মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


Avatar


আপনার অন্ডকোষ কেন ফুলে গেছে বা ব্যাথা হচ্ছে আপনাকে আগে তা জানতে হবে। এরপর এর প্বার্শপ্রতিক্রিয়া কি তা বলা যাবে।


অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়ার এবং এতে ব্যথা হওয়ার কতগুলো সাধারণ লক্ষণ থাকে। অণ্ডকোষে ব্যথা হওয়ার আগে অনেকে অণ্ডথলিতে আঘাত পেতে পারেন। অনেকের অণ্ডকোষে ধীরে ধীরে আবার কারো অণ্ডকোষে খুব দ্রুত ব্যথা অনুভব হতে পারে। এ সময় অণ্ডথলি ফুলে যায়, ছুঁতে গেলে ব্যথা লাগে, অণ্ডথলির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে এবং অণ্ডথলির স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এ ধরনের অনেক রোগীর জ্বরও থাকে। 

অণ্ডকোষের টর্সন : এ রোগটি সাধারণত অল্প বয়সী ছেলে ও যুবাদের রোগ। তবে যেকোনো বয়সের পুরুষই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে বড়রা এ রোগে আক্রান্ত হন। এটি সাধারণত একটি অণ্ডকোষেই হয়। যদি কোনো অণ্ডকোষের সাথে স্পার্মাটিক কর্ডের খুব সরু সংযোগ থাকে তাহলে এ রোগটি হয়। এ ক্ষেত্রে স্পার্মাটিক কর্ডটি হঠাৎ পেঁচিয়ে যায় ও ঘুরে যায়।সাথে সাথে অণ্ডকোষটিও ঘুরে যায়। স্পার্মাটিক কর্ডের পেঁচানো অংশটি অণ্ডকোষের রক্তবাহিকা বন্ধ করে দেয়। বেশিক্ষণ এই অবস্থা থাকলে রক্তপ্রবাহের অভাবে অণ্ডকোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দু’টি অণ্ডকোষই এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে আক্রান্ত পুরুষ বন্ধ্যা হয়ে যায়। অণ্ডকোষের টর্সন হঠাৎ করেই হয়। তবে কখনো কখনো এটা ব্যায়ামের পর, বিশ্রামের সময় এমনকি ঘুমের মধ্যেও হতে পারে। টর্সন হওয়ার সাথে সাথে রোগীর অণ্ডকোষে খুব ব্যথা হয়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে মৃদু ব্যথাও হতে পারে। এ সময় অনেকের বমি বমি ভাব এবং কারো বা বমি হয়। আক্রান্ত অণ্ডকোষটি ফুলে যায় এবং একটু ওপর দিকে উঠে যায়। অণ্ডকোষের টর্সন একটি জরুরি অবস্থা, এ রকম অবস্থা হওয়ার সাথে সাথেই রোগীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। একটি অণ্ডকোষের টর্সন হলে অপর অণ্ডকোষটিরও টর্সন প্রতিরোধী চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। কারণ যার একটি অণ্ডকোষের টর্সন হয়েছে তার অন্য অণ্ডকোষটিরও টর্সন হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।


অণ্ডকোষের প্রদাহ : এটা অণ্ডকোষের এক ধরনের সংক্রমণ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর অণ্ডকোষে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, সাথে সাথে অণ্ডকোষ ফুলে যায় এবং স্ক্রোটাম লাল হয়ে যায়। রোগীর প্রচণ্ড জ্বর হয়।

অণ্ডকোষের প্রদাহ

এ রোগে রোগীর রোগ যন্ত্রণা এতই বেশি হয় যে, সে নিজেই যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। বেশির ভাগ রোগীরই সাধারণত মাম্পস, অরকাইটিস হয়। কিন্তু সমস্যা হলো মাম্পস অরকাইটিসের তেমন কোনো ফলদায়ী চিকিৎসা নেই। ফলে এ রোগে অণ্ডকোষের কলাতন্ত্র স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে পুরুষের উর্বরতাও নষ্ট হয়ে যায়।


হাইড্রোসিল : এ রোগে অণ্ডকোষে ব্যথা হয় না। কিন্তু অণ্ডকোষ ফুলে যায়। এ রোগ খুব ধীরে ধীরে হয় এবং অণ্ডকোষের ফোলা চোখে পড়তে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে। হাইড্রোসিল রোগে অণ্ডকোষের টিউনিকা ভ্যাজাইনালিস ও টিউনিকা অ্যালবুজিনিয়া নামের আবরণী দু’টির মাঝে তরল পদার্থ সঞ্চিত হয়।

তবে এ ক্ষেত্রে অণ্ডকোষটি স্বাভাবিক থাকে। এ রোগের শুরুতে তেমন কোনো সমস্যা না থাকলেও যখন হাইড্রোসিলের আকৃতি বেড়ে যায় তখন রোগী এ রোগে খুব অস্বস্তি অনুভব করে।


হার্নিয়া : ভ্রণাবস্থায় মানুষের অণ্ডকোষ পেটের ভেতর থাকে। জন্মের সময় অণ্ডকোষ পেট থেকে ইঙ্গুইনাল ক্যানেলের ভেতর দিয়ে স্ক্রোটামে চলে আসে। বিভিন্ন ধরনের কলা দিয়ে এই ক্যানেল বা পথটি তখন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এ রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ না হয় তাহলে এ রাস্তা দিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়িও অণ্ডথলিতে চলে আসতে পারে। একেই হার্নিয়া বলে।


আরও অনেক ধরনের রোগ আছে যাতে অন্ডকোষ ফুলে যেতে পারে। তাই আপনার উচিত একজন সার্জারির ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নেয়া। না হয় পরবর্তীতে অনেক সমস্যা হতে পারে।


উত্তর করেছেন : Dr. T Rahman

  প্রশ্ন করা হয়েছে 5 days ago
To See It On App

সম্পর্কিত প্রস্নসমুহ

Internet Org


আপা, দীর্ঘ স্থায়ী মিলন করার ঔষধ আছে? তাকলে কি নাম সেই ঔষধ? ব্যবহার বিধি একটু বলবেন? আমার .......
আরও দেখুন

Internet Org


আমার বয়স ১৯ বছর আমার ধাতু সমস্যা এখন কি করবো?....
আরও দেখুন

দ্রুত উত্তর - On Google Play