মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


Avatar

প্রিয় গ্রাহক,

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

নিউমোনিয়া (Pneumonia) ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি রোগ যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ছত্রাকের সংক্রমনে হতে পারে। নিউমোনিয়া সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল অথবা যারা দীর্ঘদিন ধরে কোন রোগে ভুগছেন তাদের হতে পারে। আবার শিশু, তরুণ এবং স্বাস্থ্যবান লোকদেরও নিউমোনিয়া হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিবছর নিউমোনিয়ার কারণে ৫ বছরের কম বয়সী শতকরা ২২ জন শিশু মারা যায়। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিউমোনিয়া জনিত এ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিশুর জন্ম, ওজন কম হলে, অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, টিকা সময়মত না নিলে অথবা অন্য কোন শারীরিক অসুস্থতায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে শিশু সহজেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

কারণের উপর ভিত্তি করে নিউমোনিয়াকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন- পারস্পরিক সংস্পর্শ থেকে হওয়া নিউমোনিয়া, হাসপাতাল থেকে হওয়া নিউমোনিয়া, এ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া, সুযোগ সন্ধানী জীবানু দিয়ে হওয়া নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা ঘটিত নিউমোনিয়া।

কিভাবে ছড়ায়

নিউমোনিয়া অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এ রোগের জীবাণু রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
কোন সুস্থ শিশু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কোন জিনিসের মাধ্যমে শিশুর শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
এ রোগের জীবাণু সুস্থ মানুষের নাক ও মুখে থাকতে পারে যা শ্বাস গ্রহনের মাধ্যমে ফুসফুসে ছড়িয়ে এ রোগ হতে পারে।
আবার কিছু ক্ষেত্রে জীবাণু রক্তের সাহায্যেও ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে।
কাদের হতে পারে?
যদিও নিউমোনিয়া যে কারোরই হতে পারে, তারপরেও কিছু ক্ষেত্রে এ রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যেমন- ছোট্ট শিশু অথবা বয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে এমন কোন রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফুসফুসের কোন রোগ, এইডস ইত্যাদি রোগ থাকলে অথবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে সহজেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিলে, স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবন করলে অথবা যারা ধূমপান করেন কিংবা মাদকে আসক্ত তাদেরও হতে পারে।

নিউমোনিয়া রোগের উপসর্গ
শিশুর জ্বর, কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট হলে এবং বয়স অনুযায়ী শ্বাস দ্রুত মনে হলে এটা নিউমোনিয়ার লক্ষণ। আবার অস্থিরতা, খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, বুকে বা পেটে ব্যথা, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদিও হতে পারে। আর মারাত্মক নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে, শ্বাস নেয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভিতরে ঢুকে যেতে পারে, শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর খিঁচুনি হতে পারে। নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর নাক ফুলে উঠবে। মুখ ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হয়ে যেতে পারে এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বরও আসতে পারে। আবার শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা
লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে নিউমোনিয়া হয়েছে সন্দেহ হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা, বুকের এক্সরে, রক্তের সি বি সি পরীক্ষা, কফ বা শ্লেষ্মা পরীক্ষা ইত্যাদি করাতে হতে পারে।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা
শিশুর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে চিকিৎসক চিকিৎসার ব্যপারে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। যদি শিশু মুখে খেতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়, এরকম ক্ষেত্রে শিশুকে বাড়িতে রেখে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে। অপরদিকে মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এ সকল ক্ষেত্রে, চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে অক্সিজেন বা শিরাপথে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগের প্রয়োজনও হতে পারে। এ সময় শিশুর খাদ্য এবং পানীয় সম্পর্কে অত্যন্ত যত্নবান হতে হবে। যেহেতু নিউমোনিয়াজনিত শিশু মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি, তাই যেকোনো প্রয়োজনে অবশ্যই দ্রুততার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করনীয়
অসুস্থ্য হওয়ার পরে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে সতর্ক হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবেঃ

বাড়ির সকলকে অবশ্যই দিনে কয়েকবার সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের যথাযথ যত্ন নিতে হবে যাতে অপরিণত বা স্বল্প ওজনের শিশুর জন্ম না হয়। কারন- অপরিণত বা স্বল্প ওজনের শিশুরা পরবর্তীতে খুব সহজেই নানান রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
কোন শিশু অপরিণত বয়সে জন্ম নিলে অথবা স্বল্প ওজনের শিশুদের ব্যপারে অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি।
শিশু যাতে অপুষ্টির শিকার না হয়, সেজন্য শিশুর জন্মের প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পূর্ণ হলে শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়াতে হবে।
২ বছর বয়স পর্যন্ত অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। কারণ- অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।
শিশুকে সময়মত সরকারিভাবে প্রদত্ত সবগুলো টিকা দিতে হবে।
কারও ঠাণ্ডা বা কাশি হলে অথবা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে রাখতে হবে।
শিশুর থাকার জায়গা এবং বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বাড়িতে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শিশুকে সিগারেট বা চুলার ধোঁয়া থেকে দূরে রাখতে হবে।

আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।

আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,

রয়েছে পাশে সবসময়,

মায়া আপা ।

Answered By : Dr. A Hasan প্রশ্ন করা হয়েছে 8 months ago

সম্পর্কিত প্রস্নসমুহ

Internet Org 4 hours ago


আমায় বাবার বয়স ৪৫ বা ৪৬ হবে তার ডায়াবেটিস আছে আর তার শরীর অনেক দূর্ভল কিন্তু ওনার কাশি... ....See More

Internet Org 17 hours ago


I am facing problem of Cough varriant ashma. Taking medicine currently as follows: Sergel 1+0+1 Dflux 1+0+1 Fenadin 120mg 0+0+1 provair 10 mg 0+0+1 Doxiva 200 0+0+1 Protide 25/125 2 puff twice daily Ventolin evohaler 2puff when required before I took antibiotic as per advice of doctors. my doctor is on holiday now. My problem starts at night when I go to bed. coughing starts continuously. I can't sleep at night even after taking ventolin. can I take profen at night alongwith with those medicine... ....See More

দ্রুত উত্তর - On Google Play