প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।গ্রাহক, চুল পড়ে যাওয়ার সমাধান খুজতে যাওয়ার আগে আসলে দেখা উচিত চুল পড়ছে কেন? বংশগত কারণ, মাথার ত্বক পরিষ্কার না রাখা, কম ঘুম, শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ঘাটতি থাকা, পানির সমস্যা ইত্যাদি কারনে চুল পড়ে।তাই শ্যাম্পু বদলে ফেলা, বা নতুন কন্ডিশনার ব্যবহার করা, বা নতুন কোন হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করার চাইতে আগে নিজের জীবন যাত্রা প্রণালী পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। যেমন -:- পর্যাপ্ত ঘুমান, রাতে ৭-৮ ঘন্টা ভালভাবে ঘুমান।- মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন, সপ্তাহে। ২-৩ বার চুল শ্যাম্পু করুন - শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূর্ণ করুন।পুস্টিকর খাবার খাবেন - দিনে দুবার করে চুল আঁচড়াবেন, - সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে অয়েল ম্যাসাজ দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। - মাথায় খুশকি থাকলে, বা চুলকালে নখ দিয়ে চুলকাবেন না।-  খুব জোরে চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াবেন না। এতে চুল পড়ে গেলে ওই জায়গার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন আর ওই কোষ থেকে নতুন চুল গজায় না। তাই মাথার ত্বক খুব জোরে জোরে নখ দিয়ে চুলকানো, চিরুনি দিয়ে জোরে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।- মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা বলতে আমরা কেবল শ্যাম্পু করা আর কন্ডিশনার লাগানোকে বুঝি। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা কিন্তু এর থেকেও অনেক বেশি কিছু। নিজের জন্য আলাদা চিরুনি এবং গামছা/ তোয়ালে ব্যবহার করুন। নিজের চিরুনি, গামছা/তোয়ালে, বালশের কভার সপ্তাহে ১ দিন ধুয়ে দিন। - আপনার মাথার ত্বক তেলতেলে হলে, খুশকি থাকলে গরম পানি দিয়ে ধুবেন। ভিজা চুল আঁচড়াবেন না, ভিজা চুল নিয়ে শুবেন না। খুব জোরে জোরে মাথা ঘষে ভিজা চুল মুছবেন না। আলতো হাতে চেপে চেপে মাথার ত্বক থেকে পানি মুছে ফেলুন। নরম কাপড় দিয়ে মাথা মুছবেন।- টকদই ও মেহেদি বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মাথার চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ৩৫-৪০ মিনিট। পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। দু-তিনবার ব্যবহারে খুশকি চলে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে অনেক সুন্দর। দুই থেকে তিন দিন বা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করলেই হবে।- ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও খুশকি কমে যেতে পারে।- অতিরিক্ত খুশকি তাড়াতে মাথায় তেল দেয়া বন্ধ রাখতে হবে। খুশকিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখতে হবে। একদিন পরপর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে খুশকি কমে যেতে পারে।- মেথিবাটা, পেঁয়াজ, নিমপাতা, লেবুর রস, টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়াায় লাগিয়ে রাখুন। ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন। নতুন কোন হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করার চাইতে কিছুদিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিয়ে দেখতে পারেন। চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় কিছু ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।১। মেহেদিঃ আপনার প্রয়োজনমত মেহেদি বাটা নিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দিন। ৩০-৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই ভাবে সপ্তাহে ১-২ বার করে ব্যবহার করুন। ২। দূর্বা ঘাসঃ দূর্বা ঘাস ও কাঁচা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়া আপনার বাসার আশে পাশেই পাওয়া যাবে, বাংলাদেশে এই খুব সহজেই পাওয়া যায়। দূর্বা ঘাসের রস মাথায় দিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।৩। পেঁয়াজ বাটা/ রসঃ আধা কাপ পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে আপনার মাথার ত্বকে লাগান। ৩০-৪৫ মিনিট রাখুন, এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।৪। লেবুর রস/ সাদা ভিনেগার এবং গ্লিসারিনঃ লেবুর রস আর ভিনেগার, গ্লিসারিন- এরা সবাই খুব ভালো কন্ডিশনার। আপনার মাথার ত্বক যদি তেলতেলে হয় তবে লেবুর রস বা ভিনেগার- এই দুটির যে কোনটি আপনি কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আর মাথার ত্বক যদি স্বাভাবিক বা শুষ্ক হয় তবে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস/ভিনেগার/গ্লিসারিন মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। লেবুর রস ব্যবহার করলে তা ছেকে নিবেন। এরপর আবার পানি দিয়ে মাথা ধোয়ার দরকার নেই।৫। ভিটামিন ইঃ সপ্তাহে এক দিন নারিকেল তেল বা আপনি যে তেল ব্যবহার করেন তাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে মাথা হাল্কা ম্যাসাজ করবেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল খুব সহজেই আপনার বাসার সামনের ওষুধের দোকানেই পাবেন।মেহেদি এবং দূর্বা ঘাস আপনার চুলের গোড়া শক্ত করে, আর পেঁয়াজ বাটা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।এছাড়াও আপনি নারিকেল তেলে জবা ফুল/আমলকি ইত্যাদি ফুটিয়ে বা রোদে শুকিয়ে সেই নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।এইসব ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রোটিন ও ভিটামিন ই যুক্ত খাবার বেশি করে খান। দরকার হলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল সপ্তাহে ১-২ টি করে খাবেন। কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নিবেন, কারন খাওয়ার জন্য এবং চুলে দেওয়ার জন্য আলাদা ভিটামিন ই ক্যাপসুল পাওয়া যায়, আপনি চাইলে খাওয়ারটাই চুলে ব্যবহার করতে পারেন।আশা করছি আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এরপরও যদি চুল পড়া না কমে তবে আপনি একজন ডার্মাটোলজিস্ট দেখাবেন। আর কোন সাহায্য লাগলে আমরা তো আছিই!গ্রাহক,আপনার খাদ্য এবং ত্বক ও শরীরের সামগ্রিক যত্নের সাথে ব্রন সম্পর্কিত ।আপনার যদি অনেক ব্রন হয় তাহলে নীচের বিষয়গুলো মেনে চলুন :- -তেল- চর্বিযুক্ত খাদ্য এবং দুগ্ধ পণ্য খাওয়া এড়াতে হবে। - এছাড়াও চকলেট না খাওয়া ভাল। - নিয়মিত অনেক পানি পান করুন(৮ গ্লাস প্রত্যেকের জন্য নূন্যতম প্রয়োজন হয়)এবং -সম্ভব হলে ডাবের পানি খাবেন। একটি তুলো ডাবের পানি তে ভিজিয়ে আপনার মুখ টা মুছে নিন, প্রতিদিন সকালে বা গোসল এর আগে। এটি প্রাকৃতিকভাবে ব্রন সম্পর্কিত দাগ দূর করতে সাহায্য করে। -যদি সম্ভব হয়, নিম পাতা এবং তাজা কাঁচা হলুদ এবং কালো জিরা মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খুব অল্প পরিমান এ খাবেন । -এছাড়াও constipation ও হজমের সমস্যার ফলে ব্রন হতে পারে। নিম, কাঁচা হলুদ ও কালো জিরা আপনার পেট এর জন্য খুব ভাল এবং আপনার পরিপাকতন্ত্র কে পরিষ্কার রাখবে । - নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার ত্বক এর ছিদ্র গুলো খুলে যাবে এবং আপনার রক্তচলাচল বেরে যাবে। তবে ঘেমে গেলে আবার ত্বক এ ময়লা জমতে পারে তাই এক্সারসাইজ এর পর গোসল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - গ্রাহক আপনার কি পর্যাপ্ত ঘুম হয়? ঘুম ঠিক মত না হলে ব্রন দেখা দিতে পারে। রাতে কমপক্ষে ৭-৮ঘন্টা ভালভাবে ঘুমান- সপ্তাহে অন্তত ১ বার আপনার তোয়ালে, বিছানা চাদর, বালিশের কভার, চিরুনি, মেকাপ ব্রাশ- এধরণের জিনিসগুলো ধুয়ে দিন - অবশ্যই নিয়মিত ত্বক এবং মাথার ত্বক পরিষ্কার করবেন। মাথার ত্বক ময়লা থাকলেও ব্রণ হয় ।সপ্তাহে ২-৩ বার চুল শ্যাম্পু করুন এবং দিনে অন্তত ২ বার মুখ ধুবেন ।-  যদি কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন তবে সেটা কমানোর চেষ্টা করুন- এছাড়া, ব্রনের উপর সাদা টুথপেস্ট লাগান ।শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রন কমে যাবে।তবে জেনে রাখা ভাল যে ঔষধ স্বল্পমেয়াদী সাহায্য করতে পারে,তবে যদি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চান তাহলে আপনার জীবনধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।এছাড়া,কিছু ঘরোয়া উপায়ে ব্ল্যাক হেডস দূর করা সম্ভব। টিপসগুলো হলঃ১। ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে সেটা ব্ল্যাক হেডস এর উপর লাগাবেন। এরপর একটা টিস্যু নিয়ে ওই জায়গায় লাগান। এর উপর আবার ডিমের সাদা অংশ লাগান। জিনিসটা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সাধারনত ১৫-২০ মিনিট সময় দরকার হয়। এরপর টিস্যুটা নিচ থেকে উপরের দিকে আস্তে আস্তে খুলে ফেলুন। দেখবেন ব্ল্যাক হেডস উঠে এসেছে।২। মধু এবং দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে সেটা ব্ল্যাক হেডস এর উপর ৫ মিনিট ধরে ঘষুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।৩। ব্ল্যাক হেডস এর উপরে সাবান/ ফেসওয়াশ লাগিয়ে তার উপর অল্প একটু লবন নিয়ে ঘষুন। ৫মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।এই পদ্ধতিগুলো সপ্তাহে ২বার করে করুন। তবে মুখ ধুয়েই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। আর প্রথম কয়েক সপ্তাহ সপ্তাহে ৩ বার করে করতে হতে পারে।  ৪/৫ সপ্তাহ থেকে সপ্তাহে ১বার করলেই যথেষ্ট হয়।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও