জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যে শিশু পরিমাণে কম, পানির মতো ফেনা ফেনা বমি করে। এর কারণ নবজাতকের পেটে মায়ের পেটে থাকাকালীন সময়ের পানি থাকে। আর তা অনেক সময় জন্মের পরপর বমি করে বের করে দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দু-একবার বমি করার পর আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। বারবার বমি করলে অবশ্যই শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর  ঢেঁকুর তোলার সময় সুস্থ শিশুও কিছুটা দুধ বমি করে ফেলে, যা গাল বেয়ে পড়ে যায়।  এর কারণ শিশু মায়ের বুকের দুধ টানার সময় বাতাসও খেয়ে ফেলে, এই বাতাস পেট থেকে বের করার সময় কিছুটা দুধ তুলে ফেলে। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই দুধ খাওয়ানোরর পর শিশুকে খাড়া করে কলে নিয়ে পিঠে হালকা বাড়ি দিলে গ্যাস বের হয়ে যাবে। এ জন্য দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ সময় শিশুর বুকের দুধ টানার ইচ্ছা প্রবল থাকবে। তবে শিশু দৈনিক ছয়বার বা এর বেশি পরিমাণে প্রস্রাব করলে, দুধ গাল বেয়ে পড়ায় বা বমিতে কোনো ক্ষতি নেই। তবে বাচ্চা জন্মের পরপর প্রথম তিন-চার দিন মায়ের বুকে দুধ কম আসে বলে শিশুর প্রস্রাবও কম হয়।অনেক সময় নবজাতক কোনো কারণে অতিরিক্ত কান্না করলে বমি করে ফেলে। সে ক্ষেত্রে শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে হবে এবং তার কান্নার কারণ খুঁজতে হবে। এ ছাড়া পেটে গ্যাস জমে পেটব্যথা হলেও শিশু কান্না করে। যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘ইনফেন্টাইল কলিক’ বলে। এ সময় শিশুকে খাড়া কোলে রাখলে সামান্য বমি করে ফেলে, ফলে পেট থেকে বাতাস মুখ ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যায় এবং কিছুটা শান্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে সিমেথিকন ড্রপ ডাক্তারের পরামর্শে খাওয়ালে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।অনেক সময় দেখা যায়, মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর বাড়ির অন্য লোকজন শিশুকে আদর করছে। তবে বেশি আদর করতে গিয়ে কেউ কেউ শিশুকে ঝাঁকাঝাঁকি শুরু করে, ফলে শিশু বমি করে দেয়। এ জন্য শিশুর বুকের দুধ খাওয়া শেষ হলে তাকে খাড়া কোলে রেখে পেটের বাতাস বের করে দিতে হবে এবং আস্তে করে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে।মনে রাখবেন, জন্মের পর থেকে শিশুর পূর্ণ ছয় মাস পর্যন্ত (১৮০ দিন) বুকের দুধই যথেষ্ট। অনেক মা-বাবা বুকের দুধ খাওয়ানোর পরও ভাবেন হয়তো তার সন্তান পরিমাণমতো দুধ পায়নি। তখন একটা কৌটার দুধ খাওয়ানো শুরু করলে প্রায় সময় দেখা যায়, বুকের দুধের ওপর কৌটা বা অন্য যে কোনো দুধ দেওয়ার পর শিশু বারবার বমি করছে। সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, আপনার নবজাতককে শুধু বুকের দুধ খাওয়াবেন। মনে রাখবেন, আপনার শিশু যদি ২৪ ঘণ্টায় ছয় বা তার অধিক পরিমাণে প্রস্রাব করে, তবে বুঝতে হবে শিশুর জন্য বুকের দুধই যথেষ্ট।বমি বেশি করলে অবশ্যই আপনাকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও