প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। প্রথমত জানা জরুরি যে আপনার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি থেকে ও কবে থেকে ? আপনার হাঁপানির সমস্যা আছে কিনা ? কোন কিছু যেমন খাদ্য হতে অ্যালার্জি জনিত কাড়নে , সিঁড়ি উঠানামা বা ভারী কাজকর্ম করলে শ্বাসকষ্ট হয় কিনা ? সাধারণত শ্বাসকষ্টের পিছনে কিছু না কিছু কাড়ন থাকে, এর থেকে পরিত্রাণের জন্য ঐ সকল কাড়নসমূহ নির্মূল করায় দ্রুত উপক্রিত হওয়া যায় । সালফেট যুক্ত কিছু খাবার ও ঔষধ, অ্যালার্জি, বায়ু দূষণ, শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমন, মানসিক চাপ, আবহাওয়ার পরিবর্তন ইত্যাদির কারনে হাঁপানির বা শ্বাসকষ্টের আক্রমণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট নিরাময়ের জন্য যদি আপনার কোন উপসর্গ থেকে থাকে যেমন হৃদরোগ বা হাঁপানি তাহলে অবশ্যই ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিসিন আছে যেগুলো আপনাকে সকল সময় বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের সময় দ্রুত সেবন করে নিতে হবে । যদি ইনহেলার ব্যবহার করেন তবে তা সকল সময় সাথে রাখবেন । ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হোল - # ভারী জিনিশ উঁচু করবেন না, সিঁড়ি উঠানামা কম করবেন, দৌড়াদৌড়ি বা লাফালাফি যা করলে আপনাই হাঁপিয়ে জান শেগুলো পরিহার করতে হবে । # ধুলোবালি এড়িয়ে চলবেন , যেসকল খাদ্যে যেমন বাদাম , চিংড়ি মাছ এগুলোতে অনেকের অ্যালার্জি হতে শ্বাসকষ্টের উপক্রম দেখা যায় তাই লক্ষ্য করবেন কি থকে হচ্ছে সেসকল খাদ্য পরিহার করতে হবে। # রাতে শোবার সময় ও সকল সময় দুই বালিশে মাথার দিক টি যাছে সম্পূর্ণ শরীরের থেকে উঁচু থাকে সেভাবে শুবেন । # আদা: হাঁপানির কষ্ট উপশমে সামান্য একটু আদা লবন দিয়ে খেতে পারেন। সমপরিমাণ আদার রস, বেদানার রস এবং মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণ থেকে ১ টেবিল চামচ করে দিনে ২-৩ বার খেতে পারেন।এছাড়া ১ চা চামচ আদার গুঁড়া দেড় কাপ পানিতে মিশিয়ে সেই মিশ্রণ থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ টেবিল চামচ খেতে পারেন।১ ইঞ্চি আদার টুকরো কুঁচি করে কেটে বেশ অনেকটা পানি দিয়ে কম আঁচে ৫ মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে খেতে পারেন হাঁপানির সমস্যা কমাতে। #সরিষার তেল:যখন শ্বাসকষ্টের আক্রমণ হয় তখন কিছুটা সরিষার তেল কুসুম গরম করে বুকে এবং পিঠে মালিশ করলে শ্বাস প্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার হয় এবং স্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে। #মধু:মধু হচ্ছে হাঁপানির সবচেয়ে পুরনো নিরাময়ক উপাদান। মধুতে থাকা অ্যালকোহল এবং ইথারিয়েল তেল হাঁপানির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।অনেক সময় শুধুমাত্র মধু গন্ধ শুঁকেই অনেকে ভালো ফলাফল পেয়ে যায়।এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১চা চামচ মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন দিনে ৩ বার।রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ১ চা চামচ মধুর সাথে আধা চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি গলার কফ দূর করতে এবং ভালো ঘুমাতে সাহায্য করবে। #পেঁয়াজ:পেঁয়াজের প্রদাহ বিরোধী গুনাগুন হাঁপানির/শ্বাস কষ্ট দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া পেঁয়াজে থাকা সালফার ফুসফুসের প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে। ভালো শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য শুধু কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। যদি কাঁচা খেতে না পারেন তাহলে রান্নায় একটু বেশি করে পেঁয়াজ দিয়ে সেই পেঁয়াজ খান। #লেবু:শ্বাসকষ্টের রোগীদের দেহে অনেক সময় ভিটামিন সি এর মাত্রা কম থাকে। লেবুতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হাঁপানির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।এক গ্লাস পানিতে অর্ধেকটা লেবু চিপে স্বাদ অনুযায়ী কিছুটা চিনি দিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন হাঁপানির আক্রমণ কমাতে।এছাড়া বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানে ভরপুর কমলা, পেঁপে, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলও হাঁপানির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।#কিছু টিপস:যাদের হাঁপানি আছে তারা হাঁপানির আক্রান্ত হবার কারনগুলো খুঁজে বের করুন এবং চেষ্টা করুন সেগুলো থেকে দূরে থাকতে।রান্নায় ভেষজ মশলাগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন।খাবারে অমেগা৩ ফ্যাটি এসিড রাখার চেষ্টা করুন। তেল, মাছ ইত্যাদি।খাবার তালিকাতে প্রচুর তাজা ফল ও সবজি রাখুন। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি এবং ই ফুসফুসের কার্যকারিতাকে উন্নত করতে সাহায্য করে। প্রক্রিয়াজাত করা ও আলাদা খাবারের গন্ধ দেয়া ও প্রিজারভেটিভ দেয়া খাবার পরিহার করুন হাঁপানির বা যেকোনো কাড়নে শ্বাসকষ্টের আক্রমণ কমাতে।যদি কারো ল্যাক্টোজে অসহিষ্ণুতার জন্য দুধে অ্যালার্জি থাকে তাহলে দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার বাদ দিন।শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতে এগুলো কিছু ঘরোয়া উপায়। তবে রোগের সমস্যা যদি প্রকট হয় এবং এসব উপায়ে কোনো উপশম না হয় তাহলে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও