প্রশ্ন সমূহ
আর্টিকেল
মায়া ফার্মেসী

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গর্ভবতী মা  রোজা রাখতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে চিন্তিত হন অনেকেই। আপনি যদি মনে করেন শারীরিকভাবে আপনি ফিট তাহলে রাখতে কোনো বাধা নেই ৷ গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখতে চান তারা অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিন এবং আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে তারপর রোজা রাখুন ৷ কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা আপনাকে অবশ্যই খেয়ালে রাখতে হবে ৷ সেগুলো হলো- * প্রথম তিন মাস কারও অতিরিক্ত বমি হতে পারে। খুব বেশি বমি হলে তাঁর রোজা না রাখাই ভালো। এ ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলেও রোজা না রাখাই ভালো। পরবর্তী দিনগুলোতে গর্ভধারণের তিন মাসের পর থেকে সাধারণত বমির সমস্যা কমে আসে। এ সময় মা রোজা রাখতে পারেন। * দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে যদি গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে যায় কি না তা লক্ষ্য রাখতে হবে. *  রোজা  যেহেতু গ্রীষ্মকালে ,তাই  গরম এবং অনেক সময়ব্যাপী পানি পান না করার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে ৷ গর্ভাবস্থায় পানিশূন্যতা একটি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার ৷ কারন জরায়ুর ভেতর গর্ভফুলের ভিতর বাচ্চা পানিপূর্ণ অবস্থায় ভাসমান থাকে ৷ ফলে ডিহাইড্রেশনের প্রভাব এখানে পরতে পারে ৷ তাই এ সময় রোজা রাখলে অবশ্যই সেহেরিতে বেশি করে পানি এবং স্যালাইন খেয়ে নিন ৷ *  যদি গর্ভবতী মা ডায়াবেটিস বা রক্তসল্পতার রোগী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ ৷ কারণ ডায়াবেটিসের রোগী যেকোনো সময় শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে অথবা রোজা এবং ঔষধ সেবনের ফলে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে হাইপোগ্লাইসেমিক কন্ডিশনে চলে যেতে পারে ৷ তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা যারা গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখতে চান তারা অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিন এবং আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে তারপর রোজা রাখুন ৷ *এছাড়া যদি কিছু কিছু বিষয় যা গর্ভাবস্থায় ভয়ের কারন হতে পারে সেগুলো হল হঠাৎ করে অতিরিক্ত বমি হওয়া, মাথা ঘুরানো, খিচুনী হওয়া, পায়ে পানি আসা, রক্তস্রাব হওয়া এগুলো গর্ভবতী মাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এবং এসব লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে ৷ *রাতে, বিশেষ করে শেষরাতে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন। অনেকে আবার একবারে অতিরিক্ত পানি পান করে ফেলেন এবং পরে অস্বস্তিতে ভোগেন। তাই পানি পান করার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন খুব বেশি পানি পান করার ফলে আপনার অস্বস্তি না হয়. পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পানীয়ও পান করতে পারেন। লেবুর শরবতে চিনির পাশাপাশি কিছুটা লবণ মিশিয়ে নেওয়া ভালো। গ্লুকোজও খেতে পারেন। শেষরাতে দুধও খেতে পারেন। ইফতারের সময় ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই বেশি ভালো। *গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ সেবন করতে হয়। তাঁরা দিনের বেলার ওষুধগুলো রাতে খেয়ে নেবেন। যে ওষুধগুলো সারা দিনে একবারই খেতেন, সেগুলো রাতে খেয়ে নিতে পারেন। আর যে ওষুধগুলো মোট দুবার খেতেন, সেগুলো ইফতারের সময় একবার ও শেষরাতে আরেকবার খেয়ে নিতে পারেন। তবে  আগে ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে নিবেন. আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।



প্রশ্ন করুন আপনিও