যাদি। এর বেশির ভাগই পরবর্তীতে চলে যায়।তবে অনেকের রক্তে ঈযড়ষবংঃবৎড়ষ বা চর্বির মাত্রা বেড়ে যায়, লিভারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়, পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে যাবার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।কনডম :পুরুষদের ব্যবহারের জন্য ১টি নিরাপদ, অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি ব্যবহারে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না।সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শতকরা ৯৭ ভাগ কার্যকর। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। পাশাপাশি এটি যৌনবাহিত রোগ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।প্রতিবার সহবাসের সময় ১টি নতুন কনডম ব্যবহার করতে হয়। ৫ বছরের বেশি পুরোনো বা মেয়াদউত্তীর্ণ কনডম ব্যবহার করা উচিত নয়।ইনজেকশন :সহজ, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ আরেকটি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এই ইনজেকশন। এটি ৩ মাস মেয়াদি। কার্যকারিতার হার শতকরা ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ।এটি ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে বাধা দেয়, জরায়ুর মুখের রসকে ঘন ও আঠালো করে, যাতে শুক্রাণু প্রবেশ করতে না পারে এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণকে গর্ভসঞ্চারের অনুপযোগী করে গড়ে তোলে।হাত বা নিতম্বের গভীর মাংসপেশিতে মাসিক শুরু হবার ৭ দিনের মধ্যে ইনজেকশন নিতে হয়। যারা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন কিংবা প্রতিদিন মনে করে বড়ি খেতে অসুবিধা বোধ করেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।এটি গ্রহণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে, অনেক দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে বা ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব যেতে পারে, এ পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার ৬ থেকে ১২ মাস পর মাসিক ফেরত আসতে পারে। নরপ্ল্যান্ট :১টি দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নাম নরপ্ল্যান্ট। কার্যকারিতার মেয়াদ ৫ বছর। নরপ্ল্যান্টের সেটে ৬টি ছোট নরম চিকন ক্যাপ্সুল থাকে, যা মহিলাদের হাতের ভেতরের দিক- কনুইয়ের ওপরে- চামড়ার ঠিক নিচে স্থাপন করা হয়।শতকরা ৯৯ ভাগ কার্যকর। এটি ১ বার গ্রহণে পরবর্তী ৫ বছর অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের ঝামেলা থাকে না। মেয়াদ শেষ হবার আগেও এটি খুলে নেয়া যাবে।নরপ্ল্যান্ট লাগাতে ও খুলতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারের সাহায্য নিতে হয়। হাতের চামড়ার নিচে হালকাভাবে দেখা যায় বলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। নরপ্ল্যান্ট লাগানোর ১ মাস পর ক্লিনিকে এসে পরীক্ষা করাতে হয়। পরবর্তীতে ৬ মাস পর এবং এরপর প্রতি বছরে ১ বার এসে পরীক্ষা করাতে হয়।ইমার্জেন্সি পিলঃ- যদি কোনো দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ কোনো পদ্ধতি গ্রহণ ছাড়াই দৈহিক মিলনে লিপ্ত হন কিন্তু তারা এখন হয়তো বাচ্চা নিতে চাইছেন না, এছাড়া যদি তারা বুঝতে পারেন তাদের ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি হয়তো ঠিকমতো কাজ করবে না, সে ক্ষেত্রে দৈহিক মিলনের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার পার্থক্য ২টি ট্যাবলেট খাবার উপদেশ দেয়া হয়।অথবা একটি মাত্র পিল আছে তা সহবাসের ৭২ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে।এটি শতকরা ৯৮ ভাগ কার্যকর। তবে যদি ওষুধ খাবার ৩ সপ্তাহের মধ্যে মাসিক না হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলা হয়। আর এটি মাসে একবারের বেশি খাওয়া উচিত নয়।কপার টিঃ- একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করতে হয়। প্রকার ভেদে এটি ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারে। সফলতার হার ৯৭ থেকে ৯৯ ভাগ। মেয়াদ শেষের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি দিয়ে খুলিয়ে নতুন ওটঈউ পরা যায়। এটি জরায়ুর ভেতরে শুক্রাণু চলাচলের পথে বাধা তৈরি করে ফলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলতে পারে না এবং জরায়ুর গায়ে ভ্র্রণটিকে গেঁথে যেতে দেয় না।যারা হরমোন জাতীয় পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না তাদের জন্য এটি আদর্শ পদ্ধতি। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মহিলাটিকে ১টি জীবিত সন্তানের মা হতে হবে।এর নিচের দিকে ১টি নাইলনের সুতা থাকে এই সুতার সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা যায় ওটঈউটি ঠিক জায়গায় আছে কিনা। এছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে করে এর অবস্থান শনাক্ত করা যায়।অনেক সময় এটি আপনাআপনি বের হয়ে যেতে পারে তাই প্রত্যেক মাসিকের পর সুতাটিকে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। ব্যবহারকারীরা প্রায়ই ফোঁটা ফোঁটা রক্ত যাওয়া, তলপেট মোচড়ানো ব্যথা, অতিরিক্ত স্রাব যাওয়া অভিযোগ করেন।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও