Internet Org

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত

আপা জরায়ু ক্যান্সার কি,,, এর লক্ষন,,,, হওয়ার কারন,,,,এবং এর থেকের আরোগ্য লাভের উপায় কি কি,,,বিস্তারিত পয়েন্ট আকারে লিখবেন প্লিজ,,,

Internet Org  প্রশ্ন করা হয়েছে Aug 9, 2017

প্রশ্নের কোড নম্বর 319729


প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।সাধারণত জরায়ুর নিচের সরু অংশ যা জরায়ুর মুখ বা সারভিক্স বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। যোনিপথের ওপরের অংশ থেকে শুরু করে জরায়ুর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। জরায়ু-মুখের ক্যান্সার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের শতকরা ৩০ ভাগই হচ্ছেন জরায়ু মুখের ক্যান্সারের শিকার।কারণ:মূল কারণ না জানা গেলেও নিম্নোক্ত রিক্স ফ্যাক্টরসমূহকে জরায়ু ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়-২টি বয়সে বেশি দেখা যায়৷ ৩৫ বছরে এবং ৫০-৫৫ বছরে৷অল্প বয়সে বিয়ে হলে (১৮বছরের নিচে) বা যৌন মিলন করে থাকলে।২০বছরের নিচে গর্ভধারণ ও মা হওয়া।অধিক ও ঘনঘন সন্তান প্রসব।বহুগামিতা।স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং জননাঙ্গের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা।বিভিন্ন রোগ জীবাণু দ্বারা জরায়ু বারে বারে আক্রান্ত হলেও জরায়ু ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেমন - হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস।লক্ষণ:প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ নাও থাকতে  পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়-অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়া।ঋতু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১ বছর পরেও রক্তস্রাব দেখা যাওয়া।যৌনসঙ্গমের পর রক্তস্রাব হওয়া।যোনিপথে বাদামি অথবা রক্তমিশ্রিত স্রাবের আধিক্য দেখা দেওয়া।সাদা দুর্গন্ধযুক্ত যোনিস্রাব হওয়া। একদিন বা একমাসে হঠাৎ করে জরায়ু-মুখে ক্যান্সার হয় না। জরায়ু মুখ আবরণীর কোষগুলোতে বিভিন্ন কারণে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে ক্যান্সারের রূপ নেয় এবং এই পরিবর্তন হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আমাদের দেশে জরায়ু-মুখ নিয়মিত পরীক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। এর ফলে জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ রোগীরা আসেন শেষ পর্যায়ে এবং ইতিমধ্যে ক্যান্সার ছড়িয়ে যায় এবং অপারেশন করা আর সম্ভব হয় না।প্রতিকার:রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেওয়া হলো বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয় না, তবে জরায়ু-মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ু-মুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। ক্যান্সারপূর্ব অবস্থাধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জরায়ু ফেলে দেবার প্রয়োজন হয় না এবং চিকিৎসার পরও সন্তান ধারণ সম্ভব। ভিজুয়াল ইন্সপেকশন অফ ছারভিক্স উইথ এছিটিক এসিড (VIA) এই পদ্ধতির জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব –ক্যান্সার হওয়ার আগে খালি চোখে জরায়ু মুখে কোনরকম ক্ষত বা চাকা দেখা যাবে না৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পদ্ধতিতে জরায়ু মুখের ক্যান্সারপূর্ব অবস্থাশনাক্ত করা হয় তাকে ভায়া বলে৷চিকিৎসা:দ্রুত রোগ ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া যেতে পারে৷কিন্তু দেরী হয়ে গেলে রোগ ছড়িয়ে পরবে৷কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়৷প্রতিরোধঃপ্রতি তিনবছর অন্তর স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে জরায়ু-মুখ অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে।৩০ বছরের বেশি বয়স হলেই জরায়ু-মুখ অবশ্যই  পরীক্ষা করাতে হবে৷ তবে ১৮ বছরের পূর্বে  এবং বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়স হলেই জরায়ু মুখ পরীক্ষা করাতে হবে।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

  উত্তর দেয়া হয়েছে Aug 9, 2017

প্রশ্নের কোড নম্বর 319729


মন্তব্য


পরিচয়বিহীন

সম্পর্কিত নিবন্ধ সমূহ

  • list শিশুকে দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ রাখুনঃ ফার্স্ট এইড
  • list শিশুদের ভালোর জন্য প্রাত্যহিক সূচির গুরুত্ব