সাধারনত মেডিটেশন করতে হয় পদ্মাসন, সুখাসন, অর্ধপদ্মাসন, স্বস্তিকা আসনে বসে। দুই হাত থাকবে দু’ধারে, ধ্যান মুদ্রায়। কোমর, কাঁধ, মাথা একটি সরল রেখায় থাকবে। শিথিল করে রাখতে হবে কাঁধ। এই ভঙ্গিতে বসে কিছুক্ষন অন্য সব চিন্তা দূরে সরিয়ে মনকে কেন্দ্রীভূত করুন। দুর্বল, অসুস্থ শরীর মেডিটেশনের জন্য উপযোগী নয়। তাই সুস্থ হতে হবে আগে। বাদ দিতে হবে অতিরিক্ত ভোজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম পরিহার করতে হবে।সুতির আরামদায়ক যে কোন পোষাকই মেডিটেশনের জন্য উপযোগী। পরিষ্কার পাজামা-পাঞ্জাবী পরে করতে পারেন মেডিটেশন। ট্রাউজার বা ট্রাক স্যুটও চলবে। যেকোনো ঢিলেঢালা পোষাক পরতে পারেন। শরীরে যেকোন অলংকার না রাখাই ভালো।মেডিটেশন শুরু করার সঠিক সময়টি হচ্ছে সকালে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। যাকে আমরা অবচেতন মন বলছি সে ঘুমের পরে বেশ সতেজ থাকে। ফলে এ সময়টা মেডিটেশন করা সহজ। দিনে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট মেডিটেশন করা উচিত এবং তা দুবার করা উচিত। গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে। মনের মধ্যে পজিটিভ বা ইতিবাচক চিন্তা আনতে হবে। এর মধ্য দিয়ে মনে শান্তি তৈরি হবে। তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। প্রথম স্তর মেডিটেশনের প্রথম স্টেজটি হচ্ছে মনোসংযোগ। পদ্মাসনে ঠাণ্ডা হয়ে বসে নিজের শ্বাস নেয়ার ওপর মনোযোগ দিন। কয়েক মিনিট কাটান। যখন আপনি পুরোপুরি রিলাক্স হয়ে যাবেন আপনার চারপাশে যে সব শব্দ হচ্ছে তার প্রতি মনোযোগ দিন। শব্দগুলো শুধু শোনার চেষ্টা করুন, সেই শব্দের সঙ্গে মনকে ভাসিয়ে দিন। এভাবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় কাটান। ফলে আপনি আপনার দেহ থেকে খানিকটা সরে আসবেন। এভাবে যতক্ষণ না আপনার মনে একটা শান্তির মিউজিক তৈরি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত অনুশীলন করুন। দ্বিতীয় স্তর এখন আপনি শব্দটিকে বা সঙ্গীতটিকে মাথায় নিয়ে এসেছেন। এরপর আপনার ফোকাস বা মনোসংযোগ বাড়াতে হবে কল্পনা ও দৃশ্যকল্প বা দেখার জন্য। মনের ছেড়ে দেয়া ভাব বা রিলাক্স অবস্থায় আসার পর নিজেকে এক আরামদায়ক অবস্থায় আনতে হবে। এখন যেখানে গেলে মনে শান্তি আসে এ রকম জায়গা কল্পনা করতে হবে। কারো ভালো লাগে পাহাড়, আবার কারো সমুদ্র। মনে মনে কল্পনা করতে হবে এ রকম কোনো এক জায়গায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন আপনি এবং সেই জায়গার শব্দ, বাতাস এমনকি গন্ধ আপনার নাকে এসে দোলা দিচ্ছে। যখন আপনার প্রিয় জায়গা তার সব বাস্তবতা নিয়ে আপনার কল্পনায় আসবে তখন মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। তৃতীয় স্তর মেডিটেশনের তৃতীয় স্তর হচ্ছে নিজের মনের কোনো আনন্দদায়ক শব্দ বা আনন্দকে ধরা। যে কোনো শব্দ বা আনন্দকে মনের মধ্যে নিয়ে এলেই চলবে। মনের ভাবনাকে এবার ছেড়ে দিতে হবে। সে এই আনন্দের সঙ্গে ভেসে চলবে। যদি মনে হয় মনকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শ্বাসকে আস্তে আস্তে হালকা করে মনকে চেতনার জগতে ফিরিয়ে আনলেই সে বাস্তব জগতে ফিরে আসবে। মনে রাখবেন মেডিটেশন অলৌকিক কিছু নয়। স্রেফ মনের শান্তি বজায় রাখার বিষয়।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও