গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হল রোগীকে সাহস যোগানো, সাহস জোগিয়ে রাখতে পারলে ৫০% বলে দেওয়া সম্বভ এই রোগী খুভ তাড়া তাড়ি মরতে পারেনা এবং ৯৭% নিশ্চয়তা দেওয়া সম্বভ যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করেন। যে হাতে বা পায়ে কামড় দিয়েছে তা স্থির করে রাখা। যদি পায়ে কামড় দেয় তাহলে হাটা নিষেধ। আর যদি হাতে কামড় দেয় তাহলে রোগীর ওই হাত নাড়ানো যাবে না। কামড়ের বুঝে বাঁধন দিন ( প্রেশার ইমোবিলাইযেশন মেথড অনুসরণ করে ক্রেপ ব্যান্ডেজও ব্যবহার করতে পারেন ) কামড়ের স্হান বুঝে বাঁধন দিন,তবে মনে রখতে হবে,ক্ষতস্হান থেকে কিছুটা উপরে বাঁধন দিতে হবে। ( আক্রমনের সময় রোগীর আসে পাশে যদি কেউ না থাকেন এবং রোগীর হুশ থাকে তা হলে তিনি নিজে নিজেই যদি হাতের কাছে গামছা পাওয়া যায় তাহলে গামছা দিয়ে জায়গাটা বেঁধে ফেলবেন তবে অজগর কামড় দিলে এ কাজ করা যাবে না )। আর বাঁধন এমন ভাবে দিতে হবে,যাতে বাঁধনের মাঝখান দিয়ে একটি আঙুল ঢুকানো যায়।খেয়াল রাখতে হবে কোনভাবেই যেন রক্ত চলাচল সম্পূর্ন বন্ধ না হয়ে যায় এবং 20 মিনিট অন্তর 2/3 মিনিটের জন্য বাধন খুলে দিতে হবে অথবা চাপ দিয়ে ব্যান্ডেজ করুণ এমনভাবে যাতে শিরার রক্ত চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় , চেস্টা করবেন যাতে বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, আবার রক্ত চলাচলও বন্ধ না হয়। প্রয়োজনবোধে প্রথম ব্যান্ডেজের উপর দ্বিতীয় আরেকটি ব্যান্ডেজ করা যেতে পারে। ব্যান্ডেজের উপরে দংশন স্থানটিকে চিহ্নিত করতে ভুলে যাবেন না। । যে পায়ে বা হাতে সাপ দংশন করেছে, সেই পা বা হাতে, নিকটে যা কিছু পাওয়া যায়, সেটাকেই স্প্লিন্ট বানিয়ে এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। । খেয়াল রাখবেন রোগী যেন বেশী নড়াচড়া না করে অন্তত কামড়ানোর স্হানটি যেন স্হির থাকে,এতে বিষ রক্তে মিশবে কম । রোগী বমি করলে শ্বাসকার্যে ব্যাঘাতের দিকে লক্ষ রেখে উপুড় করে শোয়াতে হবে এবং যত তাড়া তাড়ি সম্বভ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাবস্থা করতে হবে যতক্ষন চিকিৎসার পূর্ণ ব্যাবস্থা না হচ্ছে ততক্ষণ যা করা দরকার, তা হল:সাবান জল দিয়ে ক্ষতস্থানটা ধুয়ে ফেলা–শরীরের যে অংশে সাপ কমড়েছে সেটা যতটা সম্ভব স্থির করে রাখা।–ক্ষতস্থানটা পরিস্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। বা সাপ টিকে চিনে রাখতে পারলে আর ও ভাল সুবিধা হবে চিকিৎসকের জন্য বা নিশ্চিত হয়ে এন্টিভেমন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে পারবেন ।ক্ষতস্থানে বরফ চাপা দেয়া ঠিক না,কারন অনেকক্ষন বরফ চাপা দিয়ে রাখলে টিস্যুর ক্ষতি হয় এবং পরবর্তীতে এন্টিভেনম দিলে তা ক্ষতস্থানে ঠিকমত ঢুকতে পারে না ফলে আক্রান্ত জায়গা পচার সম্বাভনা থাকবেই । সর্বশেষ আবিষ্কৃত নাকের স্প্রে neostigmine নাকের মধ্যে প্রয়োগ করলে সাপের বিষ সারা শরীরে যেতে ৮/১০ ঘণ্টা দেরি হয় বিধায় গ্রামে গঞ্জের রোগিদের জন্য অত্তান্ত ভাল একটি খবর বলা যায় এবং তার ভিতরেই হাসপাতালে এন্টিভেনমের জন্য পৌঁছানো সম্বভ ।এখানে আরেক টি বিষয় করলে সময় অনেক টা রোগীকে তাড়া তাড়ি বাঁচানো সম্বভ, যেমন যে হাসপাতালে যাবেন সেই হাসপাতালে এন্টি ভ্যাক্সিন , এন্টিভেনমের মজুত আছে কি না ( সাপে কাটার সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ ঔষধ, জানার জন্য নিচে বিস্থারিত দেওয়া আছে ) যদি থানা হাসপাতালে এর মজুত না থাকে তা হলে বিভাগীয় হাসপাতালে মজুত থাকা নিয়ম নতুবা অনেক সময় আকাকঙ্কিত প্রত্যাশা পূর্ণ না ও হতে পারে । কারন বিষাক্ত সাপে ধংশনের প্রধান ঔষধ ই হচ্ছে এই এন্টিভেনম ইঞ্জেকশন ।গ্রামিন জনপদে কিছু ভুল ধারনা জাতীয় চিকিৎসা করার ব্যাবস্থা করেন, তা থেকে বিরত থাকা উচিৎ যেমন -আক্রান্ত স্থানের ওপর এবং আশে পাশে ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়া-মুখে করে বিষাক্ত রক্ত বের করার চেষ্টা করা– আক্রান্ত স্থান কার্বলিক এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া বা গরম রড দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার চেস্টা করা ( এতে বিষাক্ত বিষ সারা শরীরে পচনের সৃষ্টি করতে পারে ) -কামড়ের জায়গায় থুথু, ঘাসের রস বা কামড়ের জায়গায় গোবর বা মাটি দেয়া আক্রান্ত জায়গায় কাঁচা ডিম, চুন, কিছুই লাগাবেন না। এতে সেল্যুলাইটিস বা ইনফেকশন হয়ে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও