গ্রাহক যদি সঠিক সময়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো না যায় তাহলে তা নানা ভাবে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে। ফলে এর থেকে সাবধানে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কোলেস্টেরলের মান কমাতে খাদ্যবিধি একটি উত্তম পন্থা। রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে যখন ডাক্তারের কাছে এত ছুটাছুটি তখন কিছু কিছু কোম্পানি কোলেস্টেরল ফ্রি ফুডের চটকদার প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতা-ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে থাকেন। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোলেস্টেরল ফ্রি কোন ফুড নেই। তবে কয়েক ধরনের খাবার গ্রহন করে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে ফাইবার যুক্ত যেকোনও খাবার কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ করে হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া-সবুজ চা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সবুজ চা (গ্রিন টি) এর ভেতরে রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান রয়েছে। দিনে মাত্র পাঁচ কাপ সবুজ চা পান করলে ২৫ শতাংশ কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এতে রক্ত পরিস্কার হয়, দূর হয় রক্তের জমাট বাঁধা। এছারাও হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় সবুজ চা। সবুজ চায়ে থাকে পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড। ফলিক অ্যাসিড হার্টের সমস্যা ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর দেরী না করে সবুজ চা সেবন করুন এবং হৃৎপিন্ড রক্ষা করুন।মাছমাছ এবং মাছের তেল কোলেস্টেরল কমাতে পারে। এর ভেতরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি খুব সহজে রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে দেয়। প্রত্যেকেরই সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে।মধুমিষ্টি হিসাবে চিনির চেয়ে মধু খাওয়া সবসময় উপকারী। কারণ মধুতে থাকে এমন কিছু উপাদান যা কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়, যা চিনি খেলে বেড়ে যায়।বাদামপ্রতিদিন এক মুঠো বাদাম আপনার রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বা কম ঘনত্বের লিপিডের (এলডিএল) মাত্রা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া বাদাম খেলে পাবেন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।ওটমিল সকালের নাশতায় ভুট্টা বা যবের তৈরি ওটমিল বা কর্নফ্লেক্স হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। এতে করে দিনের শুরুতেই ১ থেকে ২ গ্রাম আঁশ খাওয়া হয়ে যাবে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেবে।সয়াবিন শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে সয়াবিন। বৃদ্ধি করে ভালো কোলেস্টেরল। মানুষের ধমনীতে কোলেস্টেরলের যে জারন হয় তাতে বাধা দেয় সয়াবিন।বার্লি এটা প্রমানিত যে, বার্লি কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। এতে আছে বিটা গ্লকন যা এক প্রকার দ্রবণীয় ফাইবার। এটি কোলেস্টেরল ও অন্ত্রের চর্বি দূর করে। শরীর থেকে মেদ অপসারণ করে দূর করে কোলেস্টেরল।সবজি, ফলমূলসবুজ পাতা ও ডাঁটাসুদ্ধ সবজি, যেমন বিভিন্ন ধরনের শাক এবং খোসাসহ ফলমূলে (যেমন: পেয়ারা, আপেল) রয়েছে অন্ত্রের চর্বি শোষণ কমানোর উপাদান। প্রতিদিন এ ধরনের খাবার আপনার রক্তে এলডিএলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও