প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আমরা প্রত্যেকটি মানুষই আলাদা। আলাদা আমাদের চিন্তা-ভাবনা, সুখ-দুঃখ এবং জীবন ধারা। তবে আমরা যে যেমনই হই না কেন, প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা থাকে একটি সুস্থ এবং সুখী জীবনের। যদিও সুখ ব্যাপারটি আপেক্ষিক অর্থাৎ সুখের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম তবুও আমরা এমন কিছু কৌশল রপ্ত করতে পারি যা আমাদের সুস্থ ও সুখী জীবনযাপনের জন্য সহায়ক হতে পারে। এমনই ছয়টি কৌশল নিচে তুলে ধরা হল।    এক. গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস গাড়ী চলতে যেমন তেল প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। আর এই অক্সিজেন বিভিন্নভাবে  আমাদের মস্তিস্কে পৌছায়। মূলত আমরা যখন নিঃশ্বাস গ্রহণ করি তখনই অক্সিজেন আমাদের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। কিন্তু দুঃশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং উদ্বেগের মধ্যে থাকলে আমরা ছোট ছোট নিঃশ্বাস নেই ফলে মস্তিষ্কে যথেষ্ট পরিমান অক্সিজেন সরবরাহ হয় না।  আর এই অক্সিজেনের ঘাটতি আমাদের শরীর ও মন উভয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   মস্তিস্কে সঠিক পরিমানে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে আমরা গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারি। অর্থাৎ লম্বা করে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ পেটের মধ্যে রেখে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস  ছাড়তে পারি। ইংরেজিতে এই গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডিপ ব্রেথ। প্রতিদিন ১০-১৫ টি ডিপ ব্রেথ নিলে আমাদের শরীর ও মনে প্রশান্তি বিরাজ করে। যেকোন মানসিক চাপ বা দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য খুব ভাল একটি ইরেজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এই গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসকে।   দুই. বর্তমানে মনোযোগী থাকা   অবচেতন ভাবেই আমরা দিনের বেশিরভাগ সময় অতীত বা ভবিষ্যতে চলে যাই। যার যার ফলে বর্তমানকে হারিয়ে ফেলি। অতীতের গ্লানি কিংবা ভবিষ্যতের দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে আমরা আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগিয়ে বর্তমানের প্রতি সজাগ বা মনোযোগী হতে পারি। যেমন শ্বাস নেবার সময় অনুভব করা কিভাবে শ্বাস ঠুকছে এবং বের হচ্ছে, খাবারের সময় এর স্বাদ বা গন্ধ প্রতি মনোযোগ দেয়া। এভাবে বর্তমানকে উপভোগ করে আমরা আমাদের ভবিষ্যতকেও সুন্দর করতে পারি। মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, ভয় ও ঘুমের সমস্যায় এ প্রক্রিয়াটি বেশ উপকারী।   তিন. সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের প্রতিনিয়তই অন্যের সাথে যোগাযোগ রেখে চলতে হয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্র, আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমাদের এক সাথে চলতে হয়। একটি সম্পর্ককে তখনই সুসম্পর্ক বলা যায় যখন উভয়েই এক ধরনের কানেকশন ফিল করে। বিভিন্ন ভাবেই এ ধরনের সুসম্পর্ক তৈরি করা যায়। যেমন- সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা, পাশের ব্যক্তিটি যেমনই হোক না কেন তার প্রতি সম্মান রেখে চলা, ভাল কাজ বা সাফল্যে অভিনন্দন জানানো এবং দুঃসময়ে তার পাশে থাকা। তথ্যমতে, সুখী হওয়ার ৮৫%-ই নির্ভর করে ব্যক্তি জীবনে অন্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন তার উপর। চার. নিরপেক্ষ চিন্তা করা    নিরপেক্ষ চিন্তা করা ব্যাপারটি শুনতে যতটা সহজ মনে হয় ঠিক ততটাই কঠিন হচ্ছে বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ। সাধারনত একজন মানুষের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সেই মানুষটিকে ভাল বা মন্দ হিসেবে বিচার বিবেচনা করে থাকি। ফলে দেখা যায় যে মানুষটি আমাদের চোখে ভাল, তার যেকোনো কর্মই আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়, আবার যে মানুষটি আমাদের চোখে খারাপ তার ইতিবাচক কাজগুলোকেও নেতিবাচক মনে হয়। তাই নিজের এবং আশেপাশের মানুষগুলো সম্পর্কে যদি আমরা নিরপেক্ষ এবং ইতিবাচক মনোভাব রাখি তবে প্রতিটি ঘটনাকেই আমরা যৌক্তিক এবং নিরপেক্ষভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হব।    পাঁচ. উদারতা বা দয়াশীলতা অন্যের প্রতি সহানুভূতি এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আমাদের মানবিক গুনগুলোর মধ্যে অন্যতম।   আরেকজনের জন্য কিছু করলে সেই মানুষটির যেমন সহযোগিতা হয় ঠিক তেমনি নিজের মধ্যেও এক ধরনের ভাল লাগা কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ নিজেদের মূল্যবান সময়ের কিছুটা অংশ সুবিধা বঞ্ছিতদের সাথে কাটানো বা তাদের জন্য কিছু করা, কোন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে রাস্তা পার হতে সহায়তা করা, বাড়ির দারোয়ান বা কাজের লোকটির সাথে একটু হাসি মুখে কথা বলা, কারো চিকিৎসায় বা বিপদের আর্থিক ভাবে সহায়তা করা ইত্যাদি। ছয়. নিজের সাথে কিছুক্ষণ কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলি। একবার ঠাণ্ডা মাথায় নিজেকে প্রশ্ন করুনতো, আপনার জন্য কাজ, নাকি কাজের জন্য আপনি? আপনি আগে, নাকি কাজ আগে? উত্তরটা খুব সহজ, অর্থাৎ আগে আপনি, তারপর আপনার কাজ। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করুন। নিজের যত্ন নিন এবং পছন্দ অপছন্দগুলোকে গুরুত্ব দিন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও