প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক , আপনার সম্পর্কে কিছু জানতে পারি? আপনি ছেলে না মেয়ে? কতদিন ধরে আপনার এই সমস্যা হচ্ছে ? অন্যকোন উপসর্গ আছে ? অনেক মানুষেরই হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হয় । বিশেষ করে রাতে বিছানায় গেলে সমস্যা বেশি দেখা যায়, এমনকি শীতের রাতে হাত ও পা কম্বল বা লেপের ভেতরে রাখতে পারেন না বাইরে রাখতে হয়। এই রোগটি ৩৫-৪০ উর্ধে লোক বিশেষ করে মহিলাদের বেশি হয়ে থাকে আবার গর্ভাবস্থায়ও অনেকের হাত-পা জ্বালা পোড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে গরমকালে অনেকেরই হাত-পা জ্বালা পোড়ার প্রবণতাটি অনেকাংশে বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে এর প্রকোপতা এত বেশি হয় যে হাত ও পায়ের পাতা দুটি যেন মরিচ লাগার মতো জ্বলে, কখনও সুঁই ফোটার মতো বিঁধে ঝিম ঝিম করে বা অবশও লাগে। এ এক বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাকর অনুভূতি। নানা কারণে এমনকি মানসিক বিপর্যয়েও হতে পারে এই জ্বালা- পোড়ার যন্ত্রণা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাত ও পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলেই এমনটা ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি। অনেক কারণে শরীরে বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হতে পারে। যেমন- * স্নায়ুজনিত কারণ- আক্রান্ত অংশের স্নায়ুর ওপর চাপ লেগে থাকলে; * হরমোনজনিত কারণে- মহিলাদের মেনোপোজ-পরবর্তী সময়ে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে তখন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে; * ডায়াবেটিসজনিত কারণে- যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না এসব রোগীর পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি দেখা যায়; * ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে- কিছু কিছু ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যেমন- থায়ামিন, পাইরিডক্সিন, সাইনোকোবালসিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি ইত্যাদির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হতে পারে। * হাত-পায়ে ছত্রাক সংক্রমণ * হাত-পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা * অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপেও হাত-পা জ্বালা পোড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। * আবার সাধারণত অনেক সময় দেখা যায় যে, পানি কম পান করলে শরীর কষে যায় এবং এতে হাত-পা ও শরীরে জ্বালা-পোড়ার প্রবণতাটাও বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে করণীয় :- জ্বালা- পোড়া হঠাৎ শুরু হয়ে খারাপের দিকেই যাচ্ছে বা এর সঙ্গে হাত-পায়ের আঙ্গুল বা পায়ের পাতায় অনুভূতি কমে যাচ্ছে, অবশ মনে হচ্ছে ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে অবহেলা করবেন না আপনার হাত ও পায়ের স্নায়ু ঠিক আছে কিনা তা বুঝার জন্য অনেক সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন নেই। চিকিৎসক একটি আলপিন বা একটি টিউনিং ফর্ক ব্যবহার করেই পায়ের অনুভূতিগুলো যাচাই করে নিতে পারবেন। * যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাত-পায়ের যত্ন নিতে শিখুন। বিশেষ করে পায়ের যত্ন। * যাদের হাত বা পায়ের স্নায়ু সমস্যা আছে, তারা পায়ের যেকোন ক্ষতের দ্রুত চিকিৎসা করুন। পায়ে গরম সেঁক নিতে, নখ কাটতে এবং জুতা বাছাই করতে সাবধান হোন। * হাত পায়ের সমস্যার জন্য সব সময় যে ভিটামিনের অভাবই দায়ী, তা নয়। তাই সব ধরনের সমস্যায় ভিটামিন বি খেয়ে উপকার নাও পেতে পারেন। * দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন। * নিউরোপ্যাথি আছে প্রমাণিত হলে স্নায়ুর যন্ত্রণা লাঘব করে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলো সেবন করতে পারেন। * সাধারণত যারা পানি কম পান করেন তাদের উচিত বেশি পরিমাণে পানি পান করা এবং মিনারেল জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। এতে করে হাত-পা ও শরীর জ্বালা-পোড়া অনেক অংশে কমে যাবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও