জী হ্যাঁ গ্রাহক, প্রেগন্যান্ট অবস্থায় মাথা ঘুরতে পারে। গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এমন বোধ হয়। আপনার মস্তিষ্ক যদি যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত (যার মধ্যে অক্সিজেন থাকে) না পায়, তাহলেই অজ্ঞান হবার মতো অবস্থা তৈরি হয়। যদি আপনার শরীরে সার্বিকভাবে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় তাহলেও আপনি জ্ঞান হারাতে পারেন বা অচেতন অনুভব করতে পারেন।দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে বর্ধিত জরায়ু ও বাচ্চা শরীরের নিম্নাংশের রক্তনালীর উপর চাপ ফেলতে থাকে যার কারনে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। আমাদের শরীর এই পরিবর্তনগুলোর সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে মাঝে মাঝে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেনা। তখন মায়দের মাথা ঘুরে ওঠা, অচেতন অনুভব হওয়া বা কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারানোর অনুভুতি হতে পারে। হঠাৎ বসা বা দাঁড়ানো বা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার কারনে মায়ের ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে এবং এ ধরনের অনুভুতি হতে পারে।অতিরিক্ত গরমের কারণেও এ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় এমনিতেই মায়ের গরম বেশী লাগে কারণ এ সময় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ত্বকে রক্ত চলাচল বেশী থাকে। গর্ভাবস্থায় আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে উঠানামা করে এবং রক্তে কম শর্করা আপনাকে অচেতন করতে পারে।এনেমিয়া বা রক্তশূন্যতার কারণেও জ্ঞান হারানোর অনুভুতি হতে পারে কারণ এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে এবং মায়ের শরীরের অন্যান্য অংশে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত লোহিত রক্ত কণিকা থাকেনা। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তার কারণে মায়েদের শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেলেও এমনটা হতে পারে।যদি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আপনার জ্ঞান হারানোর মতো ভাব হয় তাহলে তাড়াতাড়ি কোথাও বসে পড়ুন,  যদি সম্ভব হয় দুই হাটুর মাঝখানে মাথা দিয়ে বসার চেষ্টা করুন (গর্ভাবস্থার শেষ দিকে যদিও এভাবে বসাটা সম্ভব নাও হতে পারে)। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারানোর ভাব কেটে যাবে।যদি তা না হয় তাহলে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন। এতে শরীরে এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং অচেতন অনুভূতি আস্তে আস্তে কেটে যাবে। যদি চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় অজ্ঞান হবার মতো অনুভব করেন তাহলে পাশ ফিরে শোন। গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে কিংবা প্রসব- বেদনার সময় পিঠ সোজা করে চিৎ হয়ে না শোয়াই ভালো।গভীরভাবে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করুন। কাপড় চোপড় আলগা করে দিন। কাউকে বলুন ঘরের দরজা জানালা খুলে দিতে। কপালে ভেজা কাপড় রাখলেও সাহায্য হতে পারে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও