আমার নাম নুসরাত আমার বয়স 30। আমার বিয়ের বয়স দশ বছর, আমার দুই ছেলে আছে, তিন ননদ এক বাসির আর আমার শশুর আছে, এখন আমার সমস্যা হলো এরা আমারে শারীরিক মানসিক নিযাতন করে।এক কথায় আমার গায়ে হাত তুলেতে চেষ্টা করে। তারা আমার বাবা বাড়িতে চলযেতে বলে আমি যাই না।তাই আমার উপর এই নিযাতন ।আমার সামি  ১৪ বছর  বাহিরে ছিলো এখন করোনা কারনে বিদেশ যেতে পারি নাই।তাই সংসার দেখা শুনা করে। আমার এক ননদ তার দুই মেয়ে ছেলে আর সামি নিয়ে এখনে থাকে। আমার বিয়ে হয়ার পর তারা থেকে।  আমাকে বলে আমি যদি না বাহির হই আমাকে মরে ফেলবে। আমার সামিয়ও তাদের পক্ষে কথায় বলে।এখন আমি এই দুই ছেলে নিয়ে কোথায় যাবো। প্লিজ আমাকে একটা সমাধান দেন।।

প্রিয় গ্রাহক আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।আমি অনুভব করতে পারছি যে আপনি খুব কঠিন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি প্রতিটা দিন খুব কষ্টে কাটছে। আপনার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমি আপনার কষ্টের জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করছি। আমাদের চারপাশের থাকার পরিবেশ টা আমাদের চারপাশের মানুষের এই যদি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয় তবে সেই পরিস্থিতিতে ভালভাবে টিকে থাকাটা সত্যিই আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।কারণ পরিবেশ টা এমন যে আপনি চাইলেও এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। এই পরিবেশেই আপনাকে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে। আর আপনার প্রশ্ন পড়ে বুঝতে পারছি যে আপনি সেই চেষ্টাই করছেন যার জন্যই আপনি আমাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন।এই পরিস্থিতিতেও যে আপনি আপনার মনোবল ধরে রেখেছেন ও আমাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।আপনি চাইলেই আপনার প্রতি অন্যদের খারাপ আচরণ কে পরিবর্তন করতে পারবেন না, এটা কখনই আপনার নিজের হাতে নেই। কিন্তু আপনি কিন্তু চাইলেই নিজের ভালো থাকাটা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটা কিন্তু আপনার হাতেই আছে। কেউ খারাপ আচরণ করুক বা ভালো আচরণ করুক আপনি কি অনুভব করবেন তা কিন্তু আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তাই নিজেকে ভালোবাসা টা খুব বেশি জরুরি। তাই যদি নিজেকে ভালোবাসেন তবে আপনি সহজেই অন্যের নেতিবাচক ব্যবহারকে অবজ্ঞা করে নিজের মতো করে ভালো থাকার চেষ্টা করতে পারবেন। আপনি যখন খুব কষ্টে থাকবেন তখন আপনি আপনার কষ্টের কথাগুলো একটি কাগজে লিখে ফেলতে পারেন। পরে তা অবশ্যই ছিড়ে ফেলবেন। আপনাকে যে যেই কথাগুলোই বলবে দিন শেষে আপনি তাদের কথাগুলোকে একেক করে চিন্তা করে তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। হতে পারে তারা আপনার সাথে অনেক অন্যায় করছে কিন্তু আপনি যদি তাদের ক্ষমা করে দেন তবে দেখবেন যে আপনি ভালো থাকবেন। নিজের ভালো থাকার জন্য ক্ষমা করবেন। কষ্ট হলে নিজেকে কিছুটা সময় দিতে পারেন। নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন যেভাবে সময় কাটালে আপনার মনে হবে যে আপনার ভালো লাগছে। আপনি নিজের সাথে নিজে কথা বলতে পারেন, নিজেকে বলতে পারেন যে আমি জানি তোমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, আরে কষ্টটা হওয়ারই কথা, কিন্তু আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, আমি আছি তোমার পাশে। শ্বশুরবাড়িতে হয়তো আপনি অনেক কিছু নিয়েই কষ্ট অনুভব করছেন।গ্রাহক আমরা যখন কোন কিছু নিয়ে কষ্ট পাই তখন আমাদের সমস্ত মনোযোগ আমরা সেই কষ্টের দিকে নিয়ে যায় যা আমাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আমাদের নিজেদেরকে অনেক বেশি একা ও অসহায় মনে হতে থাকে।আমাদের জীবনে আর যদি কোন কিছু ভাল চলতে থাকে তখন আমরা সেদিকে লক্ষ্য করি না আমরা শুধু আমাদের কষ্টটাকেই আঁকড়ে ধরে বসে থাকি। তখন আমাদের কষ্টটা আরো বেড়ে যায়।তাই আমরা যখন কোন কিছুতে কষ্ট পাবে তখন আমরা যদি আমাদের মনোযোগটা সেই কষ্ট থেকে সরিয়ে আমাদের জীবনের যেই ব্লেসিংস গুলো আছে তার দিকে নিয়ে যেতে পারি তবে কষ্টটা কিন্তু অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। আপনি আপনার জীবনের blessings একাউন্ট করতে পারেন। আর কি কি জিনিস আপনার সাথে ভালো হচ্ছে সেগুলোতে মনোযোগ দিতে পারেন।সেই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারে তবে আশা করা যায় যে আপনি আপনার কষ্টটা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আশা করি আপনাকে একটু হলেও সাহায্য করতে পেরেছি। রয়েছে পাশে সব সময় মায়া আপা।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও