সাধারণত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নাকের দুদিকে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাকের একপাশে সাদা বা ধূসর বর্ণের পিণ্ড আঙুর ফলের মতো ঝুলতে থাকে। একেই বলে নাকের পলিপ। এ ক্ষেত্রে নাকের মিউকাস গ্রন্থি বড় হয়ে থলির আকার ধারণ করে। পলিপ নাকের আশপাশের সাইনাস বা বায়ুথলি থেকে উৎপন্ন হয়। পলিপের কারণে রোগীর নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরতে থাকে, ঘ্রাণশক্তি কমে যায়, কারো কারো ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার শব্দ হতে পারে, চোখের আশপাশে ব্যথা ও মাথাব্যথা হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন পলিপ থাকার কারণে সাইনাসে প্রদাহ হতে পারে, রোগী কানে কম শোনে বা কান বন্ধ হওয়ার মতো মনে হতে পারে। রোগীর পলিপ নির্ণয় করা বেশ সহজ। নাকের সামনের দিক থেকে আলো ফেলে বা মুখ হাঁ করে নাকের ভেতরের দিক থেকে পেছনে আয়না দিয়ে দেখলে পলিপ দেখা যায়। কোনো কোনো সময় পলিপ ছোট হলে সাইনাস এন্ডোসকপি করার প্রয়োজন পড়তে পারে। বাচ্চাদের নাকের ভেতরের হাড় টারবিনেটকে পলিপ মনে করে অনেকেই ভুল করেন। চিকিৎসাপ্রাথমিক পর্যায়ে রোগীকে নাক দিয়ে ভাপ নেওয়া, নাকের ড্রপ ও অ্যালার্জির ওষুধ সেবন করতে দেওয়া হয়। এতে রোগী বেশ উপকার পায়। প্রাথমিক ও ছোট আকারের পলিপের ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে স্টেরয়েড স্প্রে করলে রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে বড় আকারের পলিপের জন্য অপারেশনের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকরা পলিপের উৎপত্তিস্থল, আকার, সংখ্যা ইত্যাদি দেখে সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের মধ্যে বর্তমানে পলিপেকটমি ও এন্ডোসকপি সাইনাস সার্জারি বেশ জনপ্রিয়। কোনো কারণে আবারো পলিপ দেখা দিলে বা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকলে নাকে স্টেরয়েড স্প্রে, অ্যালার্জির ওষুধ ও কোনো কোনো সময় অনেক দিন ধরে মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। পলিপের সঙ্গে কানের রোগ ও সাইনাসের সমস্যা থাকলে তারও চিকিৎসা করাতে হয়।

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn

প্রশ্ন করুন আপনিও